২২তম আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসঃ উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বাংলাদেশের আদিবাসী জনগণ

বিশেষ ডেস্ক রিপোর্টঃ ৯ আগস্ট বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘ ঘোষিত ২২তম আদিবাসী দিবস উদযাপিত হবে। বিশ্বের ৯০টি দেশের প্রায় ৪০ কোটির অধিক আদিবাসী জনগণের মতো বাংলাদেশে বসবাসকারী ৩০ লক্ষাধিক আদিবাসী জনগণ এবারও জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস জাতীয়ভাবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত ২০১৬ সালের আদিবাসী দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় “Indigenous Peoples’ Right to Education.” এই মূলসুরের সাথে সঙ্গতি রেখে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম এ বছরের প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারণ করেছে, “আদিবাসীদের শিক্ষা, ভূমি ও জীবনের অধিকার।
13879230_1804502143115443_6993133406435716542_n
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত আদিবাসীরা আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদযাপনে নানান অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম ৬ আগষ্ট শনিবার ঢাকাস্থ হোটেল সুন্দরবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। এর মাধ্যমে ২০১৬ সালের আদিবাসী দিবসের বিভিন্ন আয়োজনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। দেশব্যাপী আদিবাসী সংগঠনসমূহ ছাড়াও নাগরিক সমাজ, বিভিন্ন এনজিও, মানবাধিকার সংগঠন আদিবাসী দিবস পালনে ব্যাপক কর্মসূচী হাতে নিযেছে। ৯আগষ্ট মঙ্গলবার বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের উদ্যোগে রাজধানী ঢাকায় জাতীয় পর্যায়ে দিবসটি উদযাপন করা হবে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দিবসটির অনুষ্ঠানমালার শুভ উদ্বোধন করবেন মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল। প্রধান অথিতি হিসেবে উপস্থিত থাবেন বাংলাদেশ সরকারের বেসমারিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি। আদিবাসী ফোরামের সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন।
aaa
উল্লেখ্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ১৯৯৪ সালে রেজুলেশন ৪৯/২১৪ গ্রহণ করে ৯ আগস্টকে আদিবাসী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে এবং তা পালনের জন্য সদস্য রাষ্ট্রসমূহকে আহ্বান জানায়। তারপর থেকে বিগত ২২ বছরে বৈশ্বিক পর্যায়ে অনেক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। তম্মধ্যে ২০০০ সালে জাতিসংঘে আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরাম গঠন, ২০০১ সাল থেকে আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক স্পেশাল র‌্যাপোটিয়ার নিয়োগ, ২০০৫-২০১৪ সালের সময়কালকে দ্বিতীয় আদিবাসী দশক হিসেবে পালন, ২০০৭ সালে আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের ঘোষণাপত্র গ্রহণ, ২০০৭ সালে আদিবাসী অধিকার সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ কর্মব্যবস্থা প্রণয়ন, ২০১৪ সালে সাধারণ পরিষদের বিশ্ব আদিবাসী সম্মেলন আয়োজন এবং এ সম্মেলনে ঐতিহাসিক ‘আউটকাম ডকুমেন্ট’ গ্রহণ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযাগ্য। আদিবাসী দিবস উদযাপনের মূল লক্ষ্য হলো- আদিবাসীদের জীবনধারা, মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার, আদিবাসী জাতিসমূহের ভাষা ও সংস্কৃতি তথা আত্ম-নিয়ন্ত্রণাধিকার সম্পর্কে সদস্য রাষ্ট্র, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, নাগরিক সমাজ, মিডিয়া, সংখ্যাগরিষ্ঠ অ-আদিবাসী জনগণ ও সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন করে তোলা এবং আদিবাসীদের অধিকারের প্রতি সমর্থন বৃদ্ধি করা।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *