আদিবাসী রাজনীতির ধারাঃ ঈশানী চক্রবর্তী

শুরুতেই বলে নেয়া ভাল যে, আদিবাসী রাজনীতি বলতে একক কোন রাজনীতিকে বোঝায় না। এতে যেমন জাতি- গোষ্ঠীগত ভেদ আছে, তেমনি আছে মাত্রা ও প্রকৃতিগত ভিন্নতা। তবে আদিবাসী রাজনীতি কিন্তু ভিন্নতা সত্ত্বেও সাধারণভাবে একটা অর্থ বহন করে। যে অর্থ মূলতঃ শোষণ, নিপীড়ন, বঞ্চনা ও বৈষম্যের ঐতিহাসিক ও বর্তমান অভিজ্ঞতা এবং তার বিপরীতে নিজেদের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য আদিবাসীদের লড়াই, সংগ্রামের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে। ভারতীয় উপমহাদেশে ঔপনিবেশিক শাসনামল বা তারও আগে থেকে চলে আসা আধিপত্যকামী শক্তির আগ্রাসন ও বৈরীতার বিপরীতে দাঁড়িয়ে আদিবাসী রাজনীতি পরিচালিত হয়েছে আদিবাসী সমস্যা/প্রশ্নকে গুরুত্ববহ করতে ও বঞ্চনা, বৈষম্যের অবসান ঘটাতে। এভাবে তৈরী হয়েছে এক ধরণের পক্ষ-প্রতিপক্ষের রাজনীতি, যার একদিকে রয়েছে অধিপতিশীল জনগোষ্ঠী ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানসমূহ (যেমন রাষ্ট্র) ও তাদের আধিপত্য এবং অন্যদিকে রয়েছে আদিবাসী রাজনীতি ও তাদের অব্যাহত লড়াই। বর্তমান বাংলাদেশের আদিবাসী রাজনীতিও এই ধারাবাহিকতারই ফসল।

আধিপত্যের রাজনীতির সেকাল-একাল
আধিপত্যকামী, আগ্রাসী শক্তিকে মোকাবেলা করার ঐতিহ্য এদেশের আদিবাসীদের পুরানো। ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যাবে- দূর অতীতে, আর্যদের আগমনেরও বহু আগে, প্রাক-আর্য ভারতীয় সমাজ ও সভ্যতার প্রধান কারিগর ছিল এখানকার অষ্ট্রিক ও দ্রাবিড় নরগোষ্ঠীর অনার্য মানুষেরা। আর্যদের আগমন পর্বে যে আর্য-অনার্য, সুরাসুরের দ্বন্দ্বের কথা শোনা যায় তা মূলতঃ প্রাচীন আদিম জনগোষ্ঠী ও সমাজ ধারার সাথে বহিরাগত আগ্রাসী শক্তির দ্বন্দ্বের প্রকাশ। বৈদিক আর্যদের প্রতিপক্ষ বা এসময়ের প্রতিবাদী শক্তি হিসাবে যাদেরকে পাওয়া যায়, আর্য সাহিত্যে তাদেরকে দৈত্য, দানব, অসুর, পিশাচ, দস্যু, দাস ইত্যাদি মর্যাদাহানিকর নানা আখ্যায় ভূষিত করা হয়েছে। স্পষ্টতঃই অনুপ্রবেশ ও পরিচয় বিকৃতি তথা উপস্থাপনার রাজনীতি তখনও ছিল। তবে, সেসময়ে পক্ষ-প্রতিপক্ষের নানা সংঘাতের পাশাপাশি সম্মিলনও ঘটেছে, যার মধ্য দিয়েই এ-অঞ্চলের আবহমান সমাজ ও সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। এসময় নিষাদ, শবর, কোল,ভীল, পুলিন্দ কিরাত প্রভৃতি অনার্য, অন্তবর্ণজাত মানুষের উল্লেখও পাওয়া যায়। ধারণা করা হয়, বর্তমানের সাঁওতাল, কোল, ভীল, মুন্ডাসহ আদিবাসীদের কেউ কেউ এদেরই উত্তরসূরী, যারা প্রাক-আর্য জীবনধারা ও রীতির অনুসারী, যদিও সময়ের পরিক্রমায় এবং অব্যাহত সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মুখে তা অনেকাংশেই পরিবর্তিত হয়েছে। আর্যরা বার বার অনার্যদের পরাজিত করে ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে, আর এই আগ্রাসনের মুখে অনার্য, আদিবাসীরা ক্রমে ক্রমে অরণ্য, পাহাড় প্রভৃতি দুর্গম এলাকায় সরে যেতে থাকে। পরবর্তীকালে রাজবংশভিত্তিক শাসনের সূত্রপাতে বিভিন্ন রাজা-বাদশাহদের সময়ে শক্তিশালী বিভিন্ন উপজাতি জনগোষ্ঠীর মোকাবেলার কথা জানা যায়। কাজেই আগ্রাসী শক্তিকে মোকাবেলার আদিবাসী ইতিহাস পুরানো একথা বলার অপেক্ষা রাখেনা।
ঔপনিবেশিক শাসনামলে আদিবাসীরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বৈরীতা ও বৈষম্যের মুখোমুখি হয়। এ সময়ই ভারতীয় উপমহাদেশে আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার পত্তন ঘটে, যে রাষ্ট্র গঠিত ও পরিচালিত হয়েছিল ব্রিটিশদের দ্বারা, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক স্বার্থ তথা শাসন-শোষণ সুরক্ষা করতে। এসময় শাসকবর্গের মূল লক্ষ্য ছিল এদেশে তাদের সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক স্বার্থ নিশ্চিত করা, বিশেষতঃ ভূমি-রাজস্বের পরিমাণ বাড়ানো। সে লক্ষ্যে নিত্য-নতুন জায়গায় চলে ঔপনিবেশিক আগ্রাসন; প্রবর্তিত হয় খাজনা প্রথা; আমদানী করা হয় নানাবিধ কালা-কানুন, দণ্ডবিধি, বিচার-ব্যবস্থা, বন ও বন-বিধি, ভূমি অধিগ্রহণ ইত্যাদির ধারণা। ক্রমে ক্রমে আদিবাসী অধ্যুষিত সমতলভূমি, বন, পাহাড় ইত্যাদি এলাকাতেও নতুন বিধি-ব্যবস্থার প্রবর্তন হয়। আদিবাসী জীবনে এর প্রভাব ছিল বিধ্বংসী ও সুদূরপ্রসারী। এসব আরোপিত রাষ্ট্রীয় বিধি-বিধান ও শাসন কায়েমের মাধ্যমে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কৌম, যুথবদ্ধ জীবন-যাপনে আঘাত আসে, যার মধ্যে রয়েছে ভূ-সম্পত্তিতে আদিবাসীদের যৌথ/সামাজিক মালিকানার বিপরীতে সম্পত্তিতে ব্যক্তিগত মালিকানার ধারণার প্রবর্তন ও খাজনা ব্যবস্থার প্রচলন; বিনিময় প্রথাভিত্তিক অর্থনীতির বিপরীতে মুদ্রা-অর্থনীতির প্রবর্তন, মাত্রাতিরিক্ত করের বোঝা, প্রতারণা, বেগারী খাটানো, নারীর প্রতি সহিংসতা ইত্যাদি। জমিদার-মহাজন আর ঔপনিবেশিক শাষকবর্গের বহুমুখী শোষণের চাপে ভূমি, পাহাড়, অরণ্যের উপর অধিকার সংকুচিত হতে থাকায় আদিবাসীরা ক্রমশঃ প্রান্ত থেকে প্রান্তবর্তী এলাকায় আশ্রয় নিতে থাকে; একাংশ পরিণত হয় বাজারী অর্থনীতির সস্তা শ্রমদাসে- রেল লাইন, চা-বাগান ইত্যাদিতে কুলী হিসাবে যোগদানের মাধ্যমে। তবে ঔপনিবেশিক শাসনের অভিঘাত সব আদিবাসী এলাকায় একইভাবে পড়েছিল এমনটা নয়; বিধি-বিধান ও শাসনের ধরণে ভিন্নতাও ছিল স’ানভেদে। নিজেদের শাসনের বৈধতা দেয়ার জন্য এদেরকে আদিম, অসভ্য, বর্বর, জংলী ইত্যাদি আখ্যা দিয়ে এসব দরিদ্র, দুর্ভাগা মানুষদের সভ্যতার আলো দেখানোর স্বআরোপিত ‘মহান’ ঔপনিবেশিক দায়িত্ব অনুভব করে ঔপনিবেশিক শাসকরা । নামকরণের রাজনীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ ঘটে: ১৯৩১ সালের আদমশুমারিতে এদেরকে ‘আদিম অধিবাসী’ বলে উল্লেখ করা হয়; ১৯৩৫ সালে ভারতীয় ধারাতে এরা চিহ্নিত হয় ‘পিছিয়ে পড়া উপজাতি’ হিসাবে; আর ১৯৪১ সালের আদমশুমারিতে এদেরকে ‘উপজাতি’ আখ্যা দিয়ে পৃথকভাবে সংখ্যা গণনা করা হয়। যাহোক, মোটাদাগে এ সময়ের রাষ্ট্রীয় আচরণের ধরণ বুঝতে অসুবিধা হয়না, কারণ তা ছিল সরাসরি কোনরকম রাখঢাক ছাড়াই শাসকবর্গের প্রয়োজন- কেন্দ্রিক। শাসিত কে হয় তা মেনে নিতে হতো, অথবা প্রতিকারের চেষ্টা চালাতে হতো প্রতিরোধ বা বিদ্রোহের মাধ্যমে।
ফলে ঔপনিবেশিক শাসনের প্রতিক্রিয়ায় মধ্য-আঠারো শতক থেকে শুরু করে গোটা উনিশ ও বিশ শতক জুড়ে বিভিন্ন সময়ে ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থানে আদিবাসীদের প্রতিবাদী চেতনার স্ফূরণ ঘটেছে নানা আন্দোলন, বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো: চোয়াড় বিদ্রোহ (১৭৬৬- ১৭৮৩), চাকমা বিদ্রোহ (১৭৭৬-১৭৮৭), গারো বিদ্রোহ (১৮৩৭-১৮৮২), নাগা বিদ্রোহ (১৮৩১, ১৮৩৮-৪৯), সাঁওতাল বিদ্রোহ (১৮৫৫-৫৬), কুকি বিদ্রোহ (১৮৪৪-১৮৯০), মুন্ডা বিদ্রোহ (১৮২০, ১৯১৫-১৯২০,১৯৩৯), বাস্তার বিদ্রোহ (১৯১০), রাম্পা বিদ্রোহ (১৯১০), ভীল বিদ্রোহ (১৯২১-২২, ১৯৪২), নাগা বিদ্রোহ (১৯৩০-৩২), হাজং বিদ্রোহ (১৯৩৭-৪৫), তেভাগা আন্দোলন (১৯৪৬-৪৭), নাচোল বিদ্রোহ (১৯৫০) ইত্যাদি। এসব বিদ্রোহ মোকাবেলায় দমননীতির পাশাপাশি সময়ে-সময়ে সরকারকে কিছু ‘রক্ষামূলক ব্যবস্থা’ ও নিতে হয়েছে: এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ১৯১৭ সালের ‘ভূমি হস্তান্তর আইন’, যে আইনানুযায়ী গভর্ণরের এজেন্টের বিনা অনুমতিতে আদিবাসী জমি হস্তান্তর নিষিদ্ধ হয়; ১৯১৮ সালে বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ত্ব আইনের কিছু সংশোধন করা হয় বাংলার সমতলের আদিবাসীদের স্বার্থরক্ষার জন্য; ১৯১৯ ও ১৯৩৫ এর ভারত শাসন আইনে আদিবাসী অধ্যুষিত ‘পিছিয়ে পড়া অঞ্চল’ সম্বন্ধে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত স্থান পায়। পিতৃতান্ত্রিক এসব দয়া-দাক্ষিণ্য যথেষ্ট না হলেও আদিবাসী বিদ্রোহের ধারাবাহিকতার ফলেই এসব অর্জন সম্ভব হয়েছিল বলা চলে।
এ পর্যায়ে আদিবাসী বিদ্রোহের প্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় ভূমি ও ভূমি রাজস্ব কেন্দ্রিক ক্ষোভ ও অসন্তোষই ছিল মুখ্য কারণ। তবে বিদ্রোহগুলো সংঘটিত হয়েছিল জাতি-গোষ্ঠী ভিত্তিতে। কাজেই এতে শ্রেণীগত উপাদান যেমন উপস্থিত ছিল বলা যায়, তেমনি জাতিগত উপাদানও এখানে ছিল। আর এই রাজনীতি ছিল সরাসরি সরকার তথা রাষ্ট্রশক্তি ও তার এজেন্টদের বিরুদ্ধে। এতে স্বতঃস্ফূর্ততা যেমন ছিল, তেমনি সংঘটিত প্রয়াসও ছিল বিশেষতঃ দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকা বড় বিদ্রোহগুলোর ক্ষেত্রে। পরবর্তীকালে ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে আদিবাসীদের এসব বিদ্রোহসমূহ প্রেরণা যুগিয়েছিল। এক্ষেত্রে ১৮৫৫ এর সাঁওতাল বিদ্রোহের কথা অনায়াসেই উল্লেখ করা যায়।
ব্রিটিশ শাসন-উত্তর পাকিস্তান পর্বে পূর্ব-বাংলা পরিণত হলো শোষণের নতুন ক্ষেত্রে। সম্পদশালী আদিবাসী এলাকায় সরাসরি ও বৃহৎ আকারে রাষ্ট্রীয় অনুপ্রবেশ পূর্বেকার উদাহরণকেও হার মানালো। যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণ (১৯৫৭-৬২), যা রাতারাতি রাঙামাটির এক লক্ষ আদিবাসীকে বাস্তুহীন ও ভূমিহীনে পরিণত করলো, সেখানকার ৪০% কৃষিজমি জলমগ্ন হলো। কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী অন্যান্য বিধ্বংসী পরিণতি আমাদের জানা; পার্বত্য চট্টগ্রাম- কেন্দ্রিক আদিবাসী রাজনীতির র‌্যাডিক্যালাইজেশনের সূচনা এরই পরিণতিতে। যেহেতু পাকিস্তান রাষ্ট্রটি জন্মলগ্ন থেকেই একটি গোঁড়া, ধর্মবাদী, এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রের ধারণার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছিল, ফলে এখানে বহুত্ববাদীতার ধারণা ছিল অপাংক্তেয়। স্বভাবতঃই এখানে ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি, নৃতাত্ত্বিক ও জাতিগত বিভাজনকে অস্বীকার করা ও বলপূর্বক আত্তীকরণের প্রয়াস লক্ষ্য করা যায়; প্রচণ্ড দমন-পীড়নের মাধ্যমে ভিন্ন মত ও পথকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। এর প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া পূর্ববাংলার সর্বত্রই লক্ষ্যণীয়। উত্তরবঙ্গে তেভাগার দাবিতে সংঘটিত নাচোল আন্দোলনের পরবর্তীতে সে এলাকায় অভাবনীয় পুলিশী নির্যাতন-তাণ্ডব চলে দীর্ঘ সময় ধরে। যার ফলে আদিবাসী এলাকাগুলোতে পালান, গণহারে দেশত্যাগ, জেল-জুলুম-জরিমানা, ঘরবাড়ি ছেড়ে উদ্বাস্তু জীবন কাটানোর মতো ঘটনা ঘটতে থাকে। এরপরে দীর্ঘ সময় এ এলাকায় এক ধরণের ভয়ের নিরবতা কায়েম হয়।
এই শোষণ, বৈষম্য ও নিপীড়নের মৌলিক কোন পরিবর্তন হয়নি স্বাধীন বাংলাদেশে। আদিবাসী প্রশ্নে এসময়ে পূর্বের ধারাবাহিকতা যেমন বজায় থাকে তেমনি যুক্ত হয় নানাবিধ নতুন মাত্রা। বিস্তারিত আলোচনায় না যেয়ে সংক্ষেপে বলা যায়: আদিবাসীদের জাতিগত, সামাজিক, সাংস্কৃতিক অস্তিত্বের সংকট এখন সেসময়ের তুলনায় অধিকতর ঘনীভূত। তাদের বন, জমি, ভাষা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ধর্ম, সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকারসমূহ নিয়ে প্রবঞ্চনা অব্যাহত। সংখ্যাগুরুর প্রবল দাপটে রাষ্ট্র ও রাজনীতির উত্তোরত্তর সাম্প্রদায়িকীকরণের মাধ্যমে সংখ্যালঘুর উপর নিপীড়ন ও বঞ্চনার প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ ঘটেছে; আর সংখ্যালঘুর এই সংকট আদিবাসীদের ক্ষেত্রে জাতিগত ও ধর্মগত সংখ্যালঘুতার রূপ নিয়ে প্রবলতর হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে রাজনৈতিক অভিসন্ধিপূর্ণ বাঙালি অভিবাসন প্রক্রিয়া নিজভূমে পাহাড়ীদের পরবাসীতে পরিণত করার প্রচেষ্টা চালিয়েছে এবং চলছে। বিধি-নিষেধের নিত্য-নতুন আইন-কানুন ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে। শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে টাল-বাহানা ও দীর্ঘসূত্রীতার কথাও জানা। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের সাথে সাথে অধিপতিশীল, সংখ্যাগুরুর নিপীড়ন, জুলুম, জমি দখল-জবর দখল, উৎখাত, হত্যা, নারী নির্যাতন, ভয়-ভীতি, হুমকী, মিথ্যা মামলা, জেল-জরিমানা-শাস্তি ইত্যাদি স্বাধীন বাংলাদেশে উত্তরবঙ্গের আদিবাসী জনপদগুলিতে দৈনন্দিন ঘটনায় পরিণত হয়েছে। দেশব্যাপী সর্বক্ষেত্রেই প্রবলের বিপরীতে দুর্বলের অভিযোগে প্রশাসনিক অসহযোগীতা, অস্বীকারের সংস্কৃতি আদিবাসীদের অভিযোগ, দুর্ভোগ ধামাচাপা দেবার উপায় হিসাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। জাতিরাষ্ট্র গঠন প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান আমলের মতোই এক্রক্লুশনারী নীতি অনুসৃত হয়েছে। আদিবাসীদের জাতিগত স্বীকৃতি তো মেলেইনি, উপরন্তু ঔপনিবেশিক আমল বা তারও আগে থেকে চলে আসা পরিচয় ও নামকরণের রাজনীতি এক নতুন মাত্রা লাভ করেছে বর্তমান সময়ে: অস্বীকৃতির রাজনীতি থেকে উত্তরণ/(অবতরণ?) ঘটেছে অবমাননার রাজনীতিতে ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ইত্যাদি অদ্ভূতুরে, অবৈজ্ঞানিক, আরোপিত নামকরণের মাধ্যমে। পুঁজিবাদী শোষণ আর সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়নের অব্যাহত আগ্রাসন দেশের নিম্নবিত্ত, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি আদিবাসীদের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্বকে প্রবল হুমকীর মুখে ঠেলে দিয়েছে; অথচ নিজেদের শ্রেণী স্বার্থে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলো এ ব্যাপারে নিস্ক্রিয়।
সব মিলিয়ে বৈরীতার রাজনীতির পূর্বের ধারাবাহিকতা অব্যাহত। বস’তঃ ঔপনিবেশিক সময়ে যা করা হতো অধিকতর ভূমি-রাজস্ব আদায়ের প্রণোদনায় সরাসরি অর্থনৈতিক শোষণের উদ্দেশ্যে, বর্তমান সময়ে সেই শোষণ ও অব্যাহত রাখা হয়েছে উন্নয়ন, বনায়ন, প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষা ইত্যাদি ইতিবাচক শব্দাবলীর মোড়কে। উপরন্তু যুক্ত হয়েছে সাম্প্রদায়িক/ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, পরিচয় অস্বীকারের রাজনীতির নতুন কলা-কৌশল।

আদিবাসী রাজনীতির সমকাল
অব্যাহত আধিপত্যকামী রাজনীতির বিপরীতে আদিবাসী রাজনীতির বর্তমান ধারা-প্রকৃতি কি? ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণ ছাড়া যদিও এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করা কঠিন, তবে সাধারণভাবে বলা যায় বাংলাদেশে বর্তমানে আদিবাসী রাজনীতির কয়েকটি ধারা রয়েছে: ১. জাতিগত অধিকারের আন্দোলন ২. আদিবাসী স্বীকৃতির প্রশ্নে আন্দোলন ৩. ভূমি অধিকার তথা জল-জমি-জঙ্গলের অধিকারের আন্দোলন।
বলার অপেক্ষা রাখেনা, জাতিগত অধিকারের আন্দোলনটি অদ্যাবধি পার্বত্য-চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক। ‘পাহাড়ী জাতির’ স্বায়ত্তশাসনের দাবির ভিত্তিতে এই আন্দোলন গড়ে উঠেছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির নেতৃত্বে ১৯৭০ এর দশকে, যা একইসাথে রাজনৈতিক ও সশস্ত্র (যদিও এটিও রাজনৈতিক) এই দুই ধারায় পরিচালিত হয়। এই আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট এই যে, এর জাতীয়তাবাদী চেতনাটি বা রাজনৈতিক মতাদর্শটি প্রতিষ্ঠিত ছিল মার্কসবাদী-লেনিনবাদী বাম মতাদর্শের ভিত্তিতে, কিন্তু এর সশস্ত্র আন্দোলনটি পরিচালিত হয়েছিল মাওবাদী গেরিলা ধারার অনুসারে। এখানে জাতিগত অধিকারের প্রশ্নের পাশাপাশি শ্রেণী শোষণের প্রশ্নকেও গুরুত্ব দেয়া হয়েছিল এবং রাষ্ট্রীয় শাসন-শোষণের পাশাপাশি পাহাড়ী সমাজের সামন্ততান্ত্রিক বিধি-ব্যবস্থ, শ্রেণী বৈষম্যেরও বিরোধীতা করা হয়েছিল। যদিও অস্তিত্বের প্রশ্নে জাতিগত অধিকারের বিষয়টি অগ্রাধিকার বিবেচিত হয়। বর্তমানে শান্তিচুক্তি উত্তরকালীন চুক্তি বাস্তবায়নের সংগ্রাম এখনো পর্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের পথেই পরিচালিত হচ্ছে। র‌্যাডিক্যাল বামধারা থেকে এটা কি লিবারেল বামধারা বা লিবারেল গণতন্ত্রের অভিমুখে যাত্রা কিনা তা অধিকতর অনুসন্ধান সাপেক্ষ। এখানে এও উল্লেখ্য যে, পাহাড়ী জাতিগত সংগ্রাম এখন নানা মত ও ধারায় বিভক্ত। এছাড়াও রয়েছে স্বার্থান্বেষী নানা গ্রুপ, সরকারী মদদ-পুষ্ট গোষ্ঠী ইত্যাদি। শাসকগোষ্ঠীর ষড়যন্ত্রের কারণে চুক্তি-পূর্বকালের প্রধানতঃ একক নেতৃত্বাধীন ঐক্যবদ্ধ পাহাড়ী আন্দোলনের ধারাটি যথেষ্ট ক্ষতির সম্মুখীন।
আদিবাসী রাজনীতির দ্বিতীয় ধারাটি আদিবাসী হিসাবে স্বীকৃতির প্রশ্নের সাথে জড়িত। একে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বাংলাদেশের আদিবাসীদের আন্দোলন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আদিবাসী আন্দোলনের সাথে যুক্ত বা সেই পটভূমিতেই বিকশিত। বিশ শতকের শেষার্ধে এশিয়া, আফ্রিকায় অনুপবিশেকীকরণ, জাতিসংঘের মানবাধিকার ঘোষণাপত্র, আমেরিকার সিভিল-রাইটস মুভমেন্ট ইত্যাদি ঘটনার পটভূমিতে মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকাসহ বিভিন্ন স্থানে ইন্ডিজিনাস মুভমেন্ট গড়ে ওঠে, যা অন্যত্রও ক্রমে ছড়িয়ে পড়ে। এরই আলোকে বাংলাদেশে আদিবাসী আন্দোলন দানা বাঁধে নব্বই এর দশকের গোড়ার দিক থেকে। নব্বই এ স্বৈরাচারী সরকারের পতনে দেশের অভ্যন্তরে কিছুট গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি বিকাশের সুযোগ তৈরী হলে আর আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আদিবাসী বর্ষ (১৯৯৩) ঘোষণা দেয়া হলে এ সময় বাংলাদেশের আদিবাসীদের আদিবাসী হিসেবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সুযোগ তৈরী হয়। এরপর জাতিসংঘ কর্তৃক ৯ আগষ্টকে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস ঘোষণা (১৯৯৫) এবং ১৯৯৫-২০০৪ সালকে আন্তর্জাতিক বিশ্ব আদিবাসী দশক ঘোষণা বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আদিবাসী অধিকার ও অস্তিত্বের প্রশ্নকে গুরুত্বের সাথে সামনে নিয়ে আসায় বাংলাদেশেও আদিবাসী আন্দোলন বিশেষতঃ আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি জোরদার হতে থাকে। তবে মনে রাখা দরকার এই আন্দোলনের উদ্যোক্তারা ছিলেন প্রধানতঃ আদিবাসী শিক্ষিত, ‘সুশীল’ সমাজের অংশ। ১৯৯৭ সালে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পরে পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র আন্দোলনের অবসানে আদিবাসী ‘সুশীল’ সমাজের একাংশ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে যোগসূত্রের সুযোগ তৈরী হয় বৃহত্তর আদিবাসী ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে। ফলশ্রুতিতে ২০০১ সালে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের সকল অঞ্চলের আদিবাসীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন হিসাবে। এরপর থেকে সংগঠনটি আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, ভূমি অধিকার, মানবাধিকার ইত্যাদি ইস্যুতে সীমিত প্রতিবাদ, সমাবেশ, জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক অনুষ্ঠানে যোগদান ইত্যাদি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কিং এর পাশাপাশি নিষ্ঠার সাথে আদিবাসী দিবস,শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর দিবস ইত্যাদি দিবস উদযাপন করে আসছে। পনের বছরে এর কর্মপরিধি তেমন বেড়েছে বলা যায় না, বা আদিবাসী অধিকার ও স্বীকৃতি আদায়ে তেমন বড় কোন অর্জন আসেনি। আদিবাসীদের মধ্যে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ব্যাপক না হলেও কিছু অগ্রগতি হয়েছে; নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে যোগাযোগ সীমিত আকারে বেড়েছে। বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত আদিবাসীদের উপর নির্যাতন, সহিংসতা, ভূমি দখল, নারী নির্যাতন ইত্যাদি ঘটনায় আদিবাসী ফোরাম প্রতিকার, প্রতিরোধ বা আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ ইত্যাদিতে তাৎক্ষণিক কর্মসূচী গ্রহণ করার মধ্যে নিজেদেরকে সীমাবদ্ধ রেখেছে। আদিবাসী ফোরাম সংগ্রামের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। সম্ভবতঃ বিভিন্ন স্থানে শাখা সংগঠন গড়ে তুলতে না পারাটা এর একটা কারণ হতে পারে। তাছাড়া প্রধানতঃ ঢাকা শহরকেন্দ্রিক এবং ‘সুশীল’ সমাজকেন্দ্রিক বলে এক ধরণের প্রকৃতিগত সীমাবদ্ধতা সংগঠনটির রয়েছে।
আদিবাসী রাজনীতির তৃতীয় ধারাটি ভূমি অধিকার ভিত্তিক, যা কোন স্থান-কাল বা গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভূমি ব্যবস্থা পরিবর্তনের আন্দোলনের সাথে আদিবাসী মানুষদের যুক্ততা ঔপনিবেশিক আমল থেকেই চলে আসছে, যা ইতোপূর্বে কিছুটা উল্লেখ হয়েছে। বর্তমানে ভূমি কেন্দ্রিক আন্দোলনের ধরণ মূলতঃ ভূমি, নদী, পাহাড়, অরণ্যের উপর অধিকার বজায় রাখা বা পুনরুদ্ধারের লড়াই। উত্তরবঙ্গ, সিলেট, ময়মনসিংহ থেকে শুরু করে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত সব স্থানের আদিবাসী আন্দোলন-সংগ্রামের কেন্দ্রীয় বিষয় অদ্যাবধি ভূমির অধিকার প্রতিষ্ঠা। স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে সম্পদের উপর জনসংখ্যা বৃদ্ধির অব্যাহত চাপ যেমন আদিবাসী জমিতে বাঙালি আগ্রাসন বেগবান করেছে, তেমনি রাজনৈতিক, প্রশাসনিক দুর্বৃত্তায়ন ও রাষ্ট্রের বৈরী আচরণ আদিবাসীর ভূমি হারানোর প্রক্রিয়ায় ইন্ধন যুগিয়েছে। জাল দলির, শত্রু সম্পত্তি আইন, বনবিভাগের অনুপ্রবেশ, সংরক্ষিত বনায়ন প্রকল্প, ইকো-পার্ক নির্মাণ, খাস জমি প্রকল্প ইত্যাদি নানা বাহানায় আদিবাসী ভূমি দখল, জবর-দখল, উচ্ছেদ প্রক্রিয়া সর্বত্র অব্যাহত রয়েছে। এসবের বিরুদ্ধে আদিবাসীরা বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন স্থানে সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ করছেন। এসব আন্দোলনের ফলাফলে সাফল্য-ব্যর্থতা থাকলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই যে, ভূমি প্রশ্ন সবসময়ই, সব এলাকাতেই আদিবাসী রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রীয় বিষয় এবং যা নিয়ে সংগ্রাম অব্যাহত।
আলোচিত এসব সুনির্দিষ্ট ধারার বাইরেও বিভিন্ন সময়ে আদিবাসী বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত ঘটনা-ভিত্তিক প্রতিবাদ, প্রতিরোধ আন্দোলন হয়ে আসছে। তবে এসব আন্দোলন প্রধানতঃ স্থানিক ও সময়-কেন্দ্রিক। এখানে উল্লেখ্য যে, ভাষা ও সংস্কৃতির রক্ষার দাবি বিশেষতঃ মাতৃভাষায় শিক্ষার দাবি বিভিন্ন সময়ে আদিবাসী বিভিন্ন আন্দোলনে উত্থাপিত হলেও, এই ইস্যুতে স্বতন্ত্র কোন আন্দোলন এখনও এখানে গড়ে ওঠেনি, যেমনটি লক্ষ্য করা যায় ভারতে। এ সংক্রান্ত দাবি-দাওয়া উত্থাপনে এখনো অবধি এনজিওদের তৎপরতাই প্রধান। সবশেষে, আদিবাসী রাজনীতির সাম্প্রতিক গতিধারা পর্যালোচনায় আরেকটি লক্ষ্যণীয় বিষয় এই যে, বাংলাদেশের আদিবাসী রাজনীতির প্রধান ধারাটি পার্বত্য চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক। এক্ষেত্রে দেশের অন্যান্য আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলোর অর্থাৎ উত্তর ও উত্তরপূর্বাঞ্চলে আদিবাসীদের রাজনৈতিক তৎপরতা নেহাতই সীমিত, যদিও ঐতিহাসিকভাবে এদের রয়েছে সুদীর্ঘ সংগ্রামী ঐতিহ্য। এসব এলাকায় আঞ্চলিক পর্যায়ে ঘটনা ভিত্তিক প্রতিবাদ, প্রতিরোধ ইত্যাদি হলেও জাতীয় পর্যায়ে তার ছাপ খুব বেশি পড়েনি, বা তেমনভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। জাতীয় আদিবাসী পরিষদ উত্তরবঙ্গের আদিবাসীদের প্রধান প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন, যা নব্বই এর দশক থেকে সক্রিয় রয়েছে এবং বিভিন্ন ঘটনা ও ইস্যুতে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ করে আসলেও এদের আন্দোলন, সংগ্রামে আশানুরূপ গতিশীলতা লক্ষ্য করা যায় না বিশেষতঃ জাতীয় পর্যায়ের বিবেচনায়। টাঙ্গাইল, বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলে তেমনভাবে কোন সাংগঠনিক বিকাশই নেই। এসব এলাকায় ভূমি দখল, নারী নির্যাতন, বনায়ন প্রকল্প, ইকোপার্ক বিরোধী আন্দোলন ইত্যাদি ঘটনা ও ইস্যুভিত্তিক বিচ্ছিন্ন প্রতিবাদ, প্রতিরোধ হলেও ধারাবাহিক কোন আন্দোলন গড়ে ওঠেনি। এর জন্য নানা কারণ দায়ী যা স্বতন্ত্র আলোচনা ও মনোযোগের দাবিদার।
ঈশানী চক্রবর্তী, শিক্ষক, ইতিহাস বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *