থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইংলাকের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড

দায়িত্বে অবহেলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলেন থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রা। সর্বোচ্চ আদালত এই অপরাধে তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। মাসখানেক আগে সিনাওয়াত্রা দেশ ছেড়ে যাওয়ায় তার অনুপস্থিতেই রায় ঘোষণা করা হয়। এই রায়ে দেশজুড়ে বিক্ষোভের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গত মাসের শেষ সপ্তাহে চালের ভর্তুকি সংক্রান্ত কর্মসূচি নিয়ে অবহেলা করার অভিযোগে থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার কথা ছিল। তবে নির্ধারতি দিনে আদালতে হাজির হওয়ার কথা থাকলেও উপস্থিত হননি ইংলাক। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর আইনজীবী আদালতকে বলেন, তার মক্কেল কানের সমস্যায় ভুগছেন। পরে আজকের দিনটিকে (২৭ সেপ্টেম্বর) রায় ঘোষণার নতুন তারিখ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

বুধবার থাইল্যান্ডের সুপ্রিম কোর্টে সিনাওয়াত্রার অনুপস্থিতিতেই তিন ঘণ্টা শুনানির পর ৯ জন বিচারক এই রায় দেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, সিনাওয়াত্রার বিচার শেষে আদালতের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দিয়েছেন বিচারকেরা। বিবৃতিতে তারা বলেছেন, ‘চাল সংক্রান্ত সেই চুক্তিটি যে বেআইনি ছিল, সে ব্যাপারে ইংলাক অবগত ছিলেন। তারপরও এটি থামাতে কোনও পদক্ষেপ নেননি তিনি।’ আদালতের পক্ষ থেকে একে দায়িত্বে অবহেলা আখ্যা দিয়ে ইংলাকের ৫ বছরের সাজা ঘোষণা করা হয়।

কৃষকদের আয় বাড়াতে এবং গ্রাম্য দারিদ্র্য কমাতে ২০১১ সালে ক্ষমতাগ্রহণের পর পরই চাল ভর্তুকি স্কিম ঘোষণা করে ইংলাক সরকার। সেই ভর্তুকি স্কিমের আওতায় কৃষকের কাছ থেকে বৈশ্বিক বাজার মূল্যের চেয়ে বেশি দামে চাল ক্রয় করে সরকার। ইংলাকের এ নীতি ২০১১ সালের সাধারণ নির্বাচনে তাকে ক্ষমতায় আসতে ব্যাপক সহায়তা করে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়,ওই ভর্তুকি স্কিমের কারণে ইংলাক সরকার সেসময় ৮০০ কোটি ডলার অর্থ লোকসান করে। সরকারের কাছে অনেক চালের মজুদ থেকে যায় এবং দাম বেশি হওয়ার কারণে সেগুলো বিক্রিও করা যাচ্ছিল না। এই স্কিম নিয়ে ইংলাক দায়িত্বে অবহেলা করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

তবে ইংলাকের দাবি, তিনি অন্যায় কিছু করেননি। তার দাবি, ওই ভর্তুকি স্কিমের কাজ প্রতিদিন দেখাশোনা করাটা তার দায়িত্ব ছিল না। নিজেকে রাজনৈতিক প্রহসনের শিকার বলেও দাবি করেন ইংলাক। তার দল পিয়া থাই পার্টির সিনিয়র নেতারা দাবি করেন, গত সপ্তাহেই সিঙ্গাপুর হয়ে দুবাই পাড়ি জমিয়েছেন ইংলাক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, ‘আমরা শুনেছিলাম তিনি কম্বোডিয়া গিয়েছেন। সেখানে থেকে সিঙ্গাপুর হয়ে দুবাইয়ে তার ভাইয়ের কাছে যান তিনি।’ বার্তা সংস্থা রয়টার্সও ইংলাক তার বড় ভাই থাকসিন সিনাওয়াত্রার সঙ্গে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানায়।

দেশটির পুলিশ উপপ্রধান জেনারেল শ্রিভারা র‌্যাংসিব্রাহ্মণকুল গতকাল বলেছেন, তার দেশত্যাগের ব্যাপারে পুলিশের কাছে কোনও রেকর্ড নেই। তবে দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ওচা জানান যে তিনি সিনাওয়াত্রার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে অবহিত। সিনাওয়াত্রা লুকিয়ে আছেন। তবে তিনি কোথায় লুকিয়ে আছেনতা নিয়ে মন্তব্য করেননি ওচা।

নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের মধ্যে সিনাওয়াত্রার সমর্থন প্রবল। তৃণমূলে তার গ্রহণযোগ্যতা এখনও তুঙ্গে। তাকে সাজা দেওয়ার ঘটনায় তার লাখ লাখ সমর্থক বিক্ষোভ করতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *