বরকলে মাসিক আইন শৃঙ্খলা সভা ও উন্নয়ন সমন্বয় সভা বর্জনঃ ভাইস চেয়ারম্যান ও চার ইউপি চেয়ারম্যান

রাঙ্গামাটির বরকল উপজেলায় গত বৃহষ্পতিবার উপজেলা প্রশাসনের মাসিক আইন শৃঙ্খলা সভা ও উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন সমন্বয় সভা বর্জন করেছে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও চার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। অবৈধ ও বেআইনী ভাবে নির্বাচিত হওয়া ভুষণছড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ মামুনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যানদ্বয় ও চার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা এসব সভা বর্জন করেন।
জানা যায়, গত কয়েক মাসে সুবলং, বরকল সদর, আইমাছড়া ও বড়হরিণা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা তিনবার ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যানরা দুবার মাসিক আইন শৃঃখলা সভা ও মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভা বর্জন করেছেন বলে জানিয়েছেন।
সুবলং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তরুন জ্যোতি চাকমা ও বড়হরিণা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নিলাময় চাকমা বরকল সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কমলেন্দু বিকাশ চাকমা ও আইমাছড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অমর কুমার চাকমা জানান, গত ২০১৬ সালের ৪জুন উপজেলার ভূষণছড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মামুনুর রশিদ মামুন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে ছোটহরিণা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র দখল করে। ভোট দিতে আসা ভোটারদের মারধোর করে তাড়িয়ে দেয়। ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে নিজের মার্কায় ইচ্ছে মত সীল মেরে নিজেকে চেয়ারম্যান হিসাবে জয়যুক্ত করে। মামুনুর রশিদ মামুনের অবৈধ ও বেআইনী ভাবে চেয়ারম্যান হওয়ার বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে।
তার প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী দিলিপ কুমার চাকমা নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেন। তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন চট্টগ্রাম অঞ্চলের আঞ্চলিক কর্মকর্তা মোঃ আবদুল বাতেন কে নিয়ে এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে সরেজমিনে তদন্ত করে নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুল বাতেন। তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত রির্পোট দাখিল না করার আগে মামুনুর রশিদ মামুনের পক্ষে নির্বাচন কমিশন তাড়াহুড়ো করে গেজেট প্রকাশ করে। যা সেই গেজেট সম্পন্ন অবৈধ ও বেআইনী বলে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের অভিযোগ।
ইউপি চেয়ারম্যানরা আরো বলেন, ভুষণছড়া ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান ও ১২জন সদস্য রয়েছে। তার মধ্যে ৭জন নির্বাচিত সদস্য মামুনুর রশিদ মামুনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে শপথ গ্রহন করেননি। চেয়ারম্যানদের অভিযোগ ইউনিয়ন পরিষদ আইনের ২৯ নং ধারার (২)নং উপ ধারায় চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নাম গেজেট প্রকাশের তারিখ হইতে পরবর্তী ৩০ কার্য দিবসের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম সভা করতে হবে। সেই সভার তারিখ হইতে ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচ বছরের মেয়াদ গননা করা হবে। কিন্তু সভা করতে পারেননি। এছাড়াও (৪)নং উপ ধারায় উল্লেখ রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষে নির্বাচনের পর উহার তিন– চতুর্থাংশ সদস্য শপথ গ্রহন করিলে ইউনিয়নটি যথাযথ ভাবে গঠিত হইয়াছে বলিয়া গন্য হইবে। কিন্তু ওই ইউনিয়ন পরিষদে ১২ জন সদস্যর মধ্যে ৭ জন সদস্য শপথ গ্রহন না করায় পরিষদটি অর্কাযকর পরিষদে পরিণত হয়েছে। ফলে ইউনিয়ন পরিষদের বিধানাবলী সাপেক্ষে মামুনুর রশিদ মামুনের চেয়ারম্যান পদটি আইন সংগত নয়। তাই অবৈধ ও বেআইনী ভাবে নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধির সাথে বসে উপজেলার আইন শৃঃখলা, উন্নয়ন সমন্বয় সভা সহ সকল সভা করা সম্ভব নয় বলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা জানান।
উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিধান চাকমা জানান, ইউনিয়ন পরিষদ আইনের ২৯ নং ধারার (৪) উপ ধারার উল্লেখ রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষে নির্বাচনের পর উহার তিন- চতুর্থাংশ সদস্য গ্রহন না করিলে ইউনিয়নটি যথাযথ ভাবে গঠিত হইয়াছে বলিয়া গন্য হইবে। কিন্তু ৭জন সদস্য শপথ গ্রহন না করায় সেই উপধারাটি যেমনি পরিপুরন হয়নি তেমনি ইউনিয়নটি অর্কাযকর পরিষদে পরিনত হয়েছে। অপর দিকে ছোটহরিনা কেন্দ্রেটি নিয়ে অভিযোগ হয়েছে নির্বাচন কমিশনে। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন চট্টগ্রাম অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ আবদুল বাতেন কে সরেজমিনে তদন্ত করার দায়িত্ব দেয়। তদন্তের পরে তদন্ত রির্পোট দাখিল না করার আগে তদন্ত রির্পোটে কি আছে তা না দেখে নির্বাচন কমিশন কেন তাড়াহুড়ো করে মামুনুর রশিদ মামুনের নামে গেজেট প্রকাশ করেছে। অথচ তদন্ত কর্মকর্তা ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না দেয়া। বহিরাগত সন্ত্রাসী দিয়ে কেন্দ্র দখল করে হামলা। ব্যালট পেপারে অবৈধ সীল মেরে ব্যালট বাক্সে ঢুকানো। প্রকৃত উপস্থিত ভোটারের চেয়ে প্রদত্ত ভোটারের সংখ্যা বেশী বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। এছাড়াও ছোটহরিণা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের ঘোষিত ফলাফল বাতিল করে উক্ত কেন্দ্রে পুনরায় ভোট গ্রহন করা সহ নির্বাচনে দায়িত্ব প্রাপ্ত রির্টানিং অফিসার ও ছোটহরিণা কেন্দ্রে দায়িত্বরত প্রিসাইডিং অফিসারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ আবদুল বাতেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তদন্ত প্রতিবেদনের কোন সুপারিশ আমলে না নিয়ে সম্পুর্ন বেআইনী ও অবৈধ ভাবে পক্ষ অবলম্বন করে একতরফা ভাবে গেজেট প্রকাশ করে মামুনুর রশিদ মামুন কে চেয়ারম্যান হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুসারে ছোটহরিণা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পুনরায় নির্বাচন দেয়ার দাবী জানান উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিধান চাকমা।
এ ব্যাপারে ভুষণছড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, তিনি আইনগত ভাবে গেজেট ভুক্ত নির্বাচিত বৈধ চেয়ারম্যান। তাকে অবৈধ চেয়ারম্যান বলার কোন সুযোগ নেই। যেসব চেয়ারম্যান আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন তারা প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে করছেন। যেহেতু তারা সবাই জেএসএস এর সমর্থিত চেয়ারম্যান।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজিয়া পারভীন ইউপি চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানরা সভা বর্জনের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বর্তমানে উপজেলার আইন শৃঃখলার সভা উন্নয়ন সমন্বয় সভা সহ অন্যান্য সভা করা ও সিদ্ধান্ত নেয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে। আমি এ ব্যাপারে মৌখিক ও লিখিত ভাবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এখনো কোন নির্দেশনা আসেনি।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *