খাগড়াছড়িতে শিক্ষক নিয়োগ বাতিলের দাবিতে শিক্ষামন্ত্রী বরাবর ছাত্রসমাজের স্মারকলিপি

খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের বিতর্কিত শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ-মিছিল ও শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেছে সম্মিলিত ছাত্রসমাজ।

সম্মিলিত ছাত্রসমাজের প্রতিনিধি সুদর্শী চাকমার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বার্তায় বলা হয়, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের বিতর্কিত শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলটি খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্ত্বর এলাকা থেকে শুরু হয়। পরে বিক্ষোভ মিছিল আকারে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় অভিমূখে যাওয়ার চেষ্টা করলে ভাঙা ব্রিজ এলাকায় পুলিশ বাধা দেয়। তবে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে একটি প্রতিনিধি দলটি ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক এটিএম কাউছার হোসেনের মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হয়।

প্রেস বার্তায় জোটের নেতৃবৃন্দরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ঘুষ নিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে অদক্ষ শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে একটি মেধাহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এই কার্যকলাপের সাথে স্পস্টতঃ জেলা পরিষদের অনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যরা জড়িত রয়েছেন। অবাক হওয়ার বিষয় হল খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখনো কোমলমতি শিশুদের খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করতে হয়। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীরা শিক্ষার নানান সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে রয়েছে ঝড়ে পড়ার সম্ভাবনা। অথচ জেলা পরিষদের অনির্বাচিতরা মানসম্মত শিক্ষার বুলি ছুঁড়ে নিয়োগ মেকানিজম তৈরি করে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ দিতে খেটে-খাওয়া, গরীবদের বাধ্য করছে।

প্রেস বার্তায় আরো দাবী করা হয়, অনির্বাচিতদের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু রাখার কারণে চাকুরি প্রদানের সময় মেধা ও যোগ্যতাকে চাকুরি পাওয়ার মানদন্ড হিসেবে না দেখে বাণিজ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনির্বাচিত হওয়ার দরুণ জেলা পরিষদের কর্মকর্তারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ নয় এবং কোন প্রকার জবাবদিহিতা ছাড়াই তাদের বিতর্কিত কার্যকলাপ সংঘটিত করে চলেছে। দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। তদন্তের ক্ষেত্রেও প্রশাসনের গাফিলতি ও কচ্ছপ গতির তৎপরতা পরিলক্ষিত।

প্রেস বার্তায় সম্মিলিত ছাত্রসমাজ পুলিশের অগণতান্ত্রিক বাধা দেয়ায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। সেগুলো হল অবিলম্বে জেলা পরিষদের সকল দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ পূর্বক বিতর্কিত প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল,পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক সংকট নিরসন, বাস সার্ভিস চালুসহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সকল বিষয়ে ডিগ্রি, অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু, লংগদুতে অগ্নিসংযোগে ও রাঙামাটিতে পাহাড় ধ্বসে ক্ষতিগ্রস্থ ছাত্র-ছাত্রীদের যাবতীয় ফি মওকুপ ও জেলা পরিষদের শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি রোধকল্পে একটি শক্তিশালী নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *