পিসিপি ঢাকা মহানগর শাখার কাউন্সিল সম্পন্ন

১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ইং “আর নয় কালক্ষেপন, অস্তিত্বের শেকড়ে পড়েছে টান, লড়াই হবে মরণপণ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির মুনীর চৌধুরী মিলনায়তন কক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, ঢাকা মহানগর শাখার উদ্যোগে ২৫ তম কাউন্সিল ও ছাত্র সম্মেলন সম্পন্ন হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, ঢাকা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক নিপণ ত্রিপুরার সঞ্চালনায় এবং সভাপতি ক্যারিংটন চাকমার সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির তথ্য ও প্রচার বিভাগের সদস্য শ্রী দীপায়ন খীসা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি ছাত্রনেতা অন্তিক চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভানেত্রী শ্রীমতি চঞ্চনা চাকমা, বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি উইলিয়াম নকরেক এবং বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি ছাত্রনেতা তুহিন কান্তি দাশ প্রমুখ।
জাতীয় সংগীত এবং দলীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া ছাত্র সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, ঢাকা মহানগর শাখার তথ্য ও প্রচার সম্পাদক অমর শান্তি চাকমা, সাংগঠনিক ও অর্থ রিপোর্ট পেশ করেন সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক তনক তঞ্চঙ্গ্যা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি তুহিন কান্তি দাশ বলেন, স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরেও বাংলাদেশের আদিবাসী জনগণ নিজ দেশে পরবাসী হয়ে জীবনযাপন করছে। তিনি জুম্ম জাতীয়তাবারে অগ্রদূত মহান নেতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ৭৮তম জন্মবার্ষিকীতে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বলেন, এমএন লারমা কেবলমাত্র পার্বত্য চট্টগ্রামের নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ের কথা বলেননি, তিনি সারা দেশের খেতে খাওয়া, দিন মজুর, শ্রমিকের ন্যায্য অধিকারের কথা বলেছেন। তিনি নবগঠিত কমিটির প্রতি অগ্রীম শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সকলপ্রকার ন্যায়সংগত আন্দোলনের সাথে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি উইলিয়াম নকরেক্ বলেন, বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রে আদিবাসী জনগোষ্ঠী প্রতিনিয়ত নির্যাতন, নিপীড়নের মধ্যে দিয়ে দিনাতিপাত করছে। সাম্প্রতিক সময়ে মৌলভীবাজার জেলার নাহার খাসি পুঞ্জি, মধুপুরে ভূমি বেদখল প্রভৃতি ঘটনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ভূমিপুত্রদেরকে নিজ ভূমি থেকে অবৈধভাবে উচ্ছেদ করার মধ্যে দিয়ে শাসক গোষ্ঠা এদেশ থেকে আদিবাসীদেরকে বিতাড়িত করার ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে । তিনি এ সমস্থ ষড়যন্ত্র রুঁখে দেওয়ার জন্য তথাপি ন্যায্য অধিকার আদায়ে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদেরও লড়াই সংগ্রামে সমানভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
পার্বত্য চট্টগ্রাম হিল উইমেন্স এর সভাপতি শ্রীমতি চঞ্চনা চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগোষ্ঠীর আত্মনিয়ন্ত্রনাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন সংগ্রামে জুম্ম নারীদেরকে সামিল হতে হবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। এজন্য নারীদের প্রতি সবার হীনমন্যতা দূর করা প্রয়োজন। তিনি যেকোন সহিংসতার বিরুদ্ধে যুবসমাজের সুসংগঠিত হয়ে প্রতিরোধ করার বিকল্প নেই বলেও উল্লেখ করেন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ , কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ছাত্রনেতা অন্তিক চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান বান্তবতা বলে দেয় যে, জুম্ম জনগোষ্ঠীর অস্তিত্বের শেকড়ে টান পড়েছে। সেই টানকে যদি স্তব্ধ করে দিতে হয় তাহলে লড়াই সংগ্রামের বিকল্প নেই। তিনি সবাইকে সামনের আন্দোলন সংগ্রামে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করার জন্যও আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রী দিপায়ন খীসা বলেন, আজকের যে ২৫তম কাউন্সিল ও ছাত্র সম্মেলন এটা কেবল একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া যার মধ্যে দিয়ে ভবিষ্যতে জুম্ম জনগোষ্ঠীর নতুন নেতৃত্ব উঠে আসবে। একজন দক্ষ, পরিশ্রমী কর্মীই পারবে ভবিষ্যত প্রজন্মকে নেতৃত্ব দিতে। তিনি বলেন, জুম্ম জনগণ সরকারের প্রতি আস্থা রেখে ১৯৯৭ সালে ২রা ডিসেম্বর ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে উপনীত হয়েছিল। কিন্তু চুক্তির ২০ বছর অতিক্রান্ত হতে চললেও চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলোর অবাস্তবায়ন সরকারের চুক্তি বাস্তবায়নে অনিচ্ছা এবং অসদিচ্ছাকে প্রমাণ করে বলে উল্লেখ করেন। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির চলমান আন্দোলনের সাথে একাত্ম থেকে আন্দোলনকে আরো বেগবান করার জন্য ছাত্র সমাজের প্রতি আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে ক্যারিংটন চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান বাস্তবতা মোটেই ভালো নেই। লুংগুদু পুড়ছে, সাজেক চিম্বুকে ভূমি বেদখল করা হচ্ছে, সুজাতা-তুমাচিং ধর্ষিত হচ্ছে সেটেলার বাঙ্গালী দ্বারা । এমতাবস্থায়, জুম্ম জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার নিমিত্তে সময় কালক্ষেপণ না করে মরণপণ লড়াইয়ে প্রস্তত হওয়ার জন্য ছাত্র যুব সমাজের প্রতি আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যের আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ছাত্রনেতা রিন্টু চাকমা প্রস্তাবিত কমিটির নাম ঘোষণা করে সবার মতামতের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেন এবং শপথবাক্য পাঠ করান। পরিশেষে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, ঢাকা মহানগর শাখার ২৫ তম কাউন্সিল ও ছাত্র সম্মেলনের মাধ্যমে ক্যারিংটন চাকমাকে সভাপতি, নিপণ ত্রিপুরাকে সাধারণ সম্পাদক এবং লালন চাকমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মনোনয়ন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, ঢাকা মহানগর শাখার কমিটি ঘোষণা করা হয়।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *