ঢাকা বৌদ্ধ মন্দিরগুলোতে নিরাপত্তা বৃদ্ধি

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে বসবাসরত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা হুমকি পাচ্ছেন বলে অভিযোগ আসার পর ঢাকার বৌদ্ধ মন্দিরগুলোতে নিরাপত্তা বাড়িয়েছে পুলিশ।
বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অশোক বড়ুয়া সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ঢাকার মেরুল বাড্ডা, বাসবো, উত্তরা ১৬ নম্বর সেক্টর, নর্দা, মিরপুর এবং আশুলিয়ার বৌদ্ধ মন্দিরে ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জে একটি বৌদ্ধ মন্দিরেও পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আপাতত আমরা বড় ধরনের কোনো আশঙ্কা করছি না।”
বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারে গত ২৪ অগাস্ট পুলিশ পোস্ট ও সেনা ক্যাম্পে হামলার পর থেকে রোহিঙ্গা মুসলমানদের গ্রামগুলোতে নতুন করে সেনা অভিযান চলছে। নির্যাতনের শিকার হয়ে ভিটেমাটি ছেড়ে রোহিঙ্গারা পালিয়ে আসছে বাংলাদেশে; এ পর্যন্ত প্রায় চার লাখ শরণার্থী সীমান্ত পেরিয়ে কক্সবাজারে প্রবেশ করেছে।

এদিকে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সঙ্কটকে কেন্দ্র করে একটি ‘স্বার্থান্বেষী’ মহল বাংলাদেশে বসবাসরত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ‘বিচ্ছিন্নভাবে’ হুমকি দিচ্ছে বলে গত ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় এক সমাবেশে অভিযোগ করা হয়।
সম্মিলিত বৌদ্ধ সমাজের ব্যানারে ওই সংবাদ সম্মেলনে অশোক বড়ুয়া বলেন, “ফেইসবুকসহ সোশাল মিডিয়াগুলোতে উসকানিমূলক প্রচারণার মাধ্যমে মিয়ানমার পরিস্থিতির অকারণ দায়ভার এ দেশের শান্তিপ্রিয় নিরীহ বৌদ্ধদের উপর চাপিয়ে তাদের উপর প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে চাইছে।”
ধর্মাবমাননার অভিযোগ তুলে কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ পল্লীতে হামলার ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সমাবেশে উপস্থিত বৌদ্ধ নেতারা বলেন, ক্রমাগত হুমকির মুখে তারা ‘শঙ্কা ও নিরাপত্তাহীনতায়’ ভুগছেন।
রোহিঙ্গা সঙ্কটের প্রেক্ষাপটে বেনাপোল সীমান্তে এক বৌদ্ধ ভিক্ষুকে দিয়ে জোর করে বক্তব্য নিয়ে ভিডিও করার অভিযোগে বৃহস্পতিবার তিন যুবককে আটকও করেছে পুলিশ।
শুক্রবার ঢাকার মেরুল বাড্ডা ও বাসাবো বৌদ্ধ মন্দিরে গিয়ে অতিরিক্ত পুলিশি প্রহরা দেখা যায়। এর মধ্যে মেরুল বাড্ডার আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের দুই দিকে ডিআইটি প্রোজেক্টের ৯ ও ১০ নম্বর সড়কে পুলিশ ব্যারিকেড বসিয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে পুলিশি পাহরা। মন্দিরের পাশেই রাখা হয়েছে পুলিশের সাঁজোয়া যান।
বাড্ডার এই বৌদ্ধ মন্দিরে সারা বছর ২ জন পুলিশ ও একজন আনসার সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকলেও এখন একজন এসআইয়ের নেতৃত্বে ২২ জন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত আছেন বলে বাড্ডা থানার এএসআই মাসুদ রানা জানান। বাসাবোর ধর্মরাজিক বৌদ্ধ বিহারের নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে জানিয়ে সেখানে দায়িত্বে থাকা সবুজবাগ থানার এসআই মো. আবুল হাসান বলেন, “১২ জন পুলিশ সদস্য সব সময় এখানে দায়িত্বে আছেন।” আগে একজন এএসআইয়ের নেতেৃত্ব এই নিরাপত্তা দেওয়া হলেও এখন একজন এসআই সার্বক্ষণিক বাসাবো বৌদ্ধ মন্দিরের সামনে থাকছেন।
“পুলিশ সদস্যরা আগে মন্দিরের গেইটের ভেতরে বসে থাকত। এখন গেইটের বাইরে বসেই দায়িত্ব পালন করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে,” বলেন এসআই হাসান।
বাসাবো বৌদ্ধ মন্দিরের সামনে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য শফিকুল ইসলাম জানান, এই বিহারে একটি অনাথ আশ্রমে সাড়ে তিনশ শিক্ষার্থী থাকে। এছাড়া একটি ছাত্রাবাসে থাকে দুই শতাধিক বৌদ্ধ শিক্ষার্থী, যারা ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ে।
বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই বিহারের গেইট খুলে দেওয়া হয় জানিয়ে শফিকুল বলেন, “এ সময় বৌদ্ধ ধর্মের অনেক মানুষ এখানে প্রার্থনা করতে আসেন।”
পুলিশের পাশাপাশি ছয়জন আনসার সদস্য এখন এই বিহারে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন বলে জানান শফিকুল।
বুড্ডিস্ট ফেডারেশনের অশোক বড়ুয়া জানান, মেরুল বাড্ডার বৌদ্ধ মন্দিরে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর সেখানে আক্রমণ হতে পারে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়লে নির্মাণ শ্রমিকরা ভয়ে কাজ ফেলে পালিয়ে যায়।
“পরে ঠিকাদার শ্রমিকদের বুঝিয়ে ফেরত নিয়ে এসেছেন। স্থানীয় জনগণ আমাদের যথেষ্ট সহযোগিতা করছে। আপাতত বড় কোনো হুমকি আমরা দেখছি না।”

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *