রুপার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ

চলন্ত বাসে ‘ধর্ষণের পর’ হত্যার শিকার জাকিয়া সুলতানা রূপার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য কবর থেকে তোলার অনুমতি দিয়েছে আদালত।

পরিবারের আবেদনে টাঙ্গাইলের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জেলা প্রশাসক খাঁন মো. নুরুল আমিন বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন বলে আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান।

তিনি বলেন, রূপার ভাই হাফিজুর রহমান তার বোনের লাশ তোলার জন্য জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু এটি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ারে বলে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোনো আদেশ দেননি।

পরে হাফিজুর মধুপুর থানায় আবেদন করলে থানার পক্ষ থেকে পরিদর্শক (তদন্ত) কাইয়ুম সিদ্দিকী জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করেন এবং জেলা প্রশাসক লাশ তোলার অনুমতি দেন।

ছোঁয়া পরিবহনের একটি বাসে করে গত ২৫ অগাস্ট রাতে সিরাজগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে বাসের কর্মচারীরা রূপাকে পালাক্রমে ধর্ষণের পর ঘাড় মটকে হত্যা করে রাস্তার পাশে লাশ ফেলে যায়।

টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের পাশে মধুপুর উপজেলার পঁচিশ মাইল এলাকায় ওই তরুণীর লাশ পাওয়ার পর হত্যার আলামত থাকায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে মধুপুর পুলিশ।

কিন্তু পরিচয় জানতে না পারায় ময়নাতদন্ত শেষে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থানে বেওয়ারিশ হিসেবে তাকে দাফন করা হয়।

গণমাধ্যমে লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে মধুপুর থানায় গিয়ে ছবি দেখে রূপাকে শনাক্ত করে তার পরিবার। পরে রূপার বড় ভাই হাফিজুর রহমান ছোঁয়া পরিবহনের শ্রমিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

রূপার বাড়ি সিরাজগঞ্জের তাড়াশে। ঢাকার আইডিয়াল ল কলেজে পড়ালেখা করার পাশাপাশি একটি কোম্পানির প্রোমশনাল ডিভিশনে কাজ করছিলেন তিনি। তার কর্মস্থল ছিল ময়মনসিংহ জেলা সদরে।

বগুড়ায় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর ময়মনসিংহে ফেরার পথে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হন ওই তরুণী।

এ ঘটনায় ওই বাসের চালক, সুপারভাইজার, সহকারীসহ ৫ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তারা সবাই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ছোঁয়া পরিবহনের চালক হাবিবুর রহমান, সুপারভাইজার সফর আলী এবং চালকের তিন সহকারী শামীম, আকরাম ও জাহাঙ্গীর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *