আদিবাসীদের প্রতি বৈষম্য রোধে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান চিত্রনায়ক ফেরদৌসের

আদিবাসীদের প্রতি বৈষম্য রোধে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস।

‘শান্তির পথে সংঘাত রোধে/ জেগে ওঠো তারুণ্য জ্ঞানে আর বোধে’ প্রতিপাদ্যে আদিবাসীদের মানবাধিকার রক্ষার সচেতনতা কর্মসূচি উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, “এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য তরুণদের জাগ্রত করা। তরুণরা এগিয়ে আসলে আদিবাসীরা আরও এগিয়ে যাবে। তাদের প্রতি বৈষম্য কমবে।”

দেশের আদিবাসীদের বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের আহ্বানের পাশাপাশি তাদের সম-অধিকার ও সম-সুযোগ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস।

তিনি আরও বলেন, “আমি যখন শ্যুটিংয়ের জন্য বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি, সেখানে দেখেছি- তারা কতোটা অমানবিক জীবনযাপন করে। অনেক সুযোগ সুবিধা থেকেই বঞ্চিত।

“আমরা যাতে তাদের মানুষ হিসেবে দেখি। সাধারণত দেখা যায়, তাদেরকে দেখলে আমরা একটু অন্যভাবে তাকাই। সেটা যাতে না হয়, যাতে সমতা রক্ষা হয়।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, ফিল্ম ও ফটোগ্রাফি বিভাগ এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনপডিপি) যৌথ আয়োজনের ওই কর্মসূচিতে শুভেচ্ছা দূত হিসাবে বক্তব্য দেন নায়ক ফেরদৌস।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে টেলিভিশন, ফিল্ম ও ফটোগ্রাফি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপারসন অধ্যাপক এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া বলেন, “সরকারিভাবে তাদেরকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীই বলা হয়ে থাকে। যদিও তাদের অনেকে আদিবাসী বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। সরকারিভাবে যেভাবে স্বীকৃত আমরাও সেভাবে রেখেছি।”

সচেতনতা কর্মসূচির আওতায় আগামী কয়েকমাসের বিভিন্ন আয়োজনের বিস্তারিত সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন ওই বিভাগের শিক্ষক ও আয়োজনের টিম লিডার এস এম ইমরান হোসেন।

তিনি জানান, প্রথম পর্যায়ে ‘ইনক্লুশন অফ ইয়ুথ অ্যান্ড মাইনরিটিজি ফর পিস’ শিরোনামে দিনব্যাপী একটি সাস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

দ্বিতীয় পর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, ফিল্ম ও ফটোগ্রাফি বিভাগ থেকে মনোনীত ১২ শিক্ষার্থীকে নিয়ে তথ্যচিত্র নির্মাণ কর্মশালায় অংশ নেওয়ার কথা তুলে ধরেন তিনি।

“সেখানে নারী শিক্ষার্থী এবং আদিবাসী সদস্যদের জন্য অর্ধেক আসন সংরক্ষিত থাকবে। এর মধ্য দিয়ে তরুণ নির্মাতারা মানবাধিকার বিষয়ক তিনটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করবেন।”

পরবর্তী ধাপে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আলোকচিত্র এবং কার্টুন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান এমরান।

“এর সঙ্গে থাকবে নারীর প্রতি সব ধরনের সহিংসতা রোধকল্পে একটি সচেতনতামূলক প্রচারণা।”

আদিবাসীদের মানবাধিকার রক্ষার সচেতনতা কর্মসূচির টিম লিডার বলেন, “সবশেষে এই বছরের শেষ দিকে দুইদিনব্যাপী একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্পটি শেষ হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে ওই আয়োজনে তথ্যচিত্র, আলোকচিত্র এবং কার্টুন সর্বসাধারণের জন্য প্রদর্শন করা হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে ইউএনডিপির হিউম্যান রাইটস প্রোগ্রামের ন্যাশনাল প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর তাসলিমা ইসলাম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি এক্সপার্ট কাজী মোস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

বিকেলে টিএসসি প্রাঙ্গণে সাইকেল র‌্যালি, গণসাক্ষরতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে মাইম শো এবং সঙ্গীত এবং নৃত্য পরিবেশনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংগীত পরিবেশনা করে গারো ব্যান্ড রেরে এবং সাক্রামেন্ট। সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অন্যতম আকর্ষণ ছিল উত্তরবঙ্গের রাহালা রিমিল ড্যান্স গ্রুপ।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *