ভারতে গোপনীয়তা রক্ষা মৌলিক অধিকার

গোপনীয়তা রক্ষা ভারতের মৌলিক অধিকার হিসাবে স্বীকৃতি পেল। প্রধান বিচারপতির এস খেহরের নেতৃত্বে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের নয় সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ ‘রাইট টু প্রাইভেসি’ মানুষের অন্যান্য মৌলিক অধিকারগুলোর সমতুল্য বলে রায় দিয়েছেন। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার ক্ষেত্রে যদি কেউ অসুবিধায় পড়েন, তবে এখন থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবেন বলেও আদালত নির্দেশনা দিয়েছেন।

সম্প্রতি ভারতের আধার কার্ডে ব্যক্তিগত তথ্য সংযুক্ত করা এবং ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়া নিয়ে একাধিক মামলা হয়। সেই মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বাধ্যবাধকতা তৈরি। সে কারণেই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত হয় নয় বিচারপতিকে নিয়ে সাংবিধানিক বেঞ্চ।

দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে বিষয়টি নিয়ে শুনানি চলার পর আজ বৃহস্পতিবার ২৪ আগস্ট ভারতের সবোর্চ্চ আদালত এই রায় ঘোষণা করলেন।

এই রায় নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আর একে কাপুর বলেন, এটা ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদের মৌলিক অধিকারের কথা বলা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে এবার রাইট টু প্রাইভেসিও মৌলিক অধিকার হিসেবে যুক্ত হল।

আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দেশে আধার কার্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সরকার চাপ প্রয়োগ করে মানুষকে বাধ্য করছে ব্যক্তিগত তথ্য আধার কার্ডের সংযুক্ত করতে। আর ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে দেখা যাচ্ছে আধারের কার্ডের তথ্য বাইরে প্রকাশিত হয়ে যাচ্ছে, প্যান কার্ডের তথ্য প্রকাশ হয়ে পড়ছে। ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়ে গেলে আর কি থাকে।

দিল্লির সিনিয়র সাংবাদিক বিজেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এমন রায় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে যেমন জীবনের নিরাপত্তা ও ব্যক্তি স্বাধীনতাকে অধিকারকে মৌলিক অধিকার বলা হয়েছে ঠিক তেমনই এখন থেকে ‘রাইট টু প্রাইভেসি’ও মৌলিক অধিকার।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *