রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে আদিবাসীদের উপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চৈতন্যপুরে হামলার প্রতিবাদে ওঁরাও সম্প্রদায়ের লোকজন গতকাল বুধবার বিক্ষোভ করেছেন। পরে তাঁরা মানববন্ধন করতে মহাসড়কে যেতে চাইলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের অনুরোধ ও পুলিশের কারণে যেতে পারেননি।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, চৈতন্যপুর গ্রামে গত সোম ও মঙ্গলবারের হামলার প্রতিবাদে গতকাল বেলা ১১টার দিকে গ্রামের ওঁরাও সম্প্রদায়ের কয়েক শ নারী-পুরুষ বিভিন্ন স্লোগান লেখা ফেস্টুন হাতে গোদাগাড়ী-রাজশাহী মহাসড়কের দিকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আসেন।

এ ছাড়া ওই হামলার প্রতিবাদে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নবাবই বটতলা শাখার ব্যানারে মানববন্ধন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মহাসড়কে ওঠার আগেই ছয়ঘাটি এলাকায় দেওপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান তাঁদের সামনে হাতজোড় করে দাঁড়ান। চেয়ারম্যান শুক্রবার ওই এলাকায় কমিউনিটি পুলিশিংয়ের একটি বৈঠক করে তাঁদের নিরাপত্তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)হিপজুর আলম মুন্সী তিন দিনের মধ্যে হামলার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করার আশ্বাস দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা ফিরে যান।

গ্রামের রণজিৎ এক্কা বলেন, তাঁর একটি ছাগল গত সোমবারগ্রামের আলাউদ্দিনের বাগানের কাছে যায়। বাগানের ভেতরে না গেলেও আলাউদ্দিন ও তাঁর পরিবারের লোকজন এ নিয়ে তাঁদের গালাগাল করেন। একপর্যায়ে তাঁর, তাঁর মা জলমতি, স্ত্রী রাধারানি, বোন মহারানি মিনসের ওপর তাঁরা হামলা চালান। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগের কথা শুনে গত মঙ্গলবার বিকেলে তাঁরা আবার হামলা চালান। ওই দুদিনের হামলায় গ্রামের মুরব্বি মাদারি এক্কা, মা জলমতি, বোন মহারানি গোদাগাড়ীর প্রেমতলীউপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের অবস্থা খারাপ। তাঁর মায়ের জ্ঞানই ফেরেনি। মঙ্গলবার রাতে তাঁরা থানায় গিয়েছিলেন। তাঁরা যেন ফিরতে না পারেন, এ জন্য হামলাকারীরা রাস্তা ঘেরাও করেন। পরে পুলিশ তাঁদের গ্রামে পৌঁছে দেয়। ইউপি চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান বলেন, তিনি চেষ্টা করছেন উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি গড়ে তুলতে।

ইউপি সদস্য প্রদীপ এক্কা বলেন, গত এক বছরে গ্রামের আদিবাসী লোকজনের ওপর অন্তত ১৫টি হামলা হয়েছে। এ ছাড়া রাতে মেয়েদের ঘরের দরজায় ধাক্কাধাক্কি ও রাতে আদিবাসী লোকজনকে একা রাস্তায় পেলে মারধর করা হয়। এ ধরনের অত্যাচার চালছেই। ওসি হিপজুর আলম বলেন, এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে আলাউদ্দিন, তাঁর ভাই মতিয়ার, ছেলে আরিফ, হাবিবুর, তসলিমসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তথ্যসূত্রঃ প্রথম আলো

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *