বান্দরবানে জনসংহতি সমিতির সদস্যকে জোরপুর্বক তুলে নেওয়ার অভিযোগ

আজ ৩ জুলাই ২০১৭, দুপুর আনুমানিক ১২:০০ টার দিকে বান্দরবান পার্বত্য জেলাধীন রোয়াংছড়ি উপজেলার পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি’র রোয়াংছড়ি সদর ইউনিয়ন কমিটি’র সাংগঠনিক সম্পাদক রাঙ্গোলাল তঞ্চঙ্গ্যা (৪৭) পীং-ললিত মোহন তঞ্চঙ্গ্যা বান্দরবান জেলা সদরস্থ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন একটি সাজানো মামলায় হাজিরা দিতে আসেন। যথারীতি আদালতে হাজিরা দিয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার সময় দুপুর আনুমানিক ১২:৩০ টার দিকে বান্দরবান ডিসি অফিসের পশ্চিম দিক থেকে সাদা পোশাক পরিহিত গোয়েন্দা বিভাগের তিন জন লোক রাঙ্গোলাল তঞ্চঙ্গ্যাকে জোরপূর্বক আটক করে মোটর সাইকেলে তুলে নিয়ে যায়। কোথায় নিয়ে গেছে তা এখনও জানা যায়নি। রাঙ্গোলাল তঞ্চঙ্গ্যার বাড়ি রোয়াংছড়ি সদর ইউনিয়নের তাইছড়া পাড়া গ্রামে। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি বান্দরবান জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ক্যবামং মারমার সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির বান্দরবান জেলা কমিটি জনসংহতি সমিতি’র রোয়াংছড়ি সদর ইউনিয়ন কমিটি’র সাংগঠনিক সম্পাদক রাঙ্গোলাল তঞ্চঙ্গ্যাকে গোয়েন্দা বিভাগের লোকজন কর্তৃক এভাবে বেআইনী ও অন্যায়ভাবে আটক করে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

বলাবাহুল্য প্রশাসন বা গোয়েন্দা বিভাগের লোকজন দিয়ে আইন ও মানবাধিকারকে তোয়াক্কা না করে এভাবে জনসংহতি সমিতির সদস্যসহ নিরীহ মানুষকে আটক করে নিয়ে গিয়ে নিখোঁজ রাখার ঘটনা আইন-শৃঙ্খলা ও মানবাধিকার লংঘনকে যেমনি উস্কে দেবে, তেমনি পার্বত্য চট্টগ্রামের সামগ্রিক পরিস্থিতিকেও চরম নিরাপত্তাহীনতার দিকে ধাবিত করবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

উল্লেখ্য যে, গত ১২ জুন ২০১৭ সাল বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলা সদরের ওয়াগই পাড়ার বাসিন্দা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির রোয়াংছড়ি থানা শাখার ছাত্র ও যুব বিষয়ক সম্পাদক অনিল তঞ্চঙ্গ্যার (৩৫) বান্দরবানের ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে নিয়মিত হাজিরা প্রদান শেষ হলে কোর্ট বারান্দা থেকে বেলা ১:৩০ টার দিকে তিনজন গোয়েন্দা সদস্য তাকে ধরে বান্দরবান সদর জোনে নিয়ে যায়। জোনে সেনাসদস্যরা অনিল তঞ্চঙ্গ্যাকে অমানুষিকভাবে মারধর করেছিল এবং গুরুতর আহত অবস্থায় সেদিন বিকাল ৫:০০ টার দিকে বান্দরবান সদর থানায় সোপর্দ করেছিল। গতকাল (২ জুলাই ২০১৭) তিনি জজ কোর্ট থেকে জামিন লাভ করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি’র বান্দরবান জেলা কমিটি অনতিবিলম্বে গোয়েন্দা বিভাগের লোকজন কর্তৃক আটককৃত ও নিখোঁজ রাঙ্গোলাল তঞ্চঙ্গ্যাকে মুক্তির ব্যবস্থা এবং প্রশাসন বা গোয়েন্দা বিভাগের লোকজন দিয়ে এভাবে আইন ও মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছে।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *