অর্পিত সম্পত্তি নিয়ে সরকার ‘মুনাফেকি’ করছে: সুলতানা কামাল

অর্পিত সম্পত্তি নিয়ে সরকার মুনাফেকি করছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল।
গত রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন নিয়ে এক আলোচনায় সুলতানা কামাল এসব কথা বলেন। তিনি বলেছেন, ‘মুনাফেকির একটি সীমা আছে। এটা আপনাদের ভাবতে হবে।’
অর্পিত সম্পত্তি নিয়ে একটি গবেষণার ফল তুলে ধরতে অ্যাসোসিয়েশন অব ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সুলতানা কামাল আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার দায়িত্ব যাঁরা নিয়েছেন, তাঁরা বঙ্গবন্ধুর মূল আদর্শের কথা ভুলে গেছেন। সরকার কথায় কথায় উন্নয়নের দোহাই দিচ্ছে। কিন্তু পৃথিবীর অনেক দেশেরই উন্নয়ন হচ্ছে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় আদর্শের প্রধান ব্র্যান্ডিং ছিল অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ। সেই পথ থেকে সরে এসে শুধু উন্নয়নের দোহাই দিলে হবে না। বাংলাদেশ স্বাধীন করার পেছনে অনেক মানুষের, অনেক বংশের ভূমিকা ছিল।
অনুষ্ঠানে আইনজীবী রানা দাস গুপ্ত বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৬৩ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করেছিল। এর মধ্যে ২০ শতাংশ ছিল সংখ্যালঘুদের ভোট। স্বাধীনতার পর সেই সংখ্যালঘুদের সংখ্যা ৯ শতাংশে নেমে এসেছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশ আস্তে আস্তে সংখ্যালঘুশূন্য হয়ে যাবে। তিনি বলেন, হেফাজতকে সঙ্গে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাস্তবায়ন হয় না। সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা করা যায় না।
আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী বলেন, দেশে বেশির ভাগ অর্পিত সম্পত্তি ক্ষমতাবানেরা দখল করে নিয়েছে। যে কটি আছে তা আবারও গ্রাস করার জন্য নতুন তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এ ধরনের তালিকা নিয়ে এলে তা যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। অর্পিত সম্পত্তি আইনের নামে আমলাদের হাতে জনগণের পকেট কাটার ব্যবস্থা করা হচ্ছ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির বলেন, পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অর্পিত সম্পত্তি নিয়ে এ পর্যন্ত নাগরিক সমাজ যেসব সুপারিশ করেছে, তার ৭২ শতাংশ সরকার গ্রহণ করেনি। যতটুকু গ্রহণ করেছে, তার কোনোটারই বাস্তবায়ন করেনি। অন্যদিকে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য সরকার হেফাজত ও অর্পিত সম্পত্তি দখলকারীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। দেশে মন্দির ভাঙা হচ্ছে। সংখ্যালঘুদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে তারা দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে। আর এসব কিছু হচ্ছে বঙ্গবন্ধুকন্যার শাসনামলে।
মূল গবেষণা প্রতিবেদনে অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাত বলেন, অর্পিত সম্পত্তির মামলা বিলম্বের পেছনে ভূমি কার্যালয়গুলোর দুর্নীতি ও অদক্ষতা দায়ী। ভূমি কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাঠানোসহ অন্যান্য কাজে দুই লাখ মামলায় এ পর্যন্ত ২ হাজার ২৭০ কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছেন।
সভায় আরও বক্তব্য দেন সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সহসভাপতি তবারক হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা।

তথ্যসূত্রঃ প্রথম আলো

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *