টেকনাফে বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের ৩০০ বছরের পুরাকীর্তি প্যাগোডা হুমকির মুখে

টেকনাফের হ্নীলা উচ্চবিদ্যালয় ও পুরান বাজারসংলগ্ন জাদি পাহাড়ে হুমকির মুখে পড়েছে ৩০০ বছরের পুরাকীর্তি প্যাগোডা (জাদি)। এখানে গত দুই মাসে কমপক্ষে ৫০টি নতুন বসতঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের ৩০০ বছরের পুরাকীর্তি প্যাগোডা (জাদি)। পাহাড়ে তিনটি জাদি পাশাপাশি অবস্থানে রয়েছে।

এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুর দিকে হ্নীলা উচ্চবিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের জন্য পাহাড় কাটার ফলে হুমকিতে পড়ে জাদি। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পাহাড় কাটা বন্ধ করে এবং প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণের আশ্বাস দেয়।

উপজেলা ভূমি কার্যালয় সূত্র জানায়, হ্নীলা ইউনিয়নের বিএস এক নম্বর খাস খতিয়ানের ৫৪১৮ দাগে দুই দশমিক ৯৭ শতক জমির ওপর এ পাহাড়ে প্রাচীনতম তিনটি বৌদ্ধ জাদি (বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের প্যাগোডা) রয়েছে। স্থানীয়ভাবে এগুলো ‘চাতোপা জাদি’ নামে পরিচিত। এ পাহাড়ের মালিকানা জেলা প্রশাসনের।

হ্নীলার সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) জয়নাল আবেদীন বলেন, কিছুদিন আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার ভূমি ও টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সরেজমিনে জাদি পাহাড়ে বসবাসরত লোকজনকে নিজ নিজ উদ্যোগে ঘর-বাড়ির সরিয়ে নিতে মৌখিকভাবে নির্দেশ দিয়ে গেছেন। এ নির্দেশ অমান্য করলে তাঁদের বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখলের অভিযোগে মামলা করা হবে বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা এখনো রয়ে গেছেন। তিনি জানান, পাহাড়ে গত দুই মাসে কমপক্ষে ৫০টি বসতঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, জাদি পাহাড়ের চারপাশে দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশৈলীতে তৈরি তিনটি জাদি রয়েছে। প্রতিটি জাদির অবস্থান ২০ থেকে ৩০ ফুট দূরত্বে। এসব জাদির আশপাশে মাটি কেটে বাঁশ-গোলপাতা, শণ, টিনশেড ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন লোকজন। জাদিসংলগ্ন এলাকায় তৈরি করা হয়েছে অসংখ্য খোলা পায়খানা। পাহাড়ের বিভিন্ন পাশ থেকে মাটি কাটার ফলে জাদি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জাদির পাহাড়ের বসবাসকারী মো. আনোয়ার হোসেন, রবিউল আলম ও আয়েশা বেগম জানান, জায়গা জমি না থাকার কারণে জাদি পাহাড়ের ঘর তৈরি করে থাকছেন তাঁরা।
বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজন জানান, জাদি পাহাড়ে মূলত বসতি গড়ে ওঠা শুরু হয় গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে। আগে পাহাড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসতি ছিল। এখন একেবারে জাদি ঘেঁষে ঘরবাড়ি তৈরি করা হচ্ছে। বিশেষ করে গত দুই মাসে বেশি ঘরবাড়ি তৈরি করা হয়েছে।
হ্নীলা রাখাইন পল্লির সভাপতি মং বা ছিং বলেন, জাদি পাহাড়টিকে ঘিরে প্রায় দেড় শতাধিক ঘর-বাড়ি তৈরি করে লোকজন অবৈধভাবে বসবাস করছে। জাদির চারদিকে রয়েছে অসংখ্য খোলা পায়খানা। যা জাদির পবিত্রতা নষ্ট করছে। তা ছাড়া জাদির পাশ ঘেঁষে ঘরবাড়ি তৈরি করায় কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাচ্ছে না।
জেলা আদিবাসী ফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি থোই অং বলেন, প্রাচীন নিদর্শন ধ্বংস করার জন্য জাদি পাহাড়টি দখল করছে একটি চক্র। জাদি রক্ষার্থে সরকারের উচ্চমহল ও স্থানীয় প্রশাসনকে এগিয়ে আসা অনুরোধ জানান।
বুড্ডিস্ট ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা জাদি সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি ক্যাথিংজ চৌধুরী জানান, জাদি হুমকির মুখে ফেলে বসতি স্থাপন বন্ধের পাশাপাশি তাদের উচ্ছেদ করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সর্দার শরীফুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ আইন অমান্য করে পাহাড় দখল করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ জন্য কাউকে অধিদপ্তরের কাছ থেকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, জাদি পাহাড় দখলকারীদের বিরুদ্ধে যেকোনো সময় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।

সূত্রঃ www.teknafnews.com

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *