কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের স্থায়ী ফোরামের ১৬তম অধিবেশন সমাপ্ত

জাতিসংঘ, ৫ মে ২০১৭ – সদস্য রাষ্ট্র, জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা ও আদিবাসী জাতিসমূহের প্রতি সুপারিশসহ একটি রিপোর্ট অনুমোদনের মাধ্যমে আজ আদিবাসী বিষয়ক জাতিসংঘের স্থায়ী ফোরামের ১৬তম অধিবেশন শেষ হয়েছে। আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষণাপত্র গ্রহণের পর থেকে বিগত দশ বছরে আদিবাসী জাতিসমূহের অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে বলে স্থায়ী ফোরামের অধিবেশনে উল্লেখ করা হয়েছে, সেই সাথে অনেক দেশে ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন না হওয়ার জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের সদর দপ্তরে ২৪ এপ্রিল থেকে ৫ মে ২০১৭ তারিখে অনুষ্ঠিত ফোমারের উক্ত অধিবেশনে এক হাজারের অধিক আদিবাসী প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ২০০৭ সালে গৃহীত আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষণাপত্রের ১০ম বর্ষপূর্তি। ফোরামের উক্ত অধিবেশনে আদিবাসী বিষয়ক বিশ্ব সম্মেলনের (২০১৪) ফলো-আপ, ২০৩০ টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা, আদিবাসী মানবাধিকার সুরক্ষা কর্মীদের পরিস্থিতি এবং আদিবাসী নারী ও যুবদের ক্ষমতায়ণের উপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
“যখন আদিবাসী জাতিসমূহ তাদের অধিকার ও সমৃদ্ধি উপভোগ করে, তখনই সামগ্রিকভাবে সমাজ সবল হয়ে উঠে ও সকলের জন্য একটি উত্তম স্থান হয়ে দাঁড়ায়”- বলেন আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের চেয়ারপার্সন মারিয়াম ওয়ালেট আবৌবাক্রিন। আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষণাপত্র বাস্তবায়নের জন্য কিছু সদস্য রাষ্ট্র কোন পদক্ষেপই গ্রহণ করেনি বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “এটা ইতিবাচক দিক যে, আদিবাসী জাতিসমূহের অধিকার সমুন্নত রাখতে সদস্য রাষ্ট্র ও আদিবাসী জাতিসমূহের সহযোগিতা গড়ে উঠেছে”।
এরূপ অগ্রগতি সত্ত্বেও, “প্রয়োজনের চেয়ে এই অগ্রগতি খুবই ধীরগতি” বলে জানান চেয়ারপার্সন। আদিবাসীরা তাদের প্রথাগত ভূমি অধিকার লঙ্ঘন, ভূমি থেকে উচ্ছেদ ও ভূমি বেহাত হওয়া তথা হয়রানি, হুমকি ও আদিবাসী অধিকার সুরক্ষা কর্মীদের হত্যা ইত্যাদি উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মুখোমুখী হয়ে চলেছে। অধিবেশনে সরকার ও প্রাইভেট সেক্টর কর্তৃক পর্যাপ্ত পরামর্শ করা, আদিবাসীদের ভূমি ও ভূখণ্ডের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা, এবং আদিবাসী অধিকার কর্মীদের সুরক্ষা প্রদান করা ইত্যাদি ছিল আদিবাসী প্রতিনিধিদের উত্থাপিত জোরালো দাবি।
স্থায়ী ফোরাম গঠনের পর থেকে ফোরামের প্রতিটি অধিবেশনে আদিবাসী জাতিগোষ্ঠী ও সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপ ও সহযোগিতা জোরদার করার উপর গুরুত্বারোপ হয়েছে। ফোরামের সমাপনী অধিবেশনে আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের ঘোষণাপত্র বাস্তবায়নের জন্য নীতিগত ও কার্যকরভাবে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ ও অঙ্গীকারাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *