সরকারের বন আইন সংশোধনের উদ্যোগ এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মতামত

মঙ্গল কুমার চাকমাঃ

ভূমিকা

আদিবাসীদের জীবন, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আধ্যত্মিকতার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে বন ও ভূমি। সর্বত্রই আদিবাসীরা বন ও ভূমিকে পবিত্র হিসেবে গণ্য করে। বন ও ভূমির সাথে এই সম্পর্কের কারণে আদিবাসীরা বন ও ভূমিকে ও তার সম্পদের যত্ন নেয়া তাদের পবিত্র দায়িত্ব মনে করে। কেবল নিজেদের স্বার্থে নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থেও তারা তা মনে করে।
আদিবাসীদের চিরাচরিত ভূমি অধিকারের মূল ভিত্তি হচ্ছে বন ও ভূমির উপর তাদের সমষ্টিগত মালিকানা। এই পদ্ধতি অত্যন্ত সহজ ও জনমুখী। আদিবাসী ভূখণ্ডের আওতাধীন সমস্ত জমিজমা এবং বনভূমি ও বনজ সম্পদ আদিবাসীদের সামাজিক সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। প্রথাগত প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় এই সম্পদ এলাকাবাসী একাধারে যৌথ ও ব্যক্তিগতভাবে ভোগদখল করে থাকে। এলাকায় অবস্থিত বনভূমি ও বনজ সম্পদ গৃহস্থালির প্রয়োজনে যে কেউ আহরণ ও ব্যবহার করতে পারে। অপরদিকে কোন একটা জমিতে বা পাহাড়ে কেউ একবার জুম বা অন্য কোন কিছু চাষ করলে উক্ত জমির উপর ঐ ভোগদখলকারীর ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া কেউ চাষ বা অন্য কোন উদ্দেশ্যে দখল করতে পারে না এটাই হচ্ছে যুগ যুগ প্রচলিত প্রথাগত নিয়ম। এই নিয়ম ভঙ্গ করলে দেশে প্রচলিত দন্ডনীয় অপরাধের মতো আইন লঙ্ঘনের সামিল বলে বিবেচিত হয়ে থাকে। ফলে এর ব্যতিক্রম কেউ করে না বা ভঙ্গ করার প্রশ্নই উঠে না এবং জায়গা-জমির বন্দোবস্তীকরণের প্রয়োজনও পড়ে না। আজকের যুগে দেশে প্রচলিত বন্দোবস্তীকরণের যে জটিল আইনানুগ ব্যবস্থাপনায় চলছে তা আদিবাসীদের সমাজে ভূমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য তো নয়ই, উপরন্তু আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমি সম্পর্কে ধারণার সাথে সম্পূর্ণভাবে বিরোধাত্মক বটে।

বাংলাদেশের সংবিধান ও জাতীয় আইন এবং আদিবাসীদের ভূমি অধিকার

বাংলাদেশের সংবিধানে আদিবাসীদের বন ও ভূমি অধিকারের সরাসরি কোন কিছু উল্লেখ নেই। গত ৩০ জুন ২০১১ জাতীয় সংসদে গৃহীত সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে “বিভিন্ন উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের ব্যবস্থা” গ্রহণের বিধান করা হয়েছে। “আদিবাসী” শব্দের পরিবর্তে “উপ-জাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সমপ্রদায়” হিসেবে আখ্যায়িত করায় আদিবাসীরা ইতিমধ্যে পঞ্চদশ সংশোধনীর এই বিধান প্রত্যাখ্যান করেছে। কেননা আদিবাসীদের জাতিগত পরিচিতির ক্ষেত্রে এসব অভিধা অসম্মানজনক ও বিভ্রান্তিকর। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রত্যেক জাতির আত্মপরিচয়ের সহজাত অধিকারকে খর্ব করে এসব অসম্মানজনক ও বিভ্রান্তিকর পরিচিতি চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। আরো প্রণিধানযোগ্য যে, সংবিধানে কেবলমাত্র সংস্কৃতি সংক্রান্ত অধিকার স্বীকৃতি দেয়া হলেও আদিবাসীদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও ভূমি সংক্রান্ত মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি প্রদান করা হয়নি। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ভূমি অধিকার স্বীকৃতি ব্যতীত সংস্কৃতিকে পৃথকভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়।
বর্তমান সরকার কর্তৃক গঠিত সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ সংসদীয় কমিটির সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়া চলাকালে আদিবাসী সংগঠনগুলো আদিবাসীদের প্রথাগত ভূমি অধিকারের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করার জন্য রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির ভাগে ‘মালিকানার নীতি’ সংক্রান্ত ১৩ অনুচ্ছেদে “সমষ্টিগত মালিকানা, অর্থাৎ আদিবাসীদের প্রথাগত আইনের দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে সমষ্টিগত মালিকানা” সংযোজন করার প্রস্তাব করেছিল।
এছাড়া সংবিধানের একাদশ ভাগের (বিবিধ) ‘প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তি’ সংক্রান্ত ১৪৩ অনুচ্ছেদের (২) উপ-অনুচ্ছেদের পরে (৩) নামে নতুন উপ-অনুচ্ছেদ এই মর্মে সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছিল যে- “এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই দেশের আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীদিগকে তাহাদের স্ব স্ব অধ্যুষিত অঞ্চলের ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকার ও সমষ্টিগত ভূমি মালিকানার স্বত্বাধিকার নিশ্চিত করা হইতে রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।” কিন্তু সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ সংসদীয় কমিটি আদিবাসীদের এসব মৌলিক অধিকারের কোন কিছুই বিবেচনায় নেয়নি।
সংবিধানের ২৮(৪) অনুচ্ছেদে “নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান-প্রণয়ন হইতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না” বলে উল্লেখ রয়েছে এবং সাধারণভাবে দেশের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আদিবাসী জাতিগুলোকে “নাগরিকদের অনগ্রসর অংশ” হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্র আদিবাসীদের জন্য তাদের চিরাচরিত ভূমি অধিকার সংরক্ষণসহ যে কোন বিশেষ সংবিধি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।
বাংলাদেশের সংবিধানে প্রথম তফসিলে বর্ণিত প্রচলিত আইন হিসেবে সরাসরি ‘১৯৫০ সালের পূর্ববঙ্গ জমিদারী দখল ও প্রজাস্বত্ব আইন (১৯৫১ সালের আইন নং ২৮)’ এবং পরোক্ষভাবে ‘১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি’ বহাল রাখা হয়েছে। উক্ত দু’টো আইন ও বিধিমালায় আদিবাসীদের বিশেষ ভূমি অধিকারের বিধান রয়েছে। ১৯৫০ সালের পূর্ববঙ্গ জমিদারী দখল ও প্রজাস্বত্ব আইন অনুসারে জেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অনুমতি ব্যতিত আদিবাসীদের জায়গা-জমি অআদিবাসী বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর নিকট হস্তান্তরে বাধানিষেধ রয়েছে। অপরদিকে ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধিতে বসতবাড়ি, ভূমি এবং বন সম্পদের উপর আদিবাসী পাহাড়ীদের প্রথাগত ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি রয়েছে। এছাড়া ১৯৯৭ সালে স্বাক্ষরিত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির মাধ্যমে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের নিকট বন (রিজার্ভ ফরেস্ট ব্যতীত), পরিবেশ, ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি হস্তান্তর এবং পরিষদের পূর্বানুমোদন ব্যতীত ভূমি, বন বা পাহাড় হস্তান্তর, ক্রয়-বিক্রয়, ইজারা, অধিগ্রহণের বিধিনিষেধ রয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ‘খ’ খন্ডের ৩৩ নং ধারায় পার্বত্য জেলা পরিষদের কার্যাবলী হিসেবে “সরকার কর্তৃক রক্ষিত নয় এই প্রকার বন সম্পদ উন্নয়ন ও সংরক্ষণ” বিষয়টি হস্তান্তরের বিধান করা হয়। পার্বত্য জেলা পরিষদের এই হস্তান্তরিত বিষয়টিও এখনো কার্যকর করা হয়নি। এই ধারা অনুযায়ী রক্ষিত বন ব্যতীত অন্য সকল বন যথা সংরক্ষিত ও অশ্রেণীভুক্ত বন জেলা পরিষদের আওতাধীন বিষয়। কিন্তু বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে (২০০৭-০৮) পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিকে লঙ্ঘন করে কেবলমাত্র অশ্রেণীভুক্ত বনকে পার্বত্য জেলা পরিষদের এবং রক্ষিত ও সংরক্ষিত বনকে বনবিভাগের আওতাধীন বলে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে সার্কুলেশন জারী করা হয়েছে। এটা পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনেরই বরখেলাপ।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ‘খ’ খন্ডের ২৬ নং ধারার (ক) নং উপ-ধারায় বলা হয়েছে যে, “আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, পার্বত্য জেলার এলাকাধীন বন্দোবস্তযোগ্য খাসজমিসহ কোন জায়গা-জমি পরিষদের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে ইজারা প্রদানসহ বন্দোবস্ত, ক্রয়, বিক্রয় ও হস্তান্তর করা যাইবে না। তবে শর্ত থাকে যে, রক্ষিত (Reserved) বনাঞ্চল, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা, বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ এলাকা, রাষ্ট্রীয় শিল্প কারখানা ও সরকারের নামে রেকর্ডকৃত ভূমির ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হইবে না।” এই ধারা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। এ ধারা লঙ্ঘন করে জেলা প্রশাসকরা ভূমি ইজারা প্রদানসহ বন্দোবস্ত, ক্রয়, বিক্রয় ও হস্তান্তর করে চলেছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে ‘ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা বিষয়টি পার্বত্য জেলা পরিষদে হস্তান্তরের বিধান রয়েছে। কিন্তু আজ অবধি বিষয়টি জেলা পরিষদে হস্তান্তর করা হয়নি। এখনো জেলা প্রশাসকরা ভূমি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে চলেছে।
চুক্তির ২৬ নং ধারার (খ) নং উপ-ধারায় আরো বলা হয়েছে যে, “আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, পার্বত্য জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ও আওতাধীন কোন প্রকারের জমি, পাহাড় ও বনাঞ্চল পরিষদের সাথে আলোচনা ও ইহার সম্মতি ব্যতিরেকে সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণ ও হস্তান্তর করা যাইবে না।”
এই আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। এই আইনকে লঙ্ঘন করে অর্থাৎ জেলা পরিষদের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধিকে দোহাই দিয়ে জেলা প্রশাসকরা ইজারা ও বন্দোবস্ত প্রদান করে চলেছে। যেমন- ২০০০ সালের জুন মাসে বান্দরবন সদর থানার সুয়ালক মৌজার ৭০৪ হতে ৭০৬ নং হোল্ডিং এবং তুমব্রু মৌজার ৬৩ থেকে ৬৭ নং হোল্ডিংয়ের প্রতি হোল্ডিংয়ে ২৫ থেকে ৫০ একর করে জমি ডেপুটি কমিশনারগণ তার নিজের আত্মীয়, পুলিশ সুপার, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক ও রাজস্ব) ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরিবার-পরিজনের নামে রাবার/হর্টিকালচার প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ বেআইনী ভূমি দখলের তৎপরতায় জেলা ও থানা পর্যায়ের আরো ৪০ জন কর্মকর্তা জড়িত রয়েছেন।
চুক্তির ২৬ নং ধারার (গ) উপ-ধারায় আরো উল্লেখ আছে যে, পরিষদ হেডম্যান, চেইনম্যান, আমিন, সার্ভেয়ার, কানুনগো ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) দের কার্যাদি তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। পাশাপাশি (ঘ) উপ-ধারায় বলা হয়েছে যে, কাপ্তাই হ্রদের জলেভাসা (Fringe Land) জমি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জমির মূল মালিকদেরকে বন্দোবস্ত দেওয়া হবে।
এই উপ-ধারাটি আইনে অন্তর্ভুক্ত হলেও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি জেলায় শত শত একর জলেভাসা জমি বহিরাগত সেটেলারদের বন্দোবস্তী প্রদান করা হয়েছে। অপরদিকে হডম্যান, চেইনম্যান, আমিন, সার্ভেয়ার, কানুনগো ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) দের কার্যাদিও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের আওতাধীন করা হয়নি। বরঞ্চ হেডম্যানদের উপর জেলা প্রশাসনের নানা ধরনের হয়রানি ও নিবর্তনমূলক চাপ অব্যাহত হয়েছে।
চুক্তির ‘খ’ খন্ডের ২৭ নং ধারায় আরো বলা হয়েছে যে, আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, জেলার ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের দায়িত্ব পরিষদের হস্তে ন্যস্ত থাকবে এবং জেলায় আদায়কৃত উক্ত কর পরিষদের তহবিলে থাকবে। এই ধারা আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও প্রয়োগের ক্ষমতা জেলা পরিষদকে দেওয়া হয়নি। এখনো জেলা প্রশাসকরা এই ক্ষমতা প্রয়োগ করে চলেছেন।
dfsdf

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও আদিবাসীদের ভূমি অধিকার

বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ১৯৫৭ সালের আদিবাসী ও জনজাতি বিষয়ক কনভেনশন (কনভেনশন নং ১০৭) অনুস্বাক্ষর করেছে। উক্ত কনভেনশনের ১১ অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে যে, “সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর সদস্যদের ঐতিহ্যগতভাবে অধিকৃত ভূমির উপর যৌথ কিংবা ব্যক্তিগত মালিকানার অধিকার স্বীকার করতে হবে।” আদিবাসীদের চিরাচরিত বা প্রথাগত ভূমি অধিকারের মূল ভিত্তি হচ্ছে ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের উপর যৌথ বা সমষ্টিগত মালিকানা। রাষ্ট্র আইএলও’র ১০৭নং কনভেনশন অনুস্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে আদিবাসীদের চিরাচরিত বা প্রথাগত ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি দিয়েছে।
আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষণাপত্রের ২৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, (১) আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর তাদের ঐতিহ্যগতভাবে মালিকানাধীন, ভোগদখলে থাকা কিংবা অন্যথায় ব্যবহার করা কিংবা অধিগ্রহণকৃত জমি, ভূখন্ড ও সম্পদের অধিকার রয়েছে; (২) আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্যগত মালিকানা কিংবা ঐতিহ্যগত ভোগদখল, ব্যবহার, এবং একই সাথে অন্যথায় অধিগ্রহণের মাধ্যমে অর্জিত ভূমি, ভূখন্ড ও সম্পদের উপর তাদের মালিকানা, ব্যবহার, উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণের অধিকার রয়েছে; ও (৩) রাষ্ট্র এসব ভূমি, ভূখন্ড ও সম্পদের আইনগত স্বীকৃতি ও সুরক্ষা করবে। সংশ্লিষ্ট আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর প্রথা, ঐতিহ্য এবং ভূমিস্বত্ব ব্যবস্থা যথাযথ মর্যাদা দিয়ে সেই স্বীকৃতি প্রদান করবে। এমনকি উক্ত ঘোষণাপত্রের ১০ অনুচ্ছেদে আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীকে তাদের ভূমি কিংবা ভূখন্ড থেকে জবরদস্তিমূলকভাবে উৎখাত করা যাবে না বলেও উল্লেখ রয়েছে। আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীকে তাদের স্বাধীন ও পূর্বাবহিত সম্মতি ছাড়া কোনভাবে অন্য এলাকায় স্থানান্তর করা যাবে না এবং ন্যায্য ও যথাযথ ক্ষতিপূরণের বিনিময়ে সমঝোতাসাপেক্ষে স্থানান্তর করা হলেও, যদি কোন সুযোগ থাকে, পুনরায় তাদেরকে স্ব-এলাকায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা থাকতে হবে বলে ঘোষণাপত্রে বিধান করা হয়েছে।

mn-1
বন আইন ১৯২৭ এর সংশোধনী উদ্যোগ ও আদিবাসীদের বিষয়

১০২৭ সালের বন আইন অনুসারে বনবিভাগের হাতেই বন ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। বনবিভাগের কাজের ফলে দু’টি প্রভাব স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা গেছে তা হলো- (১) রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পাইকারী হারে বনজ সম্পদের বাণিজ্যিক আহরণ এবং (২) বন ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা থেকে বন-নির্ভর আদিবাসী জনগোষ্ঠীগুলোকে ক্রমবর্ধমান হারে প্রান্তিকীকরণ। এই দুটো প্রভাবের ফলে ঔপনিবেশিক আমল থেকে বর্তমান পর্যন্ত দ্রুত বন উজার হতে থাকে এবং জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ১৯২৭ সালের বন আইনে বন-নির্ভর জনগোষ্ঠীর বনের উপর সমষ্টিগত অধিকারের সীমিত স্বীকৃতি রয়েছে। কিন্তু এই সামষ্টিক মালিকানাধীন বনভূমিকে ধীরে ধীরে রাজস্ব ভূমির আওতায় নিয়ে আসা হয় এবং সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ কায়েম করা হয়। এর ফলে এদেশে ধীরে ধীরে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রথাগত অধিকার ক্ষুন্ন হয় এবং বন সংরক্ষণে সমৃদ্ধ-ঐতিহ্য বিপন্ন হয়ে পড়ে।
বাংলাদেশ সরকার ১৯৮৯, ১৯৯০ ও ২০০০ সালে ১৯২৭ সালের বন আইন সংশোধন করে। বর্তমান সরকার ২০১২ সালে এই বন আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে যা এখনো চলমান রয়েছে। বন (সংশোধনী) আইন ২০১৫ সর্বশেষ খসড়ায় কতিপয় বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদসহ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আপত্তি রয়েছে। ইতিমধ্যে ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ থেকে প্রস্তাবিত বন (সংশোধনী) আইন ২০১৫ এর সরকারের কাছে মতামত দেয়া হয়েছে। চাকমা সার্কেল চীফ রাজা দেবাশীষ রায়ের উদ্যোগে ও আহ্বানে সর্বশেষ গত ২৭ জানুয়ারি ২০১৬ আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রতিনিধিসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের নাগরিক সমাজের সমন্বয়ে প্রস্তাবিত বন (সংশোধনী) আইন ২০১৫-এর উপর সামগ্রিক মতামত চূড়ান্ত করা হয়। এসব সুপারিশের ভিত্তিতে প্রস্তাবিত বন (সংশোধনী) আইন ২০১৫ এর উপর নিম্নোক্ত মূল বিষয়গুলো উত্থাপন করা গেল।
এক. প্রস্তাবনায় আইনের উদ্দেশ্য:
প্রস্তাবিত আইনের প্রস্তাবনায় “…make provisions for the conservation and sustainable use of forests” Gi mv‡_ “and to protect the traditional and customary rights of indigenous peoples relevant to the conservation and sustainable use of forests and biodiversity” শব্দাবলী অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।
কেননা পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বন বা তৎসংলগ্ন এলাকায় বন-নির্ভর আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। উক্ত বনসমূহের সংরক্ষন ও বনসম্পদের প্রতিবেশ-বান্ধব ব্যবহারের সাথে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর সনাতনী জীবনাচার অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর প্রথাগত অধিকারসমূহ স্বীকৃত না হলে প্রতিবেশমুখী ও স্থায়ীত্বশীল বন সংরক্ষণ ও বন ব্যবস্থাপনা সম্ভবপর নয়।
দুই. বনের সংজ্ঞা
প্রস্তাবিত নতুন Section 2(1A)-G “Other Forest” সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব বাতিল করা দরকার। কারণ “Other Forest” এর সংজ্ঞা নিষ্প্রয়োজন যেহেতু “Other Forest” এর ধারণা অযৌক্তিক ও বাস্তববর্জিত।
যদি “Forest”–এর সংজ্ঞা দিতে হয় তাহলে, প্রাকৃতিক সম্পদ সম্বলিত ভূমি ও তার সাথে সম্পৃক্ত বন নির্ভর জনগোষ্ঠীর কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সম্পৃক্ততার সুস্পষ্ট উল্লেখ আবশ্যক।
চিম্বুক-পাহাড়
Forest settlement officer নিয়োগ

ধারা ৩(ক) 2(A) Clause (1)-এর পর নিম্নরূপ Clause (2A) সন্নিবেশিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে যে”(2A) Forest settlement officer means one or more officer appointed by Government under section 4 of this Act”। উক্ত প্রস্তাবেব ”but who must be judicial officer (s) and not Forest Officer(s)” বাক্যাংশ সংযুক্ত করা। Forest Settlement Officer এর দায়িত্ব ও এখতিয়ার বিচারিক কর্মকান্ডের সামিল। যাতে বিরোধ ও অভিযোগ নিষ্পত্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাই এখানে বিচারিক কর্মকর্তাকেই নিয়োগ দেয়াই উপযুক্ত ও যুক্তিযুক্ত। নূন্যতম যুগ্ম-জেলা জজ, এবং সম্ভব হলে কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্ট বিভাগের জজকে Forest Settlement Officer হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া উচিত। বন কর্মকর্তার নিকট Forest Settlement-Officer এর দায়-দায়িত্ব অর্পিত হলে Principle of Natural Justice (Due Process) লঙ্ঘন করা হবে। যেহেতু বন কর্মকর্তা দাবিদার বা অভিযোগকারীর ভূমিকা ও বিচারকের ভূমিকা উভয়ই পালন করবেন।
“Other Forest”

প্রস্তাবিত আইনে ধারা ৩(গ) ও ১৩-এ যথাক্রমে 2(4B), “other forest” means forest declared by the Government as forest under sub-section (1) of section 34A of this Act; 2(4C), “protected forest” means forest declared as protected forest under section 29 of this Act; 2(4D) “reserved forest” means forest declared as reserved forest under section 29 of this Act; সংযোজন করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত নতুন Section 2(4B), 2(4C), 2(4D) I 34(A) অন্তর্ভুক্ত প্রয়োজন নেই বলে আদিবাসীরা মনে করে। ফৌজদারী বিধানাবলী থাকা সত্ত্বেও “Reserved Forest” I “Protected Forest” এর বন উজার হয়ে গেছে। সে কারণেই বনবিভাগ ফৌজদারী ব্যবস্থার মাধ্যমে বন সংরক্ষণের ধারণা পরিহার/সীমিতকরণ করে বননির্ভর জনগোষ্ঠীর অংশীদারিত্ব ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে অংশীদারিত্ব বনায়ন (Participatory Forestry), সামাজিক বনায়ন (Social Forestry/Afforestation), সহ-ব্যবস্থাপনা (Co-Management)- এর কার্যক্রম ও প্রকল্পের মাধ্যমেই বন সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করে আসছে। যা বর্তমান ও পূর্বের জাতীয় বননীতিতে স্পষ্টভাবে উল্লিখিত রয়েছে। সুতরাং “Other Forest” ধারণাটি গ্রহণ করা হলে তা চলমান বননীতি, বন ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ কার্যক্রমের সম্পূর্ণ বিরোধাত্মক বা বিপরীতমুখী হবে।
“Other Forest” সৃষ্টি বা ঘোষণার প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশের সংবিধানে স্বীকৃত মৌলিক অধিকার এবং Principle of Natural Justice (Due Process) পরিপন্থী যেহেতু এক্ষেত্রে ভূমির মালিক ও অন্যান্য স্বত্ত্বাধিকারীদের নিকট যথাযথ নোটিশ প্রদানের এবং ভূমির মালিক ও অন্যান্য স্বত্ত্বাধিকারী কর্তৃক আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নেই।
তাছাড়া উপরোক্ত প্রস্তাবিত প্রক্রিয়াটি পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে পার্বত্য অঞ্চলের প্রযোজ্য আইন, প্রথা, পদ্ধতি ও রীতিনীতির সাথে বিরোধাত্মক বা সাংঘর্ষিক (পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন ১৯৮৯, পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন ১৯০০, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশন আইন ২০০১)। উল্লেখ্য যে, পার্বত্য অঞ্চলের ভূমির বন্দোবস্তী, ইজারা, অধিগ্রহণ ও হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পার্বত্য জেলা পরিষদের পূর্বানুমোদন আবশ্যক (ধারা ৬৪, পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন ১৯৮৯)। অধিকন্তু, পার্বত্য অঞ্চলে প্রচলিত রীতি-নীতি ও পদ্ধতি অনুযায়ী মৌজা হেডম্যানের সম্পৃক্ততা ব্যতীত কোন জমির বন্দোবস্তী বা হস্তান্তর করা যায় না (পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন ১৯০০ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশন আইন ২০০১ এর মাধ্যমে স্বীকৃত প্রথা, রীতি ও পদ্ধতি)। এছাড়া রিজার্ভ ফরেস্ট ব্যতীত অন্যান্য সকল বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের দায়িত্ব তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের।
সংরক্ষিত বন ঘোষণার প্রক্রিয়ায় অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ রহিতকরণ (Extinction of Rights)
২০১৫-এর প্রস্তাবিত আইনের প্রস্তাবিত ৬, ৭ ও ৮ ধারায় সংরক্ষিত বন ঘোষণার প্রক্রিয়ায় অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ রহিতকরণ(Extinction of Rights) প্রস্তাব বাতিল করা অত্যাবশ্যক। সংরক্ষিত বন ঘোষণার মাধ্যমে বর্ণিত জনগোষ্ঠির ভূমি অধিকার বিলুপ্তি ঘোষণার প্রক্রিয়ায় চূড়ান্তভাবে Section 20-এর অধীনে Reserve Forest ঘোষণার পূর্বে সংশ্লিষ্ট স্বত্ত্বাধিকারী কর্তৃক আপত্তি দাখিলের সুযোগ রহিত করা হলে প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলের আদিবাসী, বনবাসী ও বন-নির্ভর জনগোষ্ঠী তাদের সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার, প্রথাগত এবংঅন্যান্য প্রচলিত ভূমি অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর অজ্ঞাতসারে তাদের বসতভূমি, ফলের বাগান, জুম ভূমি, আবাস ভূমি, মৌজা বন, গ্রাম বন, শশ্মান/পবিত্র ভূমি ইত্যাদি হারাবে।
এর ফলে উন্নয়ন-বর্জিত ও দুর্গম অঞ্চলে বসবাসরত বনবাসীদের সহজাত মানবাধিকারকে লঙ্ঘন করা হবে। ইতিমধ্যে ১৯৯২-৯৩ সনে জারি করা বন আইনের ৪ ও ৬ ধারা এবং পরবর্তীতে চূড়ান্ত ২০ ধারা জারির বিষয়টি দীঘিনালার ৬টি মৌজার জনগণ এ বিষয়ে ২০১০ সালেই মাত্র জ্ঞাত হন। পার্বত্য চট্টগ্রামে এরূপ নোটিশ প্রাপ্ত নন এবং তাদের অজ্ঞাতসারে সংরক্ষিত বন ঘোষণার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, অসংখ্য ব্যক্তি ও জনগোষ্ঠী রয়েছে যাদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে এবং লঙ্ঘিত হবে।
রক্ষিত বনে বিশেষ শ্রেণীর বৃক্ষের সংরক্ষিত ঘোষণার অনুর্ধ ৩০ বছরের সীমাবদ্ধতা রহিতকরণ
২০১৫ সনের প্রস্তাবিত বন আইনের প্রস্তাবিত ১০ ধারায় রক্ষিত বনে বিশেষবৃক্ষের বা বিশেষ শ্রেণীর বৃক্ষের সংরক্ষিত ঘোষণার অনুর্ধ ৩০ বছরের সীমাবদ্ধতা রহিতকরণের প্রস্তাব বাতিল করা দরকার। প্রস্তাবিত সংশোধনীটি আনা হলে বর্ণিত জনগোষ্ঠীর জীবিকা, প্রথা, কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও অন্যান্য প্রথাগত অধিকারকে হরণ করা হবে। তাছাড়া রক্ষিত বনে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর প্রাপ্তবয়স্ক গাছের বা প্রজাতির গাছের টেকসই ব্যবহার হতে বঞ্চিত করবে।
বন আইন ১৯২৭-এর Section 30-তে উল্লিখিত Protected Forest-এর অধীনে “reserve”-কৃত বিশেষ বৃক্ষ বা বিশেষ প্রজাতিগত বৃক্ষ শ্রেণী-সম্বলিত কোন অংশকে ৩০ বছরের অধিক কাল “closed” না রাখার পিছনে যথেষ্ট যুক্তি ছিলো এবং বর্তমানেও রয়েছে। পাশ্ববর্তী ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ১৯২৭ সনের বন আইন এখনও বলবৎ রয়েছে – যথা, মহারাষ্ট্র রাজ্য যেখানে ৩০ বছরের অধিককাল সংশ্লিষ্ট এলাকাকে “closed” না রাখার বিধান অদ্যাবধি বলবৎ রয়েছে [Maharashtra Forest Act 1927, Section 30(b)|]
Ethnic Minority পরিবর্তে Adivasi
প্রস্তাবিত “ethnic minority” শব্দটির পরিবর্তে ÒAdivasiÓ শব্দটি প্রতিস্থাপন করা। প্রস্তাবিত “ethnic minority” শব্দটি পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের আদিবাসী জাতিসমূহের সঠিকভাবে জাতিগত পরিচিতির প্রতিনিধিত্ব করে না। এটা অস্পষ্ট এবং এর মাধ্যমে বনে বসবাস করে না এমন জনগোষ্ঠীও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। যেমন ধর্মীয়, ভাষাগত ও জাতিগত সংখ্যালঘু যারা বননির্ভর জনগোষ্ঠী নয়। তাছাড়া বিভিন্ন আইনে “আদিবাসী” শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন, সামাজিক বনায়ন বিধিমালা ২০১০ [বিধি ৬, উপবিধি ২(ঙ) ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন ২০১০ [ধারা ২(২)]।
তারিখ: ৫ মে ২০১৬।

মঙ্গল কুমার চাকমাঃ তথ্য ও প্রচার সম্পাদক; পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *