বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত

২ রা এপ্রিল ২০১৬ তারিখে বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ কতৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাজু ভাস্কর্য পাদদেশে সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড় এবং সমতলে আদিবাসিদের উপর উগ্রসাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর হামলা, ভুমি বেদখল , নারী ও শিশুর উপর সহিংসতার প্রতিবাদে এক বিক্ষোভ মিছিল ও ছাত্র সমাবেশের আয়জন করা হয়। মিছিলটি অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শুরু করে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিন করে রাজু ভাস্কর্যের সামনে এসে শেষ হয় এবং সেখানেই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সম্প্রতি লামা, আলিকদম ও থানছিতে উগ্রসাম্প্রদায়িক হামলা এটাই প্রমান করে সরকার তার ইসলামীকীকরন ও জাতিগত দিক দিয়ে আদিবাসীদের সংখ্যালঘুতে পরিণত করার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। তারই ফলস্বরুপ কলপনা চাকমা থেকে শুরু করে তুমাচিং মারমা, সবিতা চাকমারা ধর্ষনের শিকার হয়েছে, হচ্ছে। ১৯৭১ সালের আগে পার্বত্য চট্টগ্রামে যেখানে পাহাড়ি বাঙ্গালীর অনুপাত ছিল ৯৮ঃ২ সেখানে স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর এসে সেটা ৫২ঃ৪৮ এ পরিণত হয়েছে। জাতিগত নিপীড়নের মাধ্যমে সেখানকার ভূমিপুত্রদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ করে সর্বহারা, ভুমিহারা জাতিতে পরিণত করে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে সমতলের আদিবাসীদের দীর্ঘদিনের মৌলিক দাবী স্বতন্ত্র ভূমি কমিশন গঠন না করে সেখানকার ভূমিপুত্রদের কাছ থেকে জোর করে ভূমি বেদখল করছে সরকারের মদদপুষ্ট বিভিন্ন কোম্পানী। চা বাগান সৃষ্টির মাধ্যমে সেখানকার আদিবাসীদের চা শ্রমিকে পরিণত করছে। এমতাবস্থায় আদিবাসিদের মৌলিক অধিকারগুলো আদায়ে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের প্রয়োজন বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

সমাবেশে ঐক্য ন্যাপের আহবায়ক, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ পঙ্কজ ভট্টাচার্য্য বলেন, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেদিন পার্বত্য চুক্তি করে আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে প্রশংসা লাভ করেছিলেন, কিন্তু পার্বত্য চুক্তির আজ ১৮ বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও চুক্তির মৌলিক বিষোয়গুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করেননি। বরং, পর্যটনের নামে, সেনাক্যাম্প সম্প্রসারনের নামে আদিবাসীদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ করে যাচ্ছেন।

সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ছাত্রনেতা লাকী আক্তার বলেন, সরকারের যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি, সেই সংস্কৃতির কারনেই আজ আদিবাসী নারী ও শিশু ধর্ষনের পর হত্যা করা হলেও এর কোন সুষ্ঠ বিচার হচ্ছেনা। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পুর্ণাংগ ও যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে আহবান জানান।

সংহতি জানিয়ে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের প্রতিনিধি এন্ড্রো সলোমার, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিনিধি অনন্ত বিকাশ ধামাই, বাগাছাসের প্রতিনিধি চপল বাজি, গাসুর টনি চিরান এবং সমাবেশটির সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি সুমন মারমা।

সমাবেশ থেকে নিম্নোক্ত দাবীসমুহ উত্থাপন করা হয়ঃ
১ঃ আদীবাসী সকল নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
২ঃ ভুমিদস্যুদের যথাযথ আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যাবস্থা করতে হবে।
৩ঃ পার্বত্য চুক্তি পুর্ণাংগভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
৪ঃ সমতলের আদিবাসিদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করতে হবে।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.