আদিবাসীদের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক গণশুনানীঃ অলি কুজুর

স্বাধীনতার মাত্র ৪৬ বছরে অর্থনৈতিক ও সামাাজিক অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন বিশ্বে নানাভাবে আলোচিত। যুদ্ধবিধস্ত একটি দেশ নানা রাজনৈতিক প্রতিকূলতার পরও কীভাবে নানামাত্রিক উন্নয়ন ঘটিয়েছে, তাতে দুনিয়ার অনেক বিশেষজ্ঞ অবাক হন। অমর্ত্য সেন বাংলাদেশকে বিভিন্ন সামাজিক সূচকে প্রায় ক্ষেত্রেই ভারত থেকে এগিয়ে রাখেন ও তাদের নীতি নির্ধারকদের বাংলাদেশ থেকে শিক্ষা নেয়ার তাগিদ দেন। সকলের আকাক্সক্ষা, এ দেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে সব ধর্ম-বর্ণ-জাতি-সম্প্রদায়ের জন্য একটি উন্নত দেশ হবে। কিন্তু অর্থনীতি থেকে সমাজে পিছিয়েপড়া আদিবাসীদের দিকে চোখ রাখলে অন্য ছবি ভেসে উঠবে। সেখানে আদিবাসীদের মানবাধিকার, জীবনসংগ্রাম, সাংবিধানিক স্বীকৃতি, ভূমিসহ বিভিন্ন অধিকার সংক্রান্ত পরিস্থিতি অন্যরকম।
মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দলের নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের প্রায় ৫৪টি আদিবাসী গোষ্ঠীর প্রতি গৃহীত নানা পদক্ষেপ, দেশ পরিচালনাকারী রাজনৈতিক শক্তিসমূহের মনোগঠন ও কর্মপ্রক্রিয়া, বৃহত্তর বাঙালি সমাজের মানসপট এবং সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান আজ নতুন ভাবনার জন্ম দিচ্ছে। সাম্প্রতিককালে পার্বত্য জেলা পরিষদ (সংশোধিত) আইন পাশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হিসেবে আদিবাসীদের পরিচয়ের বিধান, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ১৯৯৭ বাস্তবায়ন বিলম্বিত করে চুক্তির সাথে সাংঘর্ষিক পদক্ষেপ গ্রহণ, পাহাড় ও সমতলে আদিবাসীদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যা, ভূমিদখল, আদিবাসীদের নাগরিক হিসেবে সমমর্যাদার সাথে জীবনযাপন, স্বাধীনভাবে চলাফেরা এবং নিজস্ব সংস্কৃতির লালন ও বিকাশের ক্ষেত্র ক্রমশ সঙ্কুচিত করে তুলছে।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দেশে যথেষ্ট অগ্রগতি হলেও আদিবাসী মানবাধিকার সূচক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ধারা ক্রমেই অবনতির দিকে ঝুঁকছে। আইনের শাসনের অভাব, বহুত্ববাদী সমাজের বদলে একমুখী ও একত্ববাদী সমাজ গঠনের দিকে ধাবিত করতে নানা প্রক্রিয়া ও উদ্যোগ গ্রহণ, প্রগতি চিন্তার বদলে পেশি ও অস্ত্রের ভাষায় ভিন্নমত দমন, দুর্নীতি এবং বিচারহীনতা এ অবনতিকে দৃশ্যমান করে তুলেছে। জনসংখ্যার মাত্র ২% নাগরিক প্রায় ৫৪টি আদিবাসী জাতি-গোষ্ঠীর মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আজকের গণশুনানী। আদিবাসী মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টিকে আমরা বিভিন্ন এলাকায় সংঘঠিত সহিংস ঘটনার আলোকে তুলে ধরবো।
আদিবাসী নারীর প্রতি সহিংসতা দিন দিন বেড়ে চলেছে। ইউপি সদস্য ও নারী নেত্রী বিচিত্রা তির্কিকে নির্যাতনের ঘটনা দেশ ও সমাজকে আহত করেছে এই বলে যে এ সমাজে নির্বাচিত নেত্রীও নিপীড়ন থেকে মুক্ত নয়। আদিবাসী মানবাধিকার সংস্থা কাপেং ফাউন্ডেশনের ২০০৭-২০১৬ সালের হিসেবে সারাদেশে আদিবাসী নারী নির্যাতনের মোট ঘটনার মধ্যে ধর্ষণ/ গণধর্ষণ ২৭%, খুন ৯%, ধর্ষণ প্রচেষ্টা ১৮%, শারীরিক নির্যাতন ৩১%, অপহরণ/ অপহরণ চেষ্টা ৮%, যৌন হয়রানি ৫%, পাচার ২% হয়েছে। জানুয়ারি-ডিসেম্বর ২০১৬ সময়কালে ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা, ধর্ষণের পর হত্যা ও অপহরণের ৫৮টি ঘটনা ঘটেছে। (সুত্র : Human rights Report 2016, কাপেং ফাউন্ডেশন, পৃষ্ঠা ৬১/৬২)
আদিবাসী নিপীড়নের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হচ্ছে ভূমিদখল, নির্যাতন, ধর্ষণ ও খুন। তাদের ভূমিদখল করতে রাষ্ট্র, সরকার ও ধর্মকে ব্যবহার করে সকল ধরনের প্রভাবশালী ঝাঁপিয়ে পড়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় নাগরিক প্রতিনিধি দলের সরেজমিন পরিদর্শনের ফলে এ চিত্র উঠে এসেছে। পটুয়াখালি ও বরগুনা অঞ্চলে হাজার হাজার রাখাইন ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ হতে হতে গত চল্লিশ বছরে প্রায় ২৫০০-এ নেমে এসেছে। দেড়শ বছরের পুরানো কুয়াকাটা বৌদ্ধবিহার ৫৬ বছর ধরে বন্ধ হয়ে আছে। বুদ্ধের মূর্তি চুরি ও তাদের শ্মশান দখল হয়ে গেছে। বাগদাফার্মে আদিবাসীদের উচ্ছেদ, অগ্নিসংযোগ, হত্যা করা হয়েছে। আদালতের তদন্তে সেখানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টিভঙ্গি ও দায়িত্বপালন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নবাবগঞ্জের ঢুডু সরেন জমির জন্য ২ আগস্ট ২০১৪ খুন হয়েছে। তার পিতাকেও ভূমিদস্যুরা একইভাবে ১৯৭৩ সালে খুন করেছিল।
আদিবাসীরা উন্নয়ন চায়। সে উন্নয়ন হতে হবে তাদের অধিকার, বিশ্বাস, সংস্কৃতি, পরিবেশ ও ঐতিহ্যকে ধারণ করেই। অথচ সরকার আদিবাসী এলাকায় নানা উন্নয়ন কর্মকা- গ্রহণ করছে যা সরাসরি তাদের জীবন-জীবিকা, রীতিনীতি, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, পরিবেশ ও জীবনবোধের উপর আঘাতস্বরূপ। যেমন ইকোপার্ক ও বিজিবি ক্যাম্প স্থাপন। সরকার বলছে এসব হচ্ছে আদিবাসীদের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা। অথচ উন্নয়ন বরাদ্দের ক্ষেত্রে আদিবাসীরা বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার। কাপেং ফাউন্ডেশনের নিম্নোক্ত তথ্য এই সত্যকেই তুলে ধরে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে আদিবাসী – বাঙালি বরাদ্দের বৈষম্য (টাকায়) (২০০৭-২০১০)
অর্থ বছর – অআদিবাসী – আদিবাসী
২০০৭-২০০৮ ১৮৪৬.৯৫ ৭২৭.৮৬
২০০৮-২০০৯ ১৭৬৬.৬৬ ৫৩৩.১৮
২০০৯-২০১০ ১৯৯৬.৯৮ ৫৯৩.৭৭
তথ্যসূত্র : Survival under threat: Human rights situation of indigenous peoples in Bangladesh, কাপেং ফাউন্ডেশন, ২০১৪
সমতলের আদিবাসীদের ক্ষেত্রে বরাদ্দ আরো করুণ, জনপ্রতি মাত্র ৮৩.৬৪ টাকা। ২০০৯-১০ অর্থবছরে পার্বত্য চট্টগ্রামে মোট সরকারি বরাদ্দ ছিল ২,৯৪৩ কোটি টাকা, আর সমতলে ২০ লাখ আদিবাসীর জন্য মাত্র ৭৪ কোটি টাকা। বাঙালিদের জন্য সরকারি বরাদ্দ নিয়মিত বৃদ্ধি পাচ্ছে আর আদিবাসীদের ক্ষেত্রে তা নিম্নমুখী হয়ে পড়ছে।
স্বাধীনতা দেশের নাগরিকদের নানামাত্রিক উন্নয়নের পথ খুলে দিয়েছে। বর্তমান সরকারও রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নে সকল জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে অঙ্গীকারাবদ্ধ। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনের ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘ কর্তৃক টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)-২০৩০ নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে দেশের জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও লিঙ্গ নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। দেশের সকল জাতিগোষ্ঠীর মানুষের মিলিত প্রয়াসে কেবল এটি অর্জন সম্ভব।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আদিবাসী মানুষের উপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা, হত্যা, নির্যাতন, নিপীড়ন, দখল ও হামলা হয়েছে। সমতলে বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় এসব মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার কয়েকটি হচ্ছে।
 ২৮ এপ্রিল ২০১৬ নওগাঁর নিয়ামতপুরের বালুপাড়া গ্রামের চম্পা পাহানকে ধর্ষণ ও নির্যাতন;
 ১৫ আগস্ট ২০১৬ জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের নুরনগর শিয়ালাপাড়ার মোহনলাল পাহানকে গলা কেটে হত্যা;
 ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬ নওগাঁর নিয়ামতপুরে ভাবিচা ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য মিনতিবালা ওঁরাওকে হামলা ও নির্যাতন;
 ৬ নভেম্বর ২০১৬ গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্মে আদিবাসীদের উচ্ছেদ, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও গুলি করে হত্যা;
 ১৫ ডিসেম্বর ২০১৬ রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার পোড়াভিটা গ্রামের দেবকুমার পাহাড়িয়াকে হত্যা;
 ৬ জানুয়ারি ২০১৫ রাজশাহীর গোদাগাড়িতে ছাত্র ও যুব নেতা বাবুল হেমব্রমকে নিজের বাড়িতে খুন;
 ২৪ জানুয়ারি ২০১৫ পার্বতীপুরে হবিবপুরের চিড়াকোটা গ্রামে কয়েকটি আদিবাসী পরিবারে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও নির্যাতন;
 ২ আগস্ট ২০১৪ দিনাজপুর নবাবগঞ্জের ঢুডু সরেনকে ভূমিদস্যু কর্তৃক পিটিয়ে হত্যা;
 ৪ আগস্ট ২০১৪ চাঁপাইনবাবগঞ্জের নারী নেত্রী ও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বিচিত্রা তির্কী ভূমিদস্যু দ্বারা প্রকাশ্য দিবালোকে ধর্ষিত।
অপরাধবিহীন পৃথিবী, রাষ্ট্র, সমাজ ও জাতি অকল্পনীয়। তাই বলে নিয়মিত অপরাধ সংঘটিত হতে থাকবে এটিও কাম্য নয়। যেকোনো অপরাধের বিচার শুধু বিচারপ্রার্থীর মানবাধিকার সমুন্নত করে না ভবিষ্যত অপরাধ নিবৃত্ত করতেও কাজ করে। সমতল ও পাহাড়ে আদিবাসীর ওপর সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ও বিভিন্ন অপরাধ যেমন, হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ, হামলা, জমিদখল কোনোটারই সুরাহা হয়নি। এসব ঘটনা প্রমাণ করে আদিবাসীদের মানবাধিকার পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত নি¤œমুখী হয়ে পড়ছে। তাই আদিবাসীদের মানবাধিকার রক্ষায় সরকারের নীতিনির্ধারক, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সামাজিক শক্তিসমূহের সময়মতো পদক্ষেপ গ্রহণ, সঠিক বিচার ও দোষীদের শাস্তি প্রদান প্রয়োজন। সাথে সাথে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মানুষের মনোগঠন, সংবেদনশীলতা ও মেলবন্ধন তৈরি করা প্রয়োজন।
উনবিংশ শতাব্দী ছিল পৃথিবীব্যাপী মানুষের ব্যক্তি হিসেবে গড়ে ওঠা ও ভোটাধিকারের লড়াই, বিংশ শতাব্দী স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আর একবিংশ শতাব্দীর মূলমন্ত্র গ্রহণোন্মুখ গণতন্ত্র, যেখানে থাকবে সংখ্যালঘু, আদিবাসী, নারী ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার সম্বলিত টেকসই গণতন্ত্র। তাই একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে দেশে দেশে আদিবাসী স্বশাসন প্রতিষ্ঠা, আর্ন্তজাতিক বিভিন্ন চুক্তির প্রতি জাতিরাষ্ট্রের স্বীকৃতি যেমন আমাদের আশা জাগায়, তেমনি আমাদের দেশের সরকারের পক্ষ থেকে অবহেলা ও বিমাতাসুলভ আচরণ প্রতিনিয়ত আদিবাসীদের জীবন ও বেঁচে থাকাকে কঠিন করে তুলছে। তার পরও সবসময় আমরা মনে রাখি যে, মর্যাদা সহকারে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকা প্রতিটি মানুষের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার।
আজকের এই গণশুনানী থেকে আমরা সরকারের কাছে নিম্নোক্ত দাবি তুলে ধরতে চাই
 আদিবাসীদের প্রতি সকল ধরনের নির্যাতনের সঠিক বিচার করতে হবে;
 সমতলের আদিবাসীদের ভূমি সমস্যা নিষ্পত্তির লক্ষে পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করতে হবে;
 আদিবাসীদের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হিসেবে নয়, আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে;
 অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি-১৯৯৭-এর সফল বাস্তবায়ন করতে হবে;
 সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাসকৃত আদিবাসী বিরোধী পার্বত্য জেলা পরিষদ (সংশোধিত) আইন বাতিল করতে হবে;
 রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় আদিবাসীদের অংশগ্রহণের জন্য রাজনৈতিক দলসমূহ ও বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মনোগঠনের ইতিবাচক পরিবর্তন;
 জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকারে আদিবাসীদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে কোটা প্রথা প্রবর্তন;
 আইন প্রণয়নকারী, প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তন;
 পৃথক আদিবাসী মন্ত্রণালয় গঠন;
 আদিবাসীদের নিজস্ব ভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা ও আদিবাসীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি।

লেখকঃ অলি কুজুর; মানবাধিকার কর্মী; আইইডি
প্রবন্ধটি ২৮ মার্চ ২০১৭ ঢাকাস্থ আসাদগেট সিবিসিবি মিলনায়তনে ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইইডি) আয়োজিত আদিবাসীদের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক গণশুনানীতে মুল প্রবন্ধ হিসেবে পঠিত।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *