জামালপুরে ডিজিটাল জনশুমারী ও গৃহগণনায় আদিবাসী অন্তর্ভূক্তি নিশ্চিতকরণে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি পেশ

কাঞ্চন মারাক,(জামালপুর প্রতিনিধি) : জামালপুর জেলায় বসবাসরত আদিবাসীদের আসন্ন ‘ডিজিটাল জনশুমারী ও গৃহগণনা – ২২’ এ সঠিক তথ্য অনুসারে অন্তর্ভূক্তি নিশ্চিত করণে প্রধানমমন্ত্রী বরাবরে ৭ দফা দাবিতে স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে।

১৩ জুন (সোমবার) ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন (টিডব্লিউএ ) বকশীগঞ্জ উপজেলা শাখার নেতৃত্বে বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে স্মারকলিপি পেশ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাসুমা ইয়াসমিন (স্মৃতি), টিডব্লিউএ চেয়ারম্যান হোশিও ম্রং, ইউসিজিএম সভাপতি অনন্ত ম্রং, বাগাছাস সভাপতি রাহুল রাকসাম, আদিবাসী নেত্রী বিউটি ম্রং, ম্যাগদেলিনা ম্রং, ড্যামিয়েন চিরান ও খোকন সাংমা প্রমূখ।

এছাড়াও কারিতাস ময়মনসিংহ অঞ্চলের সমাজ পরিচালিত স্থায়ীত্বশীল জীবিকায়ন ও সহনশীলতা প্রকল্প কর্তৃক গঠিত বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকরা জানান, আসন্ন ‘ডিজিটাল জনশুমারী ও গৃহগণনা – ২২’ তে ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক পর্যায়ে ব্যক্তি ও গৃহের তথ্য নিয়ে সারা দেশের মানুষ ও আর্থসামাজিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে উন্নয়নের উদ্যোগ নেয়া হবে। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, ইতিপূর্বের জনশুমারীগুলোতে আদিবাসীদের শুমারী প্রহসনের মতো হয়েছে। যেমন : ১৯৮৪, ১৯৯১ ও ২০১০ সালের আদমশুমারীতে বিভাজিত আদিবাসী জনগোষ্ঠিদের নির্ভরযোগ্য তথ্য ও সঠিক বিশ্লেষণে ভুল অন্তভূক্তি দেখা গেছে। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর বিভ্রান্তিমূলক তথ্যের জন্যে পরবর্তিতে নানান সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, এবারের জনশুমারী সর্বশেষ শুমারী। তাই এতে সঠিক তথ্য বিশ্লেষনপূর্বক ৫০ টি আদিবাসীদের অন্তর্ভূক্তকরণে সরকারের জোরালো পদক্ষেপ আবশ্যক।

এ ব্যাপারে বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মুনমুন জাহান লিজা আইপি নিউজকে বলেন, ‘সরকারী গ্যাজেটভূক্ত আদিবাসী জাতিসত্তার কেউ যাতে বাদ না পড়ে এতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

৭ দফা দাবিসমূহ :

১. জনশুমারী ও গৃহগণনায় আদিবাসীদের জাতি ও গোষ্ঠীভেদে তথ্য সঠিকভাবে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে।
২. প্রতিটি খানা সরেজমিনে পরিদর্শন করে বসতবাড়ীর ধরণসহ অন্যান্য বিবরণ উল্লেখপূর্বক তথ্য সন্নিবেশ করতে হবে।
৩. একটি গৃহে একাধিক খানা থাকলে তা আলাদাভাবে তথ্য সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধ করতে হবে।
৪. খানা প্রধান ও খানা সদস্যদের নাম, পদবী সরেজমিনে গিয়ে নির্ভূলভাবে লিখতে হবে।
৫. প্রয়োজনে তথ্য সংগ্রহের সময় প্রতিটি খানা জরিপে গ্রামে আদিবাসী নেতৃ-বৃন্দের সহযোগিতা বাধ্যতামূলকভাবে নিতে হবে ।
৬. আদিবাসীদের বসতি যত প্রত্যন্ত এলাকাতেই থাকুক না কেন, তা সরেজমিনে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।
৭. জনশুমারী ও গৃহগণনার তথ্য অনুযায়ী আদিবাসীদের স্বাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.