আজ ৯ জুন মহান আদিবাসী নেতা বিরসা মুন্ডা’র ১২২তম মহাপ্রয়াণ দিবস

আজ ৯ জুন উলগুলানের মহানায়ক বিরসা মুন্ডার ১২২ তম মহাপ্রয়াণ দিবস। বিরসা মুন্ডা ছিলেন আদিবাসীদের পথ পদর্শক ও একজন সমাজ সংস্কারক। ভারত উপমহাদেশে আদিবাসীদের মুক্তির জন্য যুগে যুগে যত মহান নেতা জন্মগ্রহণ করেছেন তাদের মধ্যে বিরসা মুন্ডা অন্যতম। তিনি ব্রিটিশদের দীর্ঘকালের অত্যাচার এবং অধীন থেকে মুন্ডাদের শৃঙ্খলমুক্ত করার জন্য জীবন উৎসর্গ করছেন।

আদিবাসীদের ন্যায্য অধিকারের জন্য আধুনিক বন্দুক-কামানের বিরুদ্ধে দেশীয় অস্ত্র তীর-ধনুক দিয়ে যুদ্ধ করা কিংবদন্তি, উলগুলানের মহানায়ককে আদিবাসীরা ভগবান বিরসা বলেই মান্য করে। ব্রিটিশ শাসকদের অত্যাচার অবিচারের বিরুদ্ধে তিনি আদিবাসী মুন্ডাদের সংগঠিত করে মুন্ডা বিদ্রোহের সূচনা করেছিলেন।

বিদ্রোহীদের কাছে তিনি ‘বীরসা ভগবান’ নামে পরিচিত ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে ১৮৯৯-১৯০০ সালে ‘মুন্ডা বিদ্রোহ’ সংগঠিত হয়েছিল। রাচির দক্ষিণাঞ্চলে সৃষ্ট এই বিদ্রোহকে মুন্ডারি ভাষায় বলা হয় ‘উলগুলান’। এই বিদ্রোহের মূল লক্ষ্য ছিল স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা ও ভূমির অধিকার। এই বিদ্রোহকে মুন্ডারি ভাষায় ‘উলগুলান’ বলা হয়। যার অর্থ প্রবল বিক্ষোভ। ভারতবর্ষের মুক্তির স্বপ্নের ফেরিওয়ালা বিরসা মুণ্ডা।

বাল্যকালে সালগা গ্রামে পড়াশোনা করার পর চাইবাসা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়াশোনা করেন। বাল্যকাল থেকেই তিনি সমাজের প্রতি ও ব্রিটিশ শাসক দ্বারা অত্যাচারিত হওয়া মানুষজনকে নিয়ে চিন্তিত থাকতেন।

বিরসা মুন্ডা ১৮৭৫ সালে ১৫ই নভেম্বর তৎকালীন বিহার এবং বর্তমান ঝাড়খান্ডের খুঁটি জেলার উলিহাতু গ্রামের এক দারিদ্র পিড়িত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা সুগনা মুন্ডা এবং মা করমি হাতু।

উল্লেখ্য, বিদ্রোহের পরে বিরসাসহ তার শতাধিক সঙ্গী গ্রেপ্তার হন। বিচারে তার ফাঁসির হুকুম হয়। ফাঁসির আগের দিন ৯ জুন ১৯০০ সালে রাঁচি জেলের অভ্যন্তরে খাদ্যে বিষ প্রয়োগের ফলে বিরসার মৃত্যু ঘটে। ধৃত অন্যান্য দুজনের ফাঁসি, ১২ জনের দ্বীপান্তর এবং ৭৩ জনের দীর্ঘ কারাবাস হয়।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.