বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম মিরসরাই সম্মেলন

কমল ত্রিপুরা, মিরসরাই থেকে: আদিবাসীরা দেশে মাথা উচু করে দাঁড়াবে। শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে নিজেদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠা করবে।দেশে ৫০টির অধিক আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীকে বঞ্চিত রেখে দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারেনা। আদিবাসীদের নিজেদের অধিকার কি তা জেনে নিতে হবে। অধিকার কেউ কাউকে দেয় না তা আদায় করে নিতে হয়ে। অধিকারের জন্য আদিবাসীদের সংগ্রাম করতে হবে। ২৩ মার্চ ২০১৭ বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম,মিরসরাই উপজেলা শাখার প্রথম সম্মেলন ও কাউন্সিল উপলক্ষে আয়োজত আলোচনাসভায় বক্তারা এইসব কথা বলেন। ১নং করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের হল রুমে আয়োজিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উক্ত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব এনায়েত হোসেন নয়ন। উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি শরৎ জ্যোতি চাকমা,স্থানীয় মেম্বার কোরবা আলী,বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের জাতীয় কমিটির সদস্য ফুল কুমার ত্রিপুরা, চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক জুনিয়া ত্রিপুরা,সদস্য কমল ত্রিপুরা, ঊষাা ত্রিপুরা, পাহাড়ী শ্রমিক কল্যাণ ফোরামের সভাপতি সুমন চাকমা, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি বাবলু চাকমা,সাধারণ সম্পাদক মিলন চাকমা এবং সাংগঠনিক সম্পাদক অনুপম চাকমা প্রমুখ। সম্মেলন ও কাউন্সিলে সভাপতিত্ব করেন সাধন চন্দ্র ত্রিপুরা।
প্রধান অতিথি জনাব এনায়েত হোসেন নয়ন বলেন,বাংলাদেশ আমাদের সকলের। বাংলাদেশের সকল নাগরিক সমান অধিকার নিয়ে বাঁচবে। কোন মতেই কোন জাতিগোষ্ঠীকে উন্নয়ন প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া যাবেনা। আদিবাসীদের তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা যাবেনা। তিনি মিরসরাই এলাকার আদিবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন আপনারা যে কান ধরনের সমস্যার কথা আমাকে বলবেন। আমি আপনাদের সাথে সবসময় ছিলাম আছি এবং আগামীতেও থাকবো। তিনি বলেন,মাঠ পর্যায়ে আওয়ামীলীগের কিছু নেতার বিতীর্কত আচরণের কারনে আদিবাসীদের সাথে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের দূরত্ব সৃষ্টি করার পায়তারা হচ্ছে। তা হতে দেওয়া যাবেনা। আদিবাসীরা আগের যে কোন সময়ের চেয়ে এখন অনেক অনেক সচেতন হয়েছে। সকল আদিবাসীকে তাদের অধিকার কি তা জেনে নিতে হবে। আলোচনায় বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি শরৎ জ্যোতি চাকমা বলেন,আদিবাসীরা এখন পরিচয় সংকটে রয়েছে। এই দেশের শোষকগোষ্ঠী আদিবাসীদের আত্মপরিচয়ের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। যদিও আদিবাসীদের অধিকারের সাথে সহমত পোষণ করে এক সময় আওয়ামীলীগের প্রধান ও বিএনপি’র প্রধান বানী দিয়েছেন। অনেক নেতা আদিবাসীদের সভা সমাবেশে গিয়ে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। আদিবাসীদের বঞ্চনার জন্য ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন,যেই না জাতিসংঘ আদিবাসীদের অধিকার বিষয়ক ঘোষণা পত্র দিলো তখন থেকে এই দেশে শাসকগোষ্ঠী আদিবাসীদের আদিবাসী পরিচয় নিয়ে বিরোধীতা শুরু করে । ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে আদিবাসী না লিখে তাদের মনেরমত করে লিখিয়ে নিয়েছে। আদিবাসীরা তা মেনে নেয়নি। আদিবাসী পরিচয়ে পরিচিতি হতে আমরা সংগ্রাম করছি। এই সংগ্রাম আরো শক্তিশালী করতে আদিবাসীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তাই আমাদের এই প্রচেষ্টা। তিনি আরো বলেন, সামন্ত প্রথার কারনে পাহাড়ে এক সময় সাধারণ মানুষরা স্কুলে যেতে পারতো। অন্ধকারে ছিল। এই প্রথাকে ভেঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষা ও রাজনৈতি অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার নেতৃত্বে সংগ্রাম শুরু হলে তৎকালীন সামন্তীয় নেতৃত্ব বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে। সামন্ত প্রভুরা তাদের কর্তৃত্ব জিউয়ে রাখতে তৎপর ছিল। কিন্তু মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা বুঝতে পেরেছিলেন এই সামন্ত নেতৃত্বের বিরুদ্ধে না দাড়াতে পারলে আদিবাসী সমাজ অন্ধকারেই থাকবে। এমএন লারামর নিরন্তর সংগ্রামে আজ পাহাড়ী মানুষ পার্বত্য চুক্তি অর্জন করেছে। চুক্তির আলোকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিসয়ক মন্ত্রনারয়,আঞ্চলিক পরিষদ,জেলা পরিষদ,ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন ও আইনসহ কিছু অধিকারের স্বীকৃতি পেয়েছে। সমতল আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠনের দাবি জানানো হচ্ছে। তাই সমতল আদিবাসীদের ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামে থেকে অধিকারের জন্য সংগ্রাম করে যেতে হবে। বক্তরা সবাই আদিবাসীদের অধিকার সচেতন হতে এবং নিজেদের অধিকার কি তা জেনে নিতে শিক্ষিত নেতৃত্ব গড়ে তোলার উপর জোরদেন। সম্মেল শেষে সাধন চন্দ্র ত্রিপুরাকে সভাপতি,সুরেন্দ্র ত্রিপুরাকে সাধারণ সম্পাদক এবং মতি ত্রিপুরাকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট আদিবাসী ফোরামের মিরসরাই উপজেলা শাখা গঠন করা হয়।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *