প্রতিবেশ ও জনজীবন ধ্বংস করে সাদামাটি আহরণ চাই নাঃ নাগরিক প্রতিনিধিদল

গতকাল শনিবার (২৩ এপ্রিল)দুর্গাপুর ও ধোবাউড়ার সাদামাটি এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন শেষে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে নাগরিক প্রতিনিধিদলের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত মতবিনিময় সভায় প্রতিনিধিদলের উপস্থাপিত লিখিত বক্তব্যটি আইপিনিউজের পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হল। লিখিত বক্তব্যটি উপস্থাপন করেন প্রতিনিধি দলের সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. রোবায়েত ফেরদৌস।

আমরা ১০ সদস্যের নাগরিক প্রতিনিধিদল গত ৮, ৯ ও ১০ এপ্রিল ২০২২ তারিখে নেত্রকোণা জেলার দুর্গাপুরে ও ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়ায় কয়েকটি সাদামাটি আহরণস্থল পরিদর্শন করি এবং স্থানীয় জনজীবন ও প্রতিবেশে এর প্রভাব অবলোকন করি। আমরা উক্ত দুটি উপজেলার কয়েকটি গ্রামে গিয়ে স্থানীয় হাজং, মান্দি ও বাঙালি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলি। দুর্গাপুর প্রেসক্লাবে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সাথে মতবনিমিয় এবং নেত্রকোণা জেলা প্রশাসকের সাথেও সাক্ষাৎ করি। আমাদের এই নাগরিক প্রতিনিধি দলের সদস্যরা হলেন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, আইনজীবী ও সাংবাদিক প্রকাশ বিশ্বাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন, সাংবাদিক নজরুল কবীর, সাংবাদিক ও গল্পকার রাজীব নূর, অনুবাদক ও সাংবাদিক মুহাম্মদ হাবীব, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক দীপায়ন খীসা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী অনামিকা আহমেদ, ও নাগরিক উদ্যোগ প্রতিনিধি ফারহান হোসেন জয়। নাগরিক প্রতিনিধিদলের সরেজমিন পরিদর্শনে আমরা যা দেখেছি তা তুলে ধরা এবং এই বিষয়ে আলোচনা উত্থাপনের জন্য আজকের এই আয়োজন।

দুর্গাপুরে যা নিষিদ্ধ করা হয়েছে তা অবাধে চলছে ধোবাউড়ায়
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) করা রিট পিটিশনের (নং ১১৩৭৩/২০১৫) প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বিভাগ ২০১৭ সালের ১৯ জুলাই নেত্রকোণা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার মেজপাড়া, আরাপাড়া ও পাচকানাইহা মৌজা থেকে পরিবেশ ছাড়পত্র ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা ব্যতীত এবং নির্বিচারে পাহাড় ও টিলা কেটে সাদামাটি আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন এবং এমন কাজকে জনস্বার্থের পরিপন্থী বলে আখ্যা দেন। এর ফলে দুর্গাপুরের উল্লেখিত মৌজাসমূহে সাদামাটি আহরণ প্রায় ২ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। অথচ সামান্য দূরেই ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় একই কায়দায় অপরিকল্পিতভাবে টিলা কেটে এখন সাদামাটি উত্তোলন অব্যাহত আছে। সেখানে একই পাহাড়, একই প্রকৃতি, একই জীববৈচিত্র। এক জায়গায় ভারসাম্য নষ্ট হলে অন্য জায়গায়ও ভারসাম্যহীনতা তৈরি হবে। শুধু ভিন্ন জেলায় পড়েছে বলে তো প্রতিবেশগত প্রভাব কম হবে না।

আমরা সাদামাটি উত্তোলনের বর্তমান এলাকা পরিদর্শন করে দেখেছি যে, দুর্গাপুরের তিনটি মৌজায় যেভাবে সাদামাটি আহরণ কাজ পরিচালিত হতো তার থেকে ধোবাউড়ায় খননকাজে বস্তুত কোনো পার্থক্য নেই। রাষ্ট্রীয় আইন, বিধিবিধান ও প্রটোকল অগ্রাহ্য করে টিলা কেটে চলছে সাদামাটি আহরণ। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে বহু গুণ বেশি মাটি উত্তোলন করে সময়মতো তা অপসারণ না করতে পেরে উত্তোলনস্থলে মাসের পর মাস স্তুপ করে ফেলে রাখা হচ্ছে। আবার উত্তোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে যে মাটি তোলা হয় সেটা কাজে লাগে না বলে এখন কৃষিজমিতে ফেলে রাখা হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে শুধুমাত্র মূল্যবান সাদামাটি উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, উত্তোলনের যে নানামুখী প্রভাব রয়েছে সেসব একেবারেই আমলে নেওয়া হচ্ছে না। অথচ আহরণস্থলে সরকারি কোনো তদারকি নেই। পরিদর্শনকালে আমরা জানতে পেরেছি, সাদা মাটি উত্তোলনের জন্য ধোবাউড়া উপজেলায় আরো কয়েকটি টিলা কিনে ফেলা হয়েছে, যদিও এখনও খনন শুরু হয়নি। ইতিমধ্যে সেখানকার প্রতিবেশ ও জনজীবনও একই রকম বিপন্নতার মুখোমুখি। ধোবাউড়ার ভেদীকুড়া মৌজায় সাদামাটি আহরণের ফলে, স্থানীয় আদিবাসীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিবেশগত বিপর্যয় দেখা দিয়েছে এবং পাহাড় ও পাহাড়ী বনের উপর নির্ভরশীল হাজং, মান্দি ও অন্যান্য আদিবাসীদের জীবন ও জীবিকা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে: বন ও গাছপালা ধ্বংসপ্রাপ্ত, বহু বন্যপ্রাণী বিলুপ্ত, জীববৈচিত্র বিপন্ন, পানি দূষণ, খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে। কিছুদিন আগেও যেখানে খরগোশ পাওয়া যেত সেখানে আর খরগোশ নেই; খননের ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় কৃষিকাজ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে; ভারি যানবাহনের কারণে শব্দ দূষণ ও রাস্তাঘাট ভেঙ্গে পড়ার মতো ঘটনা ঘটছে। যে পাহাড় ও বন এই অঞ্চলের জানা ইতিহাসের পুরোটা সময় হাজং, গারো ও অন্যান্য আদিবাসীদের জন্য ছিল বাসযোগ্য নিজস্ব আবাসভূমি সেটাই এখন অপরিকল্পিত ও নির্বিচার সাদামাটি আহরণের ফলে ক্রমশ অবাসযোগ্য হয়ে উঠছে।


দুর্গাপুরের ক্ষতিগ্রস্থ আদিবাসীরা কেমন আছেন

হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশের ২ বছর পরও দুর্গাপুরের মানুষ অদ্যাবধি সাদামাটি উত্তোলনের প্রভাব খেকে মুক্ত হতে পারেনি। প্রতিবেশ ও জনজীবনে সাদামাটি আহরণের ক্ষত এখনও দৃশ্যমান। দুর্গাপুরের সাদামাটি এলাকার আদিবাসী ও বাঙালিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে আমরা জানতে পেরেছি তাদের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা ও স্মৃতির বয়ান।

নির্বিচারে পাহাড় ও টিলা কেটে সাদামাটি উত্তোলনের সাক্ষী আজও বহন করে চলেছে দুর্গাপুরের সাদামাটি এলাকাগুলো। প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র নষ্ট করে যেভাবে ক্ষতবিক্ষত, দুমড়ানো, মোচড়ানো অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে সেই দৃশ্য ভয়ংকর ও বীভৎস। কোনো শৃঙ্খলার লক্ষণ কোথাও নেই। কোনো জায়গা খননের পর সেটি আবার ব্যবহারোপযোগী এবং গাছপালা ও জীববৈচিত্রের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ করে তোলার কোনো দায়দায়িত্ব খননকারী কোম্পানিগুলো পালন করেনি। আহরণস্থলগুলো ঠিকঠাক করার, মেরামত করার কোনো কাজ না করে দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে ফেলে রাখার দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে একসময়ের টিলা থেকে গভীর খাদে পরিণত হওয়া এসব জায়গা। এগুলো খোলা পড়ে আছে, কোনো সতর্কবার্তাও নেই। দুর্ঘটনাপ্রবণ এসব খাদে পড়ে ও পানিতে নেমে বহু আদিবাসী শিশু ও পর্যটকদের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। স্থানীয় সাংবাদিকরা আমাদের জানিয়েছেন, ১৯৭৪ সাল থেকে আজ পর্যন্ত ৩৭ জন মানুষ এসব মৃত্যুকূপে পতিত হয়ে মারা গেছেন। এই প্রাকৃতিক সম্পদ আদিবাসী ও স্থানীয় বাঙালিদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কোনো উপকারে তো আসছেই না, বরং আক্ষরিক অর্থেই তাদের জীবন ও সম্ভাবনা ধ্বংস করছে।
দুর্গাপুর উপজেলার কুল্লাগড়া ইউনিয়নের নেথপাড়া গ্রাম থেকে হদি জনগোষ্ঠীর একটি পাড়া পুরোপুরি উচ্ছেদ হয়ে গেছে। গত দুই দশকে কয়েক দফা বাস্তুচ্যুতির ফলে এসব পরিবারের কোনো হদিশও আর এলাকাবাসীরা দিতে পারেননি। অন্যদিকে, একই উপজেলার রানীখং ইউনিয়নের বগাউড়া গ্রাম থেকে গত ১৫ বছরে ১১টি হাজং পরিবার নিজভূমি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। দুর্গাপুর ও ধোবাউড়ায় সাদামাটি আহরণের প্রেক্ষাপটে আদিবাসী ও বাঙালিদের বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে বিভিন্ন রূপে। পাহাড় ও টিলা কেটে সাদামাটি উত্তোলনের ফলে একদিকে যেমন বন ও পাহাড়-নির্ভর আদিবাসী জীবন ও জীবিকা বিপন্ন হয়েছে, অন্যদিকে খননের ফলে গভীর খাদ তৈরি হওয়ায় ক্ষয়ে যাচ্ছে পার্শ্ববর্তী আবাসভূমি। অপরিকল্পিতভাবে ও অত্যধিক গভীরে খননের ফলে পার্শ্ববর্তী জায়গায় বেশ কিছু ভূমিধ্বসের ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয় আদিবাসী ও বাঙালীরা আমাদের জানিয়েছেন। যার ফলে পরবর্তীতে সেসব পরিবার সেখান থেকে উচ্ছেদ হতে বা সাদামাটি উত্তোলনের জন্য নিজভূমি বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। সেই জায়গাও চলে আসছে সাদামাটি উত্তোলনকারীদের কবজায়। আর এভাবে যদি তারা জবরদখলের শিকার নাও হন, খাদ ও ভূমিধ্বসের আবর্তে পড়ে ধ্বসে যাচ্ছে স্থানীয় জনজীবন।

কী পরিমাণ সাদামাটি উত্তোলন করা হয়েছে তা তদারকির কোনো কৌশল বিদ্যমান না থাকায় কোনো কোম্পানি প্রশাসনিক অনুমতি পেলে তার পক্ষে ইচ্ছামাফিক খনন ও উত্তোলন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে কিছুদিন পর এই অঞ্চলে আদৌ কোনো টিলা ও টিলার বাস্তুসংস্থান অবশিষ্ট থাকবে কিনা সন্দেহ। এখানকার খননকারী কোম্পানি ও তার অংশীদাররা যাবতীয় লাভের অধিকারী হচ্ছে অথচ স্থানীয় আদিবাসী ও বাঙালিরা এর সব নেতিবাচক ফল ভোগ করছে।

এই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা রাষ্ট্রের কাছে দাবি জানাই:
•পরিবেশগত সুরক্ষার প্রশ্ন বিবেচনায় না নিয়ে অপরিকল্পিত ও ধ্বংসাত্মক উপায়ে প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের যে আয়োজন তা বন্ধ করতে হবে। দুর্গাপুরের তিনটি মৌজায় বন্ধ হলেও পার্শ্ববর্তী ধোবাউড়ায় তা অবাধে চলছে। আমরা মনে করি পুরো অঞ্চলেই এই প্রক্রিয়াটি বন্ধ করতে হবে।
•সাদামাটি উত্তোলনের ফলে যেসব আদিবাসী ও বাঙালি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন তাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করতে হবে।
•ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার ও ব্যক্তিবর্গের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও যথাযথ পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।
•পরিবেশ-প্রতিবেশগত ভারসাম্য ধ্বংসের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করতে হবে এবং দায়িদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
•পরিবেশ ও জৈববৈচিত্রের সঙ্গে ভারসাম্যহীন উপায়ে যেভাবে খননকাজ করা হয়েছে এবং খননের পর বিদ্যমান কোনো প্রটোকল না মেনে সংশ্লিষ্ট জায়গা যেভাবে ফেলে রাখা হয়েছে, সেটা পুনরায় জীববৈচিত্রের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে এবং এর আর্থিক দায়ভার খননকারী প্রতিষ্ঠানকে বহন করতে হবে।
•খননের ফলে সৃষ্ট খাদ বা খাদের পানিতে পরে বিভিন্ন সময় শিশুসহ বেশ কিছু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। আমরা মনে করি অবিলম্বে সেখানে এমন ব্যবস্থা করতে হবে যাতে এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করা যায় এবং এই পর্যন্ত যারা নিহত হয়েছেন সেই সব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে।
•পাশাপাশি আমরা মনে করি সোমেশ্বরী নদী হতে যেভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে সেটাও পরিবেশ ও প্রতিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। বালু উত্তোলনের ক্ষেত্রেও বিদ্যমান আইন, বিধিবিধান ও প্রটোকল মেনে চলা উচিত। বালুর ট্রাক চলাচলের ফলে দুর্গাপুরবাসী প্রতিদিন যে দুর্ভোগ ও স্বাস্থ্যগত ক্ষতির শিকার হন তা লাঘব করার জন্য একটা বাইপাস সড়ক নির্মাণ খুব জরুরি।
•প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনজীবন ও প্রতিবেশের উপর যেন প্রতিকূল প্রভাব না পড়ে তা রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে।
•খনন কাজের সময় স্থানীয় পর্যায়ে খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কোনো মনিটরিং থাকে না। মনিটরিং থাকা অত্যন্ত জরুরি। পর্যটন ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় থাকাও খুব দরকার।
•মাটি উত্তোলনে নিয়োজিত শ্রমিকদের উপযুক্ত মজুরি প্রাপ্তি এবং স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা নিশ্চিতের জন্য বিদ্যমান আইএলও কনভেনশন একদমই মানা হচ্ছে না। শ্রমিকদের এই স্বার্থের বিষয়টিও দেখার জন্য আমরা দাবি জানাচ্ছি।

পরিশেষে, এই অঞ্চলে বাঙালি ছাড়াও হাজং, গারো, হদি ও বানাইসহ বিভিন্ন আদিবাসী প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বাস করেন যাদের জীবন-জীবিকা হুমকির সম্মুখীন, রান্নার জ্বালানি ও সুপেয় পানির সংকট রয়েছে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের অধিকার সীমিত। তাদের জীবনমান উন্নয়নে, তাদের ভূমি অধিকার নিশ্চিতকরণে, তাদের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র সংরক্ষণে, শিক্ষার প্রসারে এবং তাদের নারীর নিরাপত্তা ও শিশুর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
ধৈর্য্য সহকারে বক্তব্য শোনার জন্য সকলকে অশেষ ধন্যবাদ।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.