অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও সুরক্ষায় কাজ করে পুরস্কৃত হলেন সুবর্ণা চাকমা

সতেজ চাকমা: গতকাল শনিবার (২ এপ্রিল) “বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস” উপলক্ষে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। এ অনুষ্ঠানে অটিজম ও প্রতিদ্বন্দ্বী শিশু- কিশোরদের নিয়ে বিশেষভাবে কাজ করায় পাহাড়ের আদিবাসী নারী সুবর্ণা চাকমাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। এতে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে সংযুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পুরষ্কার প্রাপ্তির অনুভূতি ব্যক্ত করে আইপিনিউজকে সুবর্ণা চাকমা বলেন, যে কোনো পুরষ্কার প্রাপ্তি যে কারোর কাছে আনন্দের। কাজেই এই পুরষ্কার পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত যে আমি আমার কাজের স্বীকৃতি পেয়েছি।

তিনি আরো বলেন, বিগত ২০০০ সাল থেকে ২২ বছর ধরে আমি অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে কাজ করি। অন্যদিকে ৩২ বছর ধরে অটিজমের সাথে বসবাস আমার। আমার নিজের ছেলের মধ্যেও অটিজমের লক্ষণ বিদ্যমান। আমি জানিনা, তার মধ্যে এই ধরণের লক্ষণ যদি না থাকতো তাহলে আমি এ কাজে যুক্ত হতাম কী না। তবে এ কাজে যু্তে হয়ে যা কিছু করেছি তার মধ্যে যে কাজটির জন্য আমি মুখিয়ে আছি তাহল- অটিজমে আক্রান্তদের জন্য স্থায়ী পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা। কেননা, বাবা-মা এর অনুপস্থিতে এরা কোথায় যাবে তার জন্য আমাদের চিন্তা করতে হয়। আমি চাই এই পুনর্বাসন কেন্দ্রে এই শিশুরা যেন সারা জীবন আনন্দপূর্ণ পরিবেশে জীবন যাপন করতে পারে।

সমাজকল্যান মন্ত্রীর হাত থেকে পুরষ্কার নিচ্ছেন সুবর্ণা চাকমা। ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে সংযুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ।

উল্লেখ্য যে, ২০০৭ সালে ২ এপ্রিলকে ‘বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস’ হিসেবে পালনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর থেকে প্রতিবছর দিবসটি পালন করছে জাতিসংঘ। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে “বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস” পালন করা হয়। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল “এমন বিশ্ব গড়ি, অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তির প্রতিভা বিকশিত করি।”
অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও সুরক্ষার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবার ৯ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কারে ভূষিত করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এমপি চার ক্যাটাগরিতে অটিজমে আক্রান্ত তিন শিশু, তিনটি সংস্থা, দুজন ব্যক্তি এবং একজন মায়ের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এর মধ্যে অটিজমে আক্রান্ত তিন শিশু মাসুদুল ইমান, মুনতাসির ইনাম এবং ইসাবা হাবিব সুশমির প্রত্যেকের হাতে একটি ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট এবং ৫০ হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়।

অটিজম আক্রান্তদের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে অবদান রাখায় তিন সংস্থা এনআই খান ফাউন্ডেশন, বেসরকারি টেলিভিশন আরটিভি এবং ফাউন্ডেশান ফর উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন পুরস্কার পেয়েছে।অন্যদিকে দুজন ব্যক্তি মধ্যে সুবর্ণা চাকমা ছাড়াও সম্মাননা পেয়েছেন অধ্যাপক খন্দকার আবদুল্লাহ আল মামুন। এদিকে অটিস্টিক শিশুর সফল মা শারমিন চৌধুরীকেও পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। অনুষ্ঠানে অটিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পক্ষে ছোট্ট শিশু ইসাবা হাবিব সুশমি বক্তব্য দেন।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.