নাম তার খৃষ্টিনা বিশ্বাস

সূভাষ চন্দ্র হেমব্রম, রাজশাহী: নাম তার খৃষ্টিনা বিশ্বাস, তিনি জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করছেন ২০১১ সাল থেকে এছাড়া তিনি একজন মানবাধিকার কর্মী ও সংগঠক হিসেবে ১৯৯৩ সাল থেকে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তার পিতা মুকুন্দ বিশ্বাস, মাতা দেবী বিশ্বাস,স্বামী মার্তিন বিশ্বাস। তিনি একজন আদিবাসী পাহাড়িয়া সম্প্রদায়ের মানুষ।

তার জন্ম ১৫ অক্টোবর ১৯৫৭, নাটোরের লালপুর উপজেলার দরশুলী গ্রামে। ১৯৫৮ সালে অন্ধারকোঠা মিশন থেকে ৫ শ্রেণি পাশ করেন। বর্তমানে তিনি রাজশাহী জেলার পবা উপজেলার হড়গ্রাম ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মিয়াপুর গ্রামে বসবাস করেন। খৃষ্টিনা বিশ্বাস, “বলেন আমি ১৯৯৩ সাল থেকে এই অদ্যবদী কাজ করে যাচ্ছি। আমি নিজের জন্য কিছু করে নি। আমি সব সময় নেতৃত্ব বিকাশ ও সংগঠক কে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি আমরা আদিবাসী। আমাদের রয়েছে পৃথক ভাষা ও সংস্কৃতি, তা বাঁচিয়ে রাখতে চাই। সাথে সাথে একত্রিত ভাবে আমরাও নিজের অধিকার নিয়ে বাঁচতে চাই। ১৯৯৩ সাল থেকে সংগ্রাম করে আজ পর্যন্ত আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি পাই নি। আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, পৃথক ভূমি কমিশন ও মন্ত্রনালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানায়ে আসছি, সরকার কবে দিবে। সেই আশায় আশায় ২৯ বছর ধরে অপেক্ষায় আছি।

শুরুর দিকে পবা উপজেলার ২৫ টি আদিবাসী গ্রামে গ্রামে আমি পায়ে হেঁটে হেঁটে সংগঠন কাজ করেছি। আমি বাড়ি মিয়াপুর থেকে সাহেব বাজার ৮ কিলোমিটার হেটে গিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশ করেছি। আমি বিভিন্ন কর্মসূচীতে গেলে এলাকায় লোকজন আমাকে, আমার অন্য কর্মদের বলতো মিটিং, মিছিল, সমাবেশে গেলে গুলি করে মারবে ভয়ভিতি দেখাতো, তারপর আমি হাল ছাড়েনি কাজ করে যাচ্ছি। নিজেদের ভূমির অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার, সমাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছি। আমি শুধু রাজশাহীতেই না, রাজশাহী বাহিরে দিনাজপুর, নওগাঁ, চাপাই নবাবগঞ্জ, রাজধানী ঢাকাতেও বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশগ্রহন করে আসছি আদিবাসীদের অধিকার আদায়ের জন্য।” ব্যাক্তিজীবনে তিনি ২ ছেলে, ২ মেয়ের জননী, গত কয়েক বছর আগে ১ মেয়ে মারা যান। পৈতিক বা অর্জত কোন সম্পত্তি নেই। ক্যাথিডাল মিশন এর জায়গায় বসবাস করেন।

এছাড়াও এখানে প্রায় পাহাড়িয়া ৫০টি পরিবার, সাঁওতাল ৪০টি পরিবার ও উরাও ৩টি পরিবারের বসবাস রয়েছে। তিনি আয়ের উৎস হিসেবে কৃষি জমিতে দিন মজুরি করে দিনযাপন করেন ও ২- ৩ ছাগল পালন করেন।অর্থ আয়ের নিদিষ্ট কোন উৎস নেই। ছেলে -মেয়েদের রিয়ে দিয়েছেন সকলে আলাদা থাকে। অসুস্থ হয়ে ছেলে- মেয়ে অর্থ দিয়ে চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা করে। অর্থ সংকটের কারণে ছেলে-মেয়েদের খুব বেশি দূর লেখা পড়া করাতে পারেন নি।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.