বিরূপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হন ঢাবির আদিবাসী নারী শিক্ষার্থীরাও

সময়ের বিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলেছেন আজকের আদিবাসী নারীরা। তাদের চিন্তাধারায় যেমন পরিবর্তন ঘটেছে তেমনি নানা প্রতিকূলতাকে পাশ কাটিয়ে অর্থনীতি, রাজনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি সব ক্ষেত্রেই অবদান রেখে চলেছেন। চিরচেনা পরিবেশকে বিদায় জানিয়ে উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য শহরমুখী হতে হচ্ছে আদিবাসী নারীদের এবং সেই সাথে মুখোমুখি হতে হয় নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে আদিবাসী নারীরা শিক্ষাজীবনে বিরূপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হন তা নিয়ে আইপিনিউজের পাতায় লিখেছেন ২ জন আদিবাসী নারী শিক্ষার্থী।

প্রিয়াসী চাকমা

ইউনিভার্সিটি তে এসে নতুন পরিবেশে পা রাখাটা আমার জন্য ছিল আনন্দময়। সাথে একটু ভয় ছিল যে, এত বড় শহরে আমি খাপ খাইয়ে নিতে পারবো কি না আমার পরিবার থেকে দূরে এসে। প্রথম প্রথম দেখতাম মানুষ জন কিছু না বললেও আসা যাওয়ার পথে আমার দিকে তাকিয়ে আছে যেটা আমি যে ওদের থেকে “আলাদা” এই অনুভূতি এনে দিত। ক্লাসের অরিয়েন্টেশনেও আমি একাই আদিবাসী ছিলাম। তবে আমার ডিপার্টমেন্টে ওভাবে কখনো বিরূপ পরিস্থিতির সামনে আমি পড়িনি। কেউ কেউ আমাদের ভাষায় এটা ওটাকে কি বলে, কিভাবে বলে সেসব জানতে চাইতো, আমাদের খাবার দাবার নিয়ে জানতে চাইতো। তবে এই ব্যাপারটা দৃষ্টিভঙ্গির উপরও নির্ভর করে কে কিভাবে জানতে চাচ্ছে। তার মধ্যে কারো কারো প্রশ্নের উত্তর দেওয়াটা আমি প্রয়োজন মনে করিনি। তবে ক্যাম্পাসে বা ক্যাম্পাসের বাইরে কখনো কখনো ‘চাইনিজ’, ‘রোহিঙ্গা’ এমন তকমা প্রায় আমার সাথে লেগে যায় এবং ব্যাপারগুলো এমন হুট করে ঘটে, সাথে সাথে কিছু জবাব দেওয়ার মতো অবস্থা সবসময় থাকে না।

আবার আমার ডিপার্টমেন্ট নিয়ে যখন কেউ জানতে চাইতো, বা আমার বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে জানতো সবসময় এই প্রশ্ন তৈরী থাকতো, কোটায় আসা হয়েছে কি না যেন পাশ না করে আমাকে ভর্তি করানো হয়েছে। দু’বছর আগে ক্যাম্পাসের এক অফিস স্টাফও ঠিক এই প্রশ্ন করেছিলেন সাথে জানতে চেয়েছিলেন আমরা যেহেতু “ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী”, আমি সেই শব্দটার ইংরেজি জানি কি না। উনার কাজ ছিল শুধু কাগজপত্র দেখে জমা নেওয়া কিন্তু যেহেতু আমি এক ছোটোবোনকে নিয়ে তাকে সাহায্য করতে সেখানে যাই এবং আমরা ছিলাম মেয়ে তাই এসব নিয়ে প্রশ্ন করে আমাদের বিব্রত করার চেষ্টা করেছেন। এছাড়াও আমাদের নিয়ে অযাচিত আগ্রহটা আমার কাছে বেশ বিরক্তিকর।

কমলা মারমা

ঢাকা শহরে আদিবাসী মেয়েরা ক্যাম্পাসের বাইরে চলাফেরা করলে যে সমস্যার মুখোমুখি হয়, আমার সাথেও তা হয়েছে। আমি বলব ইভটিজিং করা হয় কারণ ওরা আমাদের দেখলে চাইনিজ ফাইনিজ, চ্যু ফ্যাং শব্দ করে, যেগুলো আমার শুনতে খারাপ লাগে। সেইসব হয়ত বাঙালী মেয়েদের সাথে হয় না। ক্যাম্পাসে গত বছর বইমেলার সময় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকসেবীরা আমাকে টিজ করে। তখন আমার সাথে দুইজন ছেলে বন্ধু ছিল কিন্তু ওরা কিছু বলেনি বরং আমি প্রতিবাদ করেছি। পরে ওরা ওদের মত চলে গিয়েছে। ক্যাম্পাসের বাইরে গেলেও এসব ঘটনা প্রায়শই আমাদের সাথে ঘটে।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.