কলমাকান্দায় মুক্তিযোদ্ধার উপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ

কলমাকান্দা প্রতিনিধি: নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা থানাধীন গোবিন্দপুর গ্রামে মঙ্গলশ্বরী নদীতে অবৈধ্যভাবে পাথর ও বালু উত্তোলন ও শহীদ মারিয়া স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে ফেলার প্রতিবাদ করায় বীর মুক্তিযোদ্ধা উইলসন কুবির উপর হামলার প্রতিবাদে মানবন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২১ জানুয়ারী শুক্রবার দুপুরে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত সমাবেশটি বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও বাগাছাস কলমাকান্দা উপজেলা শাখা যৌথভাবে আয়োজন করে।

বাগাছাস কলমাকান্দা শাখা সংসদ সভাপতি তামস মানখিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেফিরাজ দোলন কুবি, এ্যাড. রাকসেং মানখিন, বাবুল নাফাক, পি এন নংমিন, পেট্রিক চিসিম, সেলিনা ঘাগ্রা প্রমূখ।

সমাবেশে বক্তারা জানান, এই এলাকাজুরে বালু দস্যু আবুল কালাম (৪২) ও আবু সামাদ (৩০) গং বহুদিন ধরে সরকারী ইজারা ছাড়া অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন করে আসছে। প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ায় না। মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙায় বীর মুক্তিযোদ্ধা উইলসন কুবি প্রতিবাদ জানালে বালুদস্যুদের হামলায় তিনি আহত হন।

প্রশাসনকে অবৈধ্য বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধ এবং দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

বাগাছাস ঢাকা মহানগর সভাপতি প্যাট্রিক চিসিম বলেন, “যে দেশে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ ও জাতির সূর্যসন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের নিরাপত্তা নেই। সে দেশে আদিবাসীদের বেঁচে থাকা প্রশ্নবিদ্ধ।”

এছাড়াও বক্তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নাহলে কঠোরতম আন্দোলনের হুশিয়ারী দেন।

ঘটনাটি গত ১২ জানুয়ারী বুধবার বিকালে ময়মনসিংহের কলমাকান্দা উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামে ঘটেছে।

এলাকা সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে সীমান্তবর্তী গোবিন্দপুর গ্রামের মঙ্গলশ্বরী নদী থেকে প্রভাবশালী বালুদস্যু আবুল কালাম (৪২) ও আবু সামাদের (৩১) নেতৃত্বে সরকারী ইজারা ছাড়া অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলন করে আসছে। এতে মঙ্গলশ্বরী নদী মৃতপ্রায় ও এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

এব্যপারে সন্ত্রাসী হামলার শিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা উইনসন কুবি আইপি নিউজকে বলেন, “ঘটনার দিন যখন দেখলাম অবৈধ বালু ও পাথরবাহী লড়ি মুক্তিযুদ্ধে শহীদ মারিয়া স্মৃতি সমাধিস্থলের আংশিক অংশ ধাক্কা দিয়ে ভেঙে ফেলেছে, আমি তখনই এর প্রতিবাদ করি। কথা কাঁটা-কাটি হয়, এক পর্যায়ে ওরা আমাকে হামলা করে এবং আমি আহত হই।”

তিনি আরোও বলেন, “মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছি, আজ মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ রক্ষা করতে এই প্রতিদান পেলাম। আমি বাংলাদেশ সরকারের কাছে এর যথাযোগ্য বিচার চাই।”

আরেকজন হামলার শিকার বাগাছাস কলমাকান্দা শাখার সভাপতি তামস মানখিন আইপিনিউজকে বলেন, “সীমান্তে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে পাথর ও বালু দস্যুরা। কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়না। ওরা শুধু বীর মুক্তিযোদ্ধার উপর নয়, স্বাধীন দেশের প্রতিটা নাগরিকের উপর হাত তুলেছে। এর কঠিনতম বিচার নাহলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”

এতে ওই এলাকাতে চাঞ্চল্যকর উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলিতে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় বইছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সেদিনই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

এব্যপারে কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল আহাদ খান বলেন, “ঘটনার পরদিনই আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং তদন্ত করি। আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।”

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় আব্দুল কালাম (৪২), আবু সামাদ (৩১) ও আব্দুল জলিলের (৩৬) নামে থানায় সাধারণ ডায়রী করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.