অনিল মারান্ডি আজীবন আদিবাসী অধিকারের জন্য লড়েছেনঃ অনলাইন স্মরণসভায় বক্তারা

আইপিনিউজ ডেক্স (ঢাকা): গত ৯ জানুয়ারী ছিল চারণ জননেতা অনিল মারান্ডির তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। তার তৃতীয় প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের আয়োজনে আইপিনিউজের সম্প্রচারণে এক অনলাইন স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং। অনুষ্ঠানে সংযুক্ত ছিলেন ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন, লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ।

ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, “এ পর্যন্ত আদিবাসীদের আন্দোলনে জীবন থেকে পাঠ নেয়া লোক,স্বশিক্ষিত মানুষ, আত্মনিবেদিত মানুষ, নির্যাতিতদের জন্য নিজের জীবনকে বাজি ধরে তিনি লড়বেন-মরবেন, দারিদ্রের কষাঘাত সহ্য করবেন এরকম দুর্লভ উদাহরণ বেশি নেই। অনিল মারান্ডির তিরোধান শূন্যতা পূরণ হচ্ছে না।” অনিল মারান্ডির স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে তিনি একটি স্মারক গ্রন্থ প্রকাশ, তার নামে পাঠাগার করারও প্রস্তাব করেন এই প্রবীণ নেতা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল বলেন, অনিল মারান্ডি ছিলেন শেকড় থেকে উঠে আসা নেতা। আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমরা তাকে অকালে হারিয়েছি। আদিবাসীদেরকে লেখাপড়ায় নিয়ে আসা, তারা যেন ঝরে না পরে,তারা যেন পড়ালেখাটা আত্মস্থ করে এবং সেটি করতে গেলে নিজ মাতৃভাষার মতো আদর্শ আর কিছু নেই। সেটি করার ক্ষেত্রে অনিল মারান্ডি হচ্ছেন পথিকৃৎ।

অনিল মারান্ডি সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সঞ্জীব দ্রং বলেন, অনিল মারান্ডি’র জন্য আমরা অনেক কিছু করতে পারিনি। আমাদের রাষ্ট্র, আমাদের সমাজ অনিল দা’র মত মানুষের পাশে দাঁড়ায় না। অনিল দার সাথে আমার দেখা হয়েছিল ৯৩-৯৪ সালের দিকে। ‘আদিবাসী মেয়ে’ বইয়ে আমি অনিল দা’কে নিয়ে একটি কলাম লিখেছিলাম। অনিলদা সহ আমরা নবাই বটতলা নামে একটি গ্রামে গিয়েছিলাম। অনিল মারান্ডির সংগ্রাম এবং ত্যাগ আমরা যেন মনে রাখার চেষ্টা করব।

আদিবাসী নেতা রবীন্দ্রনাথ সরেন বলেন, অনিল মারান্ডির ইতিহাস মুখে মুখে আর কতদিনই বা থাকবে, কেই বা জানবে যদি না কোনো লিখিত ডকুমেন্ট তৈরি করতে না পারি এবং এই ডকুমেন্ট তৈরি করার জন্য সকলের সহযোগিতা লাগবে এবং কিছু মানুষকে কাজ করতে হবে। তিনি মানুষের জন্য, মানবতার জন্য, দুঃখী মানুষের জন্য লড়াই করে গেছেন। তিনি প্রমাণ করে গেছেন আদিবাসীদের যদি অধিকার আদায় করতে হয় তাহলে সংগ্রাম করতে হবে।

গবেষক পাভেল পার্থ বলেন, অনিল মারান্ডির হয়তো জাতিগত পরিচয় আছে, উনি সাঁওতাল এবং তিনি হয়তো অধিকতর আদিবাসীদের জন্য কাজ করেছেন কিন্তু আমাদের বিশ্লেষণে অনিল মারান্ডি বাংলাদেশের শোষিত নিপীড়িত মানুষের একজন নেতা।

বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী জান্নাত ই ফেরদৌসী বলেন, অনিল মারান্ডি তৃণমূল পর্যায়ের অনেক বড় নেতা ছিলেন। অনিল দা’র স্বপ্ন ছিল, ভাবনা ছিল আদিবাসী জীবনের জন্য। তার যে লড়াই ছিল জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি সে লড়াই করে গেছেন।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হরেন্দ্র নাথ সিং।স্মরণসভায় আরও যারা উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সহ-সাধারণ সম্পাদক ডা. গজেন্দ্রনাথ মাহাতো, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের অর্থ সম্পাদক অ্যান্ড্র সলোমার, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের ভূমি বিষয়ক সম্পাদক উজ্জ্বল আজিম, গৌরাঙ্গ পাত্র, বাগদা ফার্ম আন্দোলনের নেতা ফিলিমন বাস্কে, আদিবাসী নেতা নিটোল চাকমা, হেলেনা হীরামন তালাং প্রমুখ।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *