এবার পাহাড়ে ৯ টি জুম্ম গ্রামে শীতবস্ত্র বিতরণ করল ঢাবি ও বুয়েটে’র জুম্ম শিক্ষার্থীরা

সুমেধ চাকমা (ঢাবি প্রতিনিধি): প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও বান্দরবান পার্বত্য জেলায় ৯ টি জুম্ম গ্রামের ৩৭০ টি পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র ও ৩০০ স্কুলগামী শিশুর জন্য মাথার টুপি ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটে পড়ুয়া পাহাড়ের জুম্ম শিক্ষার্থীরা। প্রতিবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জুম্ম শিক্ষার্থী পরিবার এই আয়োজন করে থাকে। এবছর রোয়াংছড়ি উপজেলার ৯ টি গ্রামে গত ৩-৫ জানুয়ারী ৩৭০ টি পরিবারের কাছে শীতবস্ত্র ও স্কুলপড়ুয়াদের জন্য শিক্ষাসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছে তারা। মূলত বছর শেষে গণ সহায়তা নিয়ে তাঁরা এই আয়োজনটি করে থাকে। আয়োজকরা আইপিনিউজকে জানিয়েছেন এবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জুম্ম শিক্ষার্থীদের সাথে যুক্ত হয়েছেন বুয়েটের জুম্ম শিক্ষার্থীরা।

কোন কোন গ্রামে শীতবস্ত্র ও শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ করা হল- প্রশ্ন করা হলে বুয়েট জুম্ম শিক্ষার্থী পরিবারের সদস্য ও বুয়েটের শিক্ষার্থী অং শৈ সিং আইপিনিউজকে বলেন, এবার বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় এই্ কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। যে ৯ টি গ্রামের মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র পৌঁছে দিয়েছি সেগুলো হল- ম্রংওয়া পাড়া (বেংছড়ি) (মারমা আদিবাসী), বেংছড়ি বাজার পাড়া-(মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা আদিবাসী),ত্রিপুরা পাড়া (ত্রিপুরা আদিবাসী), মুনথার পাড়া (বম আদিবাসী), রেফু পাড়া (তঞ্চঙ্গ্যা আদিবাসী), অংজাই পাড়া (মারমা আদিবাসী), পুনর্বাসন পাড়া (মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা আদিবাসী), লুংলেই পাড়া (বম আদিবাসী), শঙ্খমনি পাড়া (তঞ্চঙ্গ্যা আদিবাসী)। তাছাড়া উক্ত গ্রামগুলোতে স্কুলগামী ৩০০ টি শিক্ষার্থীর কাছে প্রতি জনকে ২টি করে খাতা এবং ২টি করে কলম এবং একটি টুপি বিতরণ করা হয়েছে। এ আয়োজনে যুক্ত হতে পেরে অনেক পরিতৃপ্ত বলেও জানান তিনি।

অংজাই পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের মাঝে টুপি ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ। ছবি: আইপিনিউজ।।

এই আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জুম্ম শিক্ষার্থী পরিবারের সিনিয়র সদস্য সতেজ চাকমা আইপিনিউজকে বলেন, প্রতি বছর আমরা চেষ্টা করি আমাদের সামর্থনুযায়ী কিছু শীতবস্ত্র নিয়ে পাহাড়ী জুমিয়া জীবনের কাছে ফিরে যেতে। এর মাধ্যমে আমরা নিজেদের শেকঁড়ের প্রতি যে দায় তা কিছুটা হলেও চর্চার চেষ্টা করি। প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও ঢাকাস্থ জুম্ম অভিভাবক, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক, সাধারণ শিক্ষার্থী, প্রগতিশীল অনেক ব্যক্তি ও সংগঠন এর সহায়তা পেয়েছি। এই উদ্যোগে যারা পেছনে ছিলেন তাঁদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান তিনি। তবে এমন বঞ্চিত জীবন দেখা হতো না যদি না সেখানে যাওয়া না হত বলেও উল্লেখ করেন। মূলত এটাই শিক্ষার্থীদের শেখার মূল অনুষঙ্গ বলেও মনে করেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের বিতরণকৃত কম্বল হাতে এক ত্রিপুরা নারী। ছবি: আইপিনিউজ।।

এই আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা ও ঢাবি জুম্ম শিক্ষার্থী পরিবারের সিনিয়র শিক্ষার্থী সরল তঞ্চঙ্গ্যা আইপিনিউজকে বলেন, দীর্ঘ আট ঘন্টা হেঁটে গিয়ে যখন লুংলেই পাড়ায় পৌঁছি তখন বম আদিবাসীদের চোখে খুশি দেখে আমি অবাক হয়েছিলাম।তাঁরা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী বা সরকারের কোনো ত্রাণ এখানে এসে পৌঁছায় না। এমন প্রান্তিক অবস্থানে আমাদের হাতে কম্বল পেয়ে যে খুশি তারা হয়েছেন তা সারাজীবন মনে থাকবে। তাছাড়া এই প্রান্ত জনপদের মানুষের যে দুর্দশা, হাহাকার ও বঞ্চনা দেখে এলাম তা আগামীতে আমাদের মত শিক্ষার্থীদের কাছে নতুন পাথেয় হয়ে থাকবে।

উল্লেখ্য প্রতিবছর ঢাবি’র জুম্ম শিক্ষার্থীরা পাহাড়ের বিভিন্ন প্রত্যন্ত জনপদে পরিচালনা করে থাকেন। গত বছর এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল বান্দরবানের চিম্বুকে। এছাড়া ২০১৯ সালে থানচি উপজেলার ছোট মদকে, ২০১৮ সালে সীতাকুন্ডের ত্রিপুরা জনপদে, ২০১৭ সালে রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলা এবং বান্দরবানের থানচি উপজেলার ক্রামা ধর্মাবলম্বী ম্রো’দের মাঝে এই শীতবস্ত্র ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *