শ্রীবরদীতে শিশুদের প্রাক-বড়দিন উদযাপন

কাঞ্চন মারাক, শ্রীবরদী (শেরপুর): ডিসেম্বর মাস, সকলের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ মাস। তবে খ্রিষ্টানদের জন্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, কারন ২৫ ডিসেম্বর খ্রিষ্টানদের প্রভূ যিশু খ্রিষ্টের জন্মতিথি। বাংলাদেশে বসবাসকারী গারো সম্প্রদায়ের সিংহভাগ এখন খ্রিষ্ট ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছে, তারা দিনটি নানান আয়োজনে জাকজমকপূর্ণভাবে পালন করে থাকে। এছাড়াও গারোদের কাছে সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী মাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এসময় ধর্মীয়, ঐতিহ্যবাহি, সামাজিক অনুষ্ঠান পালিত হয়। যেমন: প্রাক-বড়দিন, বড়দিন, নববর্ষ, রংচুগালা, ওয়ানগালা, এনগেজ, বিয়ে, শ্রাদ্ধ প্রভৃতি। তবে সবকিছুর মধ্যেও সবচেয়ে প্রাধান্যতা পেয়েছে বড়দিন, তাই দিনটি সর্বোচ্চ ভালোভাবে পালনের জন্যে পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে প্রাক-বড়দিন উৎসব পালন করে থাকে।

গারো অধ্যুষিত প্রতিটি এলাকাতেই এখন প্রাক-বড়দিন ধুম-ধাম করে পালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি শেরপুর সীমান্তঘেষা শ্রীবরদী উপজেলার পাহাড়ি জনপদ বাবেলাকোনায় ১৫ ডিসেম্বর রোজ বোধবার ধর্মীয় রীতি-নীতি মেনে পালিত হলো খ্রিষ্টান ধর্মালম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব প্রাক-বড়দিন।

শিশু অধিকার ও উন্নয়নের লক্ষ্যে স্থানীয় অধিকার বঞ্চিত শিশু ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেন মধ্য ও দক্ষিন বাংলাদেশ শিশু উন্নয়ন প্রকল্প – বাবেলাকোনা, বিডি- ০৪২৪।

সারাদিনব্যাপি অনুষ্ঠানে শুরুতে প্রকল্পের স্পন্সর একদল শিশুর চোখ ধাঁধাঁনো নাচের মাধ্যমে আগত অতিথিদের অভ্যার্থনা জানানো হয়। তাছাড়া আসন গ্রহন, ফুল দিয়ে বরণ, গান পরিবেশন ও কেক কেঁটে যিশু খ্রিষ্টের জন্মের শুভেচ্ছাতেও শিশুদের শতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহন করতে দেখা গেছে।

আয়োজকরা আইপিনিউজকে জানান, করোনা অতিমারির কারনে বিগত বছরগুলোতে কোন কর্মসূচি পালন করা হয়নি। এবার করোনার প্রভাব কমে আসায় পালন করা সম্ভব হয়েছে। বড়দিনের আনন্দ অনেক সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা ঠিকমতো পালন করতে পারেনা। তাই সকলের উপস্থিতিতে দিনটি পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
তাঁরা আরোও জানান, করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে থাকলে প্রতিবছরই পালন করা হবে।

অনুষ্ঠানে এসে আদিবাসী শিশু অরণ্য মৃ বলেন, “উনুষ্টানো আহি ভালা নাগতাসে, পত্তেক বছর হয়লে আরো মজা হবো।”

বাবেলাকোনা ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সভাপতি পা. ক্লেনশন থিগিদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গারো ব্যাপ্টিস্ট কনভেনশন (জি.বি.সি.) ‘র সাধারণ সম্পাদক পা. অভয় চিসিম।

এছাড়াও নয়ন দালবত ও জীবন ম্রং ‘র যৌথ সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টিডব্লিউএ শ্রীবরদী শাখার চেয়ারম্যান ও কবি প্রাঞ্জল এম সাংমা, বকশীগঞ্জ শাখা চেয়ারম্যান হোশিও ম্রং, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ভূপেন্দ্র মান্দা, জুনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার সুরঞ্জন রাকসাম, প্রকল্প ব্যবস্থাপক সুলভ রিছিল, পা. এলিয় মৃ, মিন্টু ম্রং, প্রেমানন্দ রাংসা প্রমূখ।

বড়দিনের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে প্রধান বক্তা পা. অভয় চিসিম বলেন, “২৫ ডিসেম্বর প্রভূ যিশু খ্রিষ্টের জন্মদিন। দিনটি আমরা বড়দিন বলে পালন করি। দিনটি সঠিকভাবে পালন করতে পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে আমরা প্রাক-বড়দিন পালন করে থাকি।

শিশুদের উদ্যেশ্যে তিনি আরোও বলেন, “প্রভু তোমাদের মতো শিশুদের খুব পছন্দ ও ভালোবাসেন। তিনি বলেছেন – ঈশ্বরের স্বর্গরাজ্য তোমাদের মতো লোকদেরই। অর্থাৎ, তোমাদের জন্যে।”

বিশেষ অতিথি সুরঞ্জন রাকসাম যোগ করে বলেন, “সুন্দর সমাজ ও জাতি গঠনে শিশুদের সঠিক পরিচালনা দিয়ে গড়ে তোলা প্রয়োজন। এই আয়োজন নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।”

অনুষ্ঠানের সভাপতি পা. ক্লেনশন থিগিদী বলেন, “প্রাক-বড়দিন জানিয়ে দিলো বড়দিন চলে এসেছে। আজ এখানে এসে সেই শৈশবে ফিরে যেতে ইচ্ছে করছে।”

অনুষ্ঠান শেষে কেক কেটে সকলের মাঝে বিতরন করা হয়।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *