ঝুমন দাশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য তুলে দেয়া হল দেড় লক্ষ টাকা

সুনাম গঞ্জের শাল্লার নওগাঁও গ্রামের ঝুমন দাশের আপনের পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য তাঁর হাতে তুলে দেয়া হল দেড় লক্ষ টাকা। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ছয় মাস আটক থাকা ঝুমন দাশের মুক্তি’র জন্য আন্দোলন গড়ে তোলা জাতীয় পর্যায়ের কয়েকজন মানবাধিকার কর্মী, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক সহ শুভাকাঙ্খী অনেকের সমন্বয়ে একটি তহবিল গঠন করা হয়। ঝুমন দাশের পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্যই এই তহবিল বলে জানিয়েছেন এই তহবিল সংগ্রহের অন্যতম স্বেচ্ছাসেবী বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও পরিবেশ বার্তার সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল।

গতকাল (২০ নভেম্বর) ঝুমন দাশের বাড়ীতে সহযোগিতা পৌছে দেয়া হয় বলে আইপিনিউজকে জানানো হয়। সহযোগীতা পৌঁছে দেওয়া প্রতিনিধি দলে ছিলেন- নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন, আদিবাসী নেতা দীপায়ন খীসা, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন এর সাবেক সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ উজ্জল। মূলত একটি দোকান ও পুকুরে মাছ চাষের জন্যই এই সহায়তা বলে প্রতিনিধিরা জানান।

সহায়তা পৌঁছে দেওয়া প্রতিনিধিরা আইপিনিউজকে আরো জানান, দোকান আর পুকুরে মাছ চাষ করে ঝুমন পরিবার নিয়ে ঘুরো দাঁড়াবেন এটাই প্রত্যাশা। যারা এ উদ্যোগের পাশে ছিলেন তাদের সকলকে শুভেচ্ছা আর ভালবাসাও জানান প্রতিনিধিরা।

উল্লেখ্য যে, পুলিশ কর্তৃক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে (ডিএসএ) দায়ের করা মামলায় ৬ মাসেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে আটক থাকা ঝুমন দাশ আপনকে গত ২৮ সেপ্টেম্বর শর্তসাপেক্ষে এক বছরের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতের অনুমতি ছাড়া আগামী এক বছরের জন্য নিজ জেলা সুনামগঞ্জের বাইরে ঝুমন যেতে পারবেন না বলে হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়।

মূলত হেফাজতে ইসলামের তৎকালীন কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুল হক গত ১৫ মার্চ সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা শহরে এক সমাবেশে বক্তব্য দেন। মামুনুল হকের ওই বক্তব্যের সমালোচনা করে পরদিন ১৬ মার্চ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ তুলে ১৭ মার্চ সকালে নোয়াগাঁওয়ে আশপাশের তিনটি গ্রামের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে মানুষের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।

এ ঘটনায় ঝুমন দাশকে ১৬ মার্চ রাতেই আটক করে পুলিশ। পরদিন তাঁকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করলে আদালতের আদেশে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর ২২ মার্চ শাল্লা থানায় তাঁর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করে পুলিশ। পরে তাঁর মুক্তির দাবিতে সুনামগঞ্জ, সিলেট, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালিত হয়। দেশের বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ তাঁর মুক্তির দাবি জানান। সুনামগঞ্জে ঝুমন দাশ একাধিকবার জামিনের আবেদন করলেও তাঁর জামিন হয়নি। পরে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করা হয়।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *