আবারো মনোনয়ন পেলেন আদিবাসী নারী নেত্রী বন্দনা চাম্বুগং

কাঞ্চন মারাক;শেরপুর: নালিতাবাড়ি উপজেলার সীমান্তঘেষা ১ নং পোড়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তৃতীয় ধাপে নৌকা প্রতীকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পেলেন পোড়াগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও আদিবাসী নারী নেত্রী মিসেস বন্দনা চাম্বুগং (45)। নালিতাবাড়ির ইতিহাসে প্রথম এবং দ্বিতীয়বারের মত একমাত্র নারী হিসাবে এবারেও নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পাওয়ায় ইউনিয়নবাসীর মাঝে উচ্ছাসের শেষ নেই।

আদিবাসী নারী নেত্রীর সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রাথমিক জীবনে গণশিক্ষা কার্যক্রম ও পরবর্তীতে স্বাস্থ্য কর্মীর চাকরী করে জনসাধারণের মাঝে থাকার সুযোগ পান, তখন পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীদের পিছিয়ে রাখার বিষয়টা চোখে পড়ে। তাছাড়া বিভিন্ন প্রভাবশালী মহল দ্বারা সর্বসাধারণ কিভাবে অত্যাচারের শিকার হন তা উপলব্ধি করতে পারেন। এরপর গত ২৭ জুন ২০১৫ সালে মধুটিলা ইকোপার্কে গৃহবধু এক কুলাঙ্গার দ্বারা শ্লীলতাহানির শিকার হন, তখন নারী নিগ্রহের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান এবং সরাসরি তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীর কাছে বিচার প্রার্থনা করেন।

আদিবাসী নারী নেত্রীর সাহসীকতায় মুগ্ধ হয়ে এরপরেই রাজনীতিতে আসার আহ্বান জানান এবং ২০১৫ সালে সরাসরি পোড়াগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ লাভ করেন, যা অদ্যবদি চলমান রয়েছে। ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো চেয়ারম্যান পদে নৌকা মার্কায় প্রভাবশালীদের বিপক্ষে লড়েন এবং বর্তমান চেয়ারম্যানের কাছে মাত্র ১৮১ ভোটে হেরে যান। কিন্তু, অদম্য-অপরাজেয় বন্দনা চাম্বুগং হাল ছাড়েন না। এর ধারাবাহিকতায় এবারেও নৌকা মার্কায় মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন এবং পেয়ে যান।

এ বিষয়ে নেত্রী বন্দনা চাম্বুগং বলেন, “জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা মানবতার মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার উপর দয়া করেছেন, আমাকে নৌকা প্রতীকে পূনরায় মনোনয়ন দিয়ে নারী ক্ষমতায়ন ও জনগণের সেবা করার সুযোগ করে দিয়েছেন। এজন্যে আমি ও আমার জনগণ অত্যান্ত কৃতজ্ঞ।

তিনি আরোও বলেন, “আমি যে স্বপ্ন নিয়ে রাজনীতিতে এসেছি, সে স্বপ্ন পূরণ করতে চাই। নারী ক্ষমতায়ন ও পিছিয়ে পড়া জনসাধারনের জন্যে সেবা দিতে চাই।” সংখ্যালঘু আদিবাসী জনগোষ্ঠীরা নানানভাবে শোষনের শিকার হয়।

নেত্রীর অবদান বিষয়ে মেষকুড়া গ্রামের আদিবাসী নেত্রী মিসেস সন্ধা ম্রং বলেন, “নেত্রী আমার মা, আমার ছায়া। উনার ছায়াতলে আমরা ভালোভাবে বাঁচতে পারছি।”

বারোমারী আন্ধারু পাড়ার সাহেরা বেগম বলেন, “নেত্রীর লাইগ্যা আমার মতন গুরীব মানুষ ঘর পাইছি, ইবার আল্লাহ নেত্রীর উপর সহায় অইব।” সমশ্চুরা গ্রামের সাইদুল ইসলাম বলেন, “পোড়াগাঁও ইউনিয়নের উন্নয়নে নৌকা মার্কার বিকল্প নাই, সাম্প্রদায়িকতার সুযোগ দেয়া হবে না।”

বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে দেখা গেছে জনগনের মুখে নেত্রীর ব্যপক জয়ধ্বনি। । ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে পিছিয়ে পড়া জনগন আশার মুখ দেখছেন।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *