স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা

গত ১০ নভেম্বর ২০২১, রোজ বুধবার, রাজধানীর বিএমএ মিলনায়তনে মেহনতী মানুষের প্রিয় বন্ধু ও বিপ্লবী মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা’র ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী জাতীয়ভাবে পালন করা হয়।বিপ্লবী মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা’র ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন জাতীয় কমিটির সভাপতি ও বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী খুশি কবির’এর সভাপতিত্বে উক্ত স্মরণ আয়োজনে দেশের প্রগতিশীল রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বুদ্ধিজীবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র-যুব সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন এবং মহান নেতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

উক্ত স্মরণ আয়োজনে জাতীয় কমিটি’র ঘোষণাপত্রটি আইপিনিউজ এর পাঠকদের জন্য দেয়া হল। ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং আয়োজক কমিটি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ড. খায়রুল ইসলাম চৌধুরী। ঘোষণা পত্রটি নিম্নরূপ-

সুধীবৃন্দ,
বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এই মাহেন্দ্রক্ষণে ও বিপ্লবী জননেতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা-এর ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় কমিটির আয়োজকদের পক্ষে আপনাদের স্বাগতম ও শুভেচ্ছা।

আপনারা সকলে অবগত যে বিপ্লবী জননেতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা নাতিদীর্ঘ, কিন্ত এক বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী ছিলেন। তিনি ১৯৩৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচর থানার বুড়িঘাট মৌজার মাওরুম (বাঙালিরা যে গ্রামের নাম দিয়েছে মহাপুরম) আদামে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে এই গ্রামজনপদ কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ উন্নয়ন প্রকল্পের কৃত্রিম বাঁধের তলায় ডুবে গেছে।

প্রয়াত সুভাষিণী দেওয়ান ও চিত্ত কিশোর চাকমার চার সন্তানের মধ্যে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা ছিলেন তৃতীয় সন্তান। মহাপুরম জুনিয়র হাই স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা লাভের পর তিনি ১৯৫৮ সালে তদানীন্তন রাঙামাটি সরকারি স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। ১৯৬০ সালে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে আইএ পাস করেন। ১৯৬৬ সালেই খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালার দীঘিনালা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেন। ১৯৬৮ সালে চট্টগ্রাম রেলওয়ে কলোনী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন এবং বিএড পরীক্ষা দেন। ১৯৬৯ সালে এল এল বি পাশের পর চট্টগ্রাম বার এসোসিয়েশনের আইনজীবী হিসেবে যোগদান করেন।

বিপ্লবী মানবেন্দ্র লারমা ১৯৫৬ সনেই ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেন এবং ১৯৫৮ সনে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে যোগদান করেন। তিনি ১৯৫৭ সনে অনুষ্ঠিত প্রথম পাহাড়ি ছাত্র সম্মেলনের একজন কেন্দ্রীয় উদ্যোক্তাও ছিলেন। ১৯৬০ সনে পাহাড়ি ছাত্র সমাজের নেতৃত্বদানের পাশাপাশি ১৯৬১ সনেই কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন। ১৯৬২ সনে সংগঠিত করেন এক বিশাল পাহাড়ি ছাত্র সম্মেলন। ১০ই ফেব্রুয়ারী ১৯৬৩, তদানীন্তন সরকার চট্টগ্রামের পাথরঘাটাস্থ পাহাড়ি ছাত্রাবাস থেকে তাকে বিশেষ নিবর্তনমূলক আইনে আটক করে। ১৯৬৫ সালের ৮ মার্চ বিশেষ শর্তসাপেক্ষে তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়। ১৯৭০ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনে দায়িত্বপালন করেন এবং এই সনেই পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর, ১৯৭২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী, সাংসদ মানবেন্দ্র লারমা পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথাগত ও আঞ্চলিক নেতৃবৃন্দসহ বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিকট পার্বত্য অঞ্চলের আঞ্চলিক স্বায়ত্বশাসনের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে চার দফা দাবী পেশ করেন এবং ১৯৭২ সালের ৩১ অক্টোবর বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানে দেশের সকল জাতিদের একত্রে ‘বাঙালি’ হিসেবে আখ্যায়িত করার প্রতিবাদে গণপরিষদ অধিবেশন বর্জন করেন।

এসময়ে, ১৯৭২ সালে, তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি গঠন করেন এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭৩ সনে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং ১৯৭৪ অবধি জনপ্রতিনিধি হিসেবে পার্লামেন্টে ও পার্লামেন্টের বাইরে প্রান্তিক জনগণ, অনগ্রসর জনগোষ্ঠী ও আদিবাসী জন-জাতীসমুহের অর্থনৈতিক মুক্তি ও রাজনৈতিক অধিকারের জন্য নিরবিচ্ছিন্ন নিয়মতান্ত্রিক ও প্রতিরোধ সংগ্রাম করেন। কিন্ত ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট, বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকান্ডের পর আত্মগোপন করেন এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের স্ব-শাসনের দাবীতে সশস্ত্র সংগ্রামকে বেছে নেন। কিন্তু, পার্বত্য চট্টগ্রামের জাতিসমূহের দুর্ভাগ্য হল জননেতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা সশস্ত্র সংগ্রামকালীন ১৯৮৩ সালের ১০ নভেম্বর ভোররাতে অগ্রজ শুভেন্দু প্রভাস লারমা(বুলু) ও জনসংহতি সমিতির আটজন নেতাসহ নির্মমভাবে নিহত হন ।

প্রিয় সুধী,
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এই গৌরবদীপ্ত সময়ে বাংলাদেশে বৃহত্তর বাঙলী জাতীসহ, বাংলাদেশের জনগণের কাছে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা কতখানি জরুরি? তাঁর চিন্তা-দর্শন-রাজনীতি ও কর্মউদ্যোগ স্বাধীনতার এই সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা কীভাবে পাঠ করবো? কেন তিনি এখনো প্রাসঙ্গিক? সমাজ ও রাষ্ট্রের সামগ্রিক রূপান্তর প্রক্রিয়ায় মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা এখনো আমাদের কী দিকনির্দেশনা দিতে পারেন?

মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা-এর ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় কমিটির আয়োজকরা মনে করেন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি। আমরা মনে করি, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের গড়ন, গঠন এবং সামগ্রিক রূপান্তরে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার উত্থাপিত প্রশ্ন ও দর্শনচিন্তা সমূহ মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় গণ-মানুষের ভবিষৎ বাংলাদেশের বিনির্মাণে আজো প্রাসঙ্গিক ।
প্রথমত, মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমাই প্রথম রাষ্ট্রের পরিচয় ও রাষ্ট্রের কাছে জাতীগত ও ব্যক্তিগত আত্মপরিচয় নিয়ে কাঠামোগত বিশ্লেষণ এবং বিতর্ক তুলে ধরেন। আমরা মনে করি, বাংলাদেশে বাঙালি জাতীয়তাবাদ কেন্দ্রিক এক জাতী একদেশ ও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ কেন্দ্রিক ভৌগলিক মুসলিম জাতীয়তাবাদ প্রতিক্রিয়াশীল ও নিপীড়নমূলক। একইভাবে, জ্ঞানতত্ত¡, আন্তজাতিক আইন ও ১৯৭২ সালের সংবিধানের ঘোষিত মূলনীতি আলোকে, ২০১৫ সনে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে, বাংলাদেশ আদিবাসীদের ‘উপজাতি’, নৃ জনগোষ্ঠী, ‘সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী’, ‘ক্ষুদ্র জাতিসত্তা’, ‘ট্রাইবাল’, ‘এবরিজিনাল’ জাতীগত ও ব্যক্তিগত আত্ম-পরিচয়ের স্বীকৃতি বিভ্রান্তিকর, বৈষম্যমূলক, ও অকল্পণীয়।
দ্বিতীয়ত, মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমাই প্রথম সংসদে বাংলাভাষা বাদে অন্যান্য আদিবাসী ভাষা নিয়ে রাষ্ট্রের পরিকল্পনা, উন্নয়নচিন্তা বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছিলেন। কিন্তু তা এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন হয়নি, যদিও সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ আদিবাসী শিশুদের মাতৃভাষা শিক্ষার অধিকারের বিষয়টি প্রথম রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন ২০১০ সকল আদিবাসী জাতির ভাষা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের কথা স্বীকার করেছে, ২০১২ সনে চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, মান্দি, ত্রিপুরা ও ওঁরাও আদিবাসীদের মাতৃভাষায় পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের একটি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ তৈরি হয়।

তৃতীয়ত, মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা আজীবন মেহনিত মজদুর জনগণের ন্যায্য সমাজ প্রতিষ্ঠায় সাহসী উচ্চারণ করেছেন। বৈশ্বিক পুঁজিবাদ, অর্থনৈতিক ধারা এবং রাষ্ট্রের রাজনৈতিক শ্রেণিচরিত্র সম্পর্কে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ভাষ্য আমাদেরও স্মরণ করে দেয়, বর্তমান বাংলাদেশ মানুষে মানুষে শোষণ-বঞ্চনা ও অধিকারহীনতার বিকল্প হল সাম্যবাদী ও সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শ ।
চতুর্থত, ভেদবুদ্ধির উর্ধ্বে বিবেচনা করলে, পার্বত্য চট্টগ্রামের স্ব-শাসনের দাবীতে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি সশস্ত্র সংগ্রাম অনেকাংশেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও বঙ্গবন্ধুর পথেরই অনুসরণ মাত্র। বঙ্গবন্ধুর কণ্যা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে পার্বত্য চুক্তি ১৯৯৭, যদিও ১৯৭২ সনের রাষ্ট্রীয় ভুলকে স্বীকার করে পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতন্ত্র ও ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার’ সক্রিয় উদ্যোগ নিতে বাধ্য হয়, রাষ্ট্র ও বৃহত্তর জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলো পুনশ্চ: ১৯৭২ সনের রাষ্ট্রীয় ভুলকেই পুনরাবৃত্তি করছে। স্বাধীনতর সুবর্ণজয়ন্তী পালনের সময়কালে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ’ধর্মীয় সংখ্যালঘু’ বাঙালী হিন্দু ও বৌদ্ধদের উপর সাম্প্রদায়িক হামলা, হত্যা ও লুণ্ঠণ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সংবিধান, এমনকি ব্যক্তির নাগরিক অধিকারকে অব্যাহতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ভিন্ন অর্থে, ধর্মের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতি, বাংলাদেশকে একটি ‘নিপীড়ণমূলক যন্ত্রে’ পরিণত করেছে।

সুতরাং, মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটির আশু দাবি হলো:
১। অবিলম্বে শোষণমূলক ও আধিপত্যবাদী জাতীয়তাবাদকে সংশোধন করে বাংলাদেশে বসবাসরত সকল জাতিসত্তা, ভাষা ও সংস্কৃতির সাংবিধানিক স্বীকৃতিসহ একটি বহুত্ববাদী দাবি নাগরিক সংবিধানের আলোকে ভবিষৎ বাংলাদেশের বিনির্মাণ করতে হবে।
২। সাম্প্রতিককালে আদিবাসী নারী নির্যাতন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-হামলা-লুণ্ঠণরোধকল্পে, অবিলম্বে ১৯৭২ সালের সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক মূলনীতি প্রতিস্থাপনসহ সকল ধরনের ধর্মীয় ও জাতীগত সাম্প্রদায়িকতা ও বর্ণবাদী বিদ্বেষ সৃষ্টিকারী অনুচ্ছেদ বাতিল করতে হবে। আদিবাসী জাতী সমুহের জন্য পৃথক মানবাধিকার কমিশন গঠন করতে হবে।
৩। অবিলম্বে সকল জাতিসত্তার ভাষাগত স্বীকৃতিসহ মাতৃভাষায় শিক্ষাদানের ব্যবস্থা গ্রহণ, আদিবাসী ভাষা একাডেমি প্রতিষ্ঠা ও ‘হারিয়ে যাওয়া ভাষার’ বিকাশকল্পে অতিদ্রুত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে ।
৪। পার্বত্য চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নকল্পে অবিলমে ভ‚মি সমস্যার সমাধানকল্পে, পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রশাসনের বেসামরিকরণ, আধিপত্যবাদী উন্নয়ন প্রকল্প বাতিল ও পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিশেষ অঞ্চল ঘোষণার সাংবিধানিক স্বীকৃতির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে ।
৫। পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীর উন্নয়নকল্পে পৃথক মন্ত্রণালয়, বিভাগ, ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ‘স্ব-শাসনের’ পক্ষে ইতিবাচক আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে ।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *