চলচ্চিত্র নির্মাণে আগ্রহী তরুণ জুম্ম প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে: পার্বত্য চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজকবৃন্দ

সুমেধ চাকমা: চলচ্চিত্র নির্মাণে আগ্রহী তরুণ জুম্ম প্রজন্ম গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন পার্বত্য চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজকরা। পার্বত্য অঞ্চলের চলচ্চিত্র নিয়ে পঞ্চমবারের মত অনুষ্ঠিত হল ‘পার্বত্য চলচ্চিত্র উৎসব’। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার ‘ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটে’ ৪-৬ নভেম্বর আয়োজিত হয় তিনদিনব্যাপী এ চলচ্চিত্র উৎসব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল জুম সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদ এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং তরুণ আদিবাসী নির্মাতা এডিট দেওয়ান এবং তুরিন তঞ্চঙ্গ্যা পরিচালিত
‘ফেলিম : সিনেমা ফর আইডেন্টিটি’ (Felim-Cinema for Identity) বিশেষ তথ্যচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে শুরু হয় এবারের উৎসব। উৎসবের প্রথমদিনে চাকমা ভাষায় নির্মিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দুলু হুমোরী’ (Dulu Kumori) প্রদর্শিত হয়। এছাড়াও ছিল সজীব ত্রিপুরার পরিচালনায় ‘তাক্রিদি’ (Takridi) সহ আরো কয়েকটি চলচ্চিত্র।

আয়োজকরা আইপিনিউজকে জানান উৎসবের দ্বিতীয় ও তৃতীয়দিনে প্রদর্শিত হয় বিজন ইমতিয়াজ পরিচালিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব এ অংশ নেওয়া বাংলা ভাষার চলচ্চিত্র ’মাটির প্রজার দেশে’ (Matir Projar Deshe)।
বিশেষ আর্কষণ হিসেবে ছিল ভিম ভেন্ডারস’র ‘অ্যালিস ইন দি সিটিজ’ (Alice in the cities), জার্মান এক্সপ্রেশনিজম’ এর ছবি ‘ফ্রম মর্ন টু মিডনাইট’ (From morn to midnight)। তাছাড়া বম ও মারমা ভাষায় নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রও প্রদর্শিত হয়।

‘পার্বত্য চলচ্চিত্র উৎসব’ নিয়ে ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে আইপিনিউজের সাথে কথা বলেছেন উৎসব পরিচালনার দায়িত্বে থাকা তরুণ নির্মাতা এডিট দেওয়ান। তিনি বলেন, “আমরা উৎসবের পরিসর আরো বাড়াতে চাই। পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী সকল সম্প্রদায়ের ভাষা নিয়ে ভবিষ্যতে চলচ্চিত্র তৈরি করা যায় কিনা এ নিয়ে আমরা ভাবছি। এ বছর বম ভাষায় তৈরি একটি স্বল্পদর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়েছে”।
তিনি আরও বলেন যে, “চলচ্চিত্র নির্মাণে আগ্রহী তরুণ জুম্ম প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে এবং আমরা সে দিকটি নিয়ে কাজ করছি”।
তাছাড়া উৎসব আয়োজনের নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে তিনি বলেন, “উৎসবটি আয়োজন করতে গিয়ে অনেক প্রতিবন্ধকতার এসেছে। বিশেষ করে পাবলিশার খোঁজাসহ আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি”। এক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও মননশীল বন্ধু যারা আছেন তাঁদেরকে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি। মূলত এর মাধ্যমে পাহাড়ে বসবাসকারী আদিবাসীদের সংস্কৃতিকে তুলে ধরা, সংরক্ষণ ও বিকাশের ধারাটি অব্যাহত থাকবে বলে তাঁর মত।

এছাড়া স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও তথ্যচিত্র নামে দুটি বিভাগে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে ৭টি এবং তথ্যচিত্র বিভাগে ৯ টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। ‘স্পেশাল জুরি এওয়ার্ড’ সম্মাননা পেয়েছে ‘গোমিরা’ (Gomeea), ‘দি হোম ইন সাউন্ড’ (The home in sound) এবং ‘আ টেইল অফ এ হিলি গার্ল’ (A tale of a hilly girl)। ‘সেরা তথ্যচিত্র’ পুরস্কার পেয়েছে ‘গ্রিন স্লেব’ (Green slave) এবং ‘সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র’ সম্মাননা জিতে নেয় ‘রেদো সংভাগত’ (Redo Songvagot)।

বিচারক হিসেবে ছিলেন চলচ্চিত্র সমালোচক, স্থপতি ও পাহাড়ের সাবেক নারী নেত্রী কবিতা চাকমা, একাডেমিক ও নির্মাতা ‘রবিউল আলম রবি’ এবং উৎসব পরিচালক ও নির্মাতা ‘এডিট দেওয়ান’।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *