সাঁওতাল হত্যা দিবসে তিন সাঁওতাল হত্যাকান্ডের বিচারের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন

সূভাষ চন্দ্র হেমব্রম, রাজশাহী: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্মে তিন সাঁওতাল হত্যাকান্ডের ৫ বছর পূর্তিতে “সাঁওতাল হত্যা দিবস” জাতীয় আদিবাসী পরিষদ রাজশাহী মহানগর কমিটির উদ্যোগে গত ০৬ নভেম্বর ২০২১ শনিবার বেলা ১২টায় রাজশাহীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জাতীয় আদিবাসী পরিষদের রাজশাহী মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আন্দ্রিয়াস বিশ্বাসের সভাপতিত্বে মানববন্ধন সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য খ্রিস্টিনা বিশ্বাস, সহ-সাধারণ সম্পাদক গণেশ মার্ডি, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বিভূতী ভূষণ মাহাতো, রাজশাহী জেলা সাধারণ সম্পাদক সুশেন কুমার শ্যামদুয়ার, আদিবাসী যুব পরিষদ রাজশাহী জেলা কমিটির সভাপতি উপেন রবিদাস, আদিবাসী ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নকুল পাহান, সাধারন সম্পাদক তরুন কুমার মুন্ডা, দপ্তর সম্পাদক পলাশ পাহান প্রমূখ।

সংহতি বক্তব্য রাখেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী বরজাহান, বীরমুক্তিযোদ্ধা প্রশান্ত কুমার সাহা, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি রাজশাহী মহানগর সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ প্রামানিক দেবু, জনউদ্যোগ রাজশাহীর সদস্য সচিব জুলফিকার আহমেদ গোলাপ প্রমূখ।

মানববন্ধনে বক্তারা, সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্মে পুলিশের গুলিতে তিন সাঁওতাল হত্যার বিচার, রিক্যুইজিশন করা আদিবাসী-বাঙালির বাপদাদার পৈত্রিক ১৮৪২.৩০ একর জমি ফেরত, তিন ফসলি জমিতে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) নির্মাণ বন্ধ, গুলিতে নিহত তিন সাঁওতাল পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, রংপর চিনিকল লিঃ (মহিমাগঞ্জ) কতৃক উচ্ছেদকৃত পরিবারগুলোকে উপর্য্ক্তু ক্ষতিপূরণ ও উক্ত জমিতেই পুর্নবাসন করা, আদিবাসী-বাঙালিদের প্রতি মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, এবং আগুনে পুড়িয়ে ফেলা আদিবাসী শিশুদের স্কুলটি পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও সরকারিকরণের দাবি জানান।

এছাড়াও বক্তারা আদিবাসীদের আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও জমির সমস্যা নিরসনে সমতল আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠনের দাবিও জানান। অবিলম্বে গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম কৃষি জমিতে ইপিজেড স্থাপনের প্রকল্প বাতিল করে ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া তিন আদিবাসী সাঁওতাল পরিবারসহ নিহত-আহতদের সব পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানান বক্তারা।

বক্তারা আরো বলেন, গাইবান্ধায় পুলিশের গুলিতে তিন সাঁওতাল শ্যামল হেমব্রম, রমেশ টুডু ও মঙ্গল মার্ডির হত্যার ৫ বছর পার হয়ে গেলেও হত্যাকান্ডের বিচার হয়নি। বারবার পিবিআই কর্তৃক দাখিলকৃত চার্জশীটে ঘটনার মূলহোতা প্রধান আসামী তৎকালিন সাংসদ আবুল কালাম আজাদ ও সাপমারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাকিল আকন্দ বুলবুল, পুলিশকে নির্দেশদাতা গাইবান্ধার তৎকালিন পুলিশ সুপার, গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি সহ অভিযুক্তদের বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং আদিবাসীরা নারাজি দাখিল করছে। চুক্তি অনুযায়ী আদিবাসী-বাঙালিরা রিক্যুইজিশনকৃত বাপ-দাদার জমি এখনো ফেরত পায়নি। সাঁওতালদের ঘর-বাড়িতে অগ্নিসংযোগকারী পুলিশ প্রশাসনকে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে পারেনি সরকার। ক্ষতিগ্রস্থদের যথাযথ পুর্নবাসনের কোন উদ্যোগ সরকার এখনো নিতে পারে নি। রাষ্ট্র স্বংয় নিজেই নাগরিকের নিরাপত্তার অধিকার হরণ করেছ। এতে আদিবাসী-বাঙ্গালিদের মাঝে সুষ্ঠু বিচার নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। গাইবান্ধায় যদি ইপিজেড ( EPZ) করতে হয় তাহলে গাইবান্ধায় পলাশবাড়ী উপজেলার সাকোয়া ব্রিজ এলাকায় তৈরী করেন এই এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চলের ব্যাপক সম্ভবনা রয়েছে।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *