আলোকিত গ্ৰামীণ নারী সম্মাননা – ২০২১ পেলেন সাবিত্রী হেমব্রম

আলোকিত গ্ৰামীণ নারী সম্মাননা – ২০২১ পেলেন আদিবাসী ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি সহ সভাপতি ও রাহালা রিমিল ডান্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাবিত্রী হেমব্রম ।

বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবস উপলক্ষে আলোকিত শিশুর উদ্যোগে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহায়তায় সারাদেশ থেকে ৩ জনকে নেতৃত্ব ও ৩ জনকে উদ্যোক্তা ক্যাটাগরিতে মোট ৬ জনকে “আলোকিত গ্ৰামীণ নারী সম্মাননা” দেওয়া হয়। “গ্রামীন নারী দিবসের দাবি, ঘরে ঘরে নারীর কাজের স্বীকৃতি ” শ্লোগান কে প্রতিপাদ্য করে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (MJF) এর সহায়তায়, আলোকিত শিশু ও ভলান্টিয়ার অপর্চুনিটির গত ০৫ নভেম্বর ২০২১ ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে KIB কনভেনশন হলে এই সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সম্মাননা পদক প্রদান করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় সংসদ সদস্য আরোমা দত্ত। এছাড়াও নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত সফল নারীরা উপস্থিত থেকে অনুপ্রেরণা মূলক বক্তব্য রাখেন । এ সময়ে দেশবরেণ্য ব্যাক্তিবর্গের উপস্থিতিতে দেশর বিভিন্ন সমাজ ও নারী উন্নয়নে গ্রামীণ নারীদের যুদ্ধজয়ের গল্প গুলি উপস্থিত দর্শক দের মাঝে প্রেরণা যোগায়।

সাবিত্রী হেমব্রম তার নিজ জীবনের সংগ্রামী বক্তব্যে বলেন, ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি আমাদের আদিবাসীদের জীবন, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। আমাদের আদিবাসীদের সকলেই বসবাস প্রায় প্রান্তিক পর্যায়ে। আদিবাসীরা সুবিধাবঞ্চিত, অধিকারবঞ্চিত, শিক্ষার হার কম, অতি দরিদ্র সীমার নীচে আমাদের বসবাস। অর্থাৎ মূলধারার জনগোষ্ঠী থেকে অনেকটা পিছিয়ে। এই সকল সামাজিক বাস্তবিক চিত্র দেখে মনে হয়েছে আমার নিজের জাতির জন্য, নিজ জনগোষ্ঠীর মানুষের জন্য, দেশের জন্য কিছু করার দরকার। আমার এ চিন্তা ভাবনাকে সামনে রেখে নিজ উদ্যোগে আদিবাসী সমাজের মানুষকে অধিকার বিষয়ে সচেতন করার চেষ্টা করি। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, মানবাধিকার বিষয়ে তাদের জানানো এবং মানবাধীকার লংঘিত হলে করনীয় সম্পর্কে ধরনা প্রদান করা। গ্রামে গ্রামে ঘুরে আমি কিছু তরুণ নেতৃত্বও তৈরি করার চেষ্টা করেছি। বর্তমানে আমার নেতৃত্বে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর তরুণ তরুণী আমার সাথে কাজ করে চলেছে। শুধু মাত্র অধিকার প্রতিষ্ঠায় নয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সুখ দুঃখে, অভাব অনটনে পাশে থাকার চেষ্টা করি। কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস মহামারী পরিস্থিতিতে খাদ্য সহায়তা ও সাহায্য করি। এমনকি নারীর প্রতি বিভিন্ন সহিংসতায় সুষ্ঠ ন্যায় বিচার পাওয়া লক্ষ্যে ও মনোবল ধরে রাখতে পদক্ষেপ গ্রহণ করি। আর স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ, লবিং এবং এ্যাডভোক্যসি করে আমরা করে থাকি। এছাড়াও আদিবাসীদের সংস্কৃতি চর্চা ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে ২০১৭ সাল থেকে ‘রাহালা রিমিল সাংস্কৃতিক নৃত্য দল’ প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে কাজ করে চলেছি।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *