তানোরের আদিবাসীদের উপর হামলা ও উচ্ছেদ চেষ্টার প্রতিবাদে রাজশাহীতে মানববন্ধন

সূভাষ চন্দ্র হেমব্রম, রাজশাহীঃ রাজশাহীর তানোর উপজেলার মালশিরা (চৌবাড়িয়া) গ্রামে আদিবাসী পরিবারের ঘর-বাড়ি ভাঙচুর, বসত ভিটা দখল ও উচ্ছেদ চেষ্টার প্রতিবাদে এবং মুলহোতা ভূমিদস্যু হামিদুর রহমানসহ জড়িতদের গ্রেপ্তার, বিচার ও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের ক্ষতিপূরনের দাবিতে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ রাজশাহী জেলা কমিটির উদ্যোগে আজ ২ নভেম্বর ২০২১ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় রাজশাহীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে জাতীয় আদিবাসী পরিষদের রাজশাহী জেলার সভাপতি বিমল রাজোয়াড়ের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক গণেশ মার্ডি, দপ্তর সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র হেমব্রম, রাজশাহী জেলা সাধারণ সম্পাদক সুশেন কুমার শ্যামদুয়ার, কেন্দ্রীয় সদস্য বিভুতি ভুষণ মাহাতো, গোদাগাড়ী উপজেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ হেমব্রম, আদিবাসী যুব পরিষদ রাজশাহী জেলার সভাপতি উপেন রবিদাস, আদিবাসী ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নকুল পাহান । সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি রাজশাহী জেলা কমিটির সভাপতি শাহাজাহান আলী বরজাহান, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি এবং রাজশাহী মানবাধিকার জোটের সহ-সভাপতি কল্পনা রায়, মাসাউসের নির্বাহী পরিচালক এবং জোটের সদস্য মেরিনা হাঁসদা, দৈনিক জনকন্ঠের ফটো সাংবাদিক সেলিম জাহাঙ্গীর প্রমূখ।

মানববন্ধনে বক্তারা তানোরের আদিবাসীদের ঘরবাড়ি ভাংচুর, নির্যাতন, বসতভিটা জবরদখল ও উচ্ছেদ চেষ্টাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানান। ভুক্তভোগী আদিবাসী পরিবার ও মালশিরা গ্রামের আদিবাসীদের নিরাপত্তার জোর দাবি জানানো হয়। সারাদেশে আদিবাসীদের উপর নির্যাতন, ভূমিদখল, নারী ধর্ষণ, ভূমি থেকে উচ্ছেদ বন্ধ ও আদিবাসীদের নিরাপত্তার দাবিও জানান বক্তারা। আদিবাসীদের আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, সমতল আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও ভূমি কমিশন গঠনের দাবি জানান ।

রাজশাহী জেলা তানোর থানার শেষ প্রান্ত মালশিরা পাড়ায় বসবাসরত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ অতি দ্রুত এই সমস্যার সমাধানের দাবি জানান বক্তারা।

উল্লেখ্য, গত ২৩ অক্টোবর মধ্যরাতে আনুমানিক রাত ১টার সময় রাজশাহী জেলার তানোর উপজেলার মালশিরা গ্রামের আদিবাসী সাঁওতাল জাতিসত্তার দেবেন মুর্মু (৪৫) এর বাড়িতে হামলা করেন স্থানীয় ভূমিদস্যু হামিদুর রহমানের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন ভাড়াটিয়া গুন্ডা বাহিনী। হামলাকালীন সময়ে হামলাকারীরা অন্যান্য আদিবাসীদের ঘরবাড়িতে বাহিরে থেকে তালা মেরে আটকে রাখা হয়। দীর্ঘদিন থেকেই ভূমিদস্যু হামিদুর রহমান আদিবাসী দেবেন মুর্মু’র পৈত্রিক জমি নিজের জমি দাবি করে হুমকি ও উচ্ছেদের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *