মৌলভীবাজারের গারো-খাসিয়াদের ভূমি রক্ষার দাবিতে ১৩ নাগরিকের আবেদন

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় গারো-খাসিয়াদের দুটি পানপুঞ্জির ঐতিহ্যগত ও প্রথাগত ভূমি রক্ষার আবেদন জানিয়ে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের কাছে জরুরিপত্র হস্তান্তর করা হয়েছে।

রোববার বিকেলে আদিবাসী, মানবাধিকার ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করা বেশ কয়েকটি সংগঠনের ১৩ জন নাগরিকের পক্ষে এই জরুরিপত্র হস্তান্তর করা হয়।

সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিলুর রহমান বরাবরে পাঠানো পত্রে বলা হয়েছে, ‘আগামিকাল মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন বনবিভাগ ও সামাজিক বনায়নের তথাকথিত উপকারভোগীদের নিয়ে ডলুছড়া খাসিয়া পুঞ্জির ভূমিতে যাবেন এবং জোরপূর্বক গাছ রোপন করবেন। সামাজিক বনায়নের নামে বনবিভাগের একটি ত্রুটিপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসনের এমন তৎপরতা প্রশ্নের উদ্রেক করে।’

‘খাসিয়া জনগণ যুগ যুগ ধরে তাদের প্রথাগত ও ঐতিহ্যগত ভূমিতে বসবাস করে আসছেন। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সনদ আদিবাসীদের এই প্রথাগত ভূমি মালিকানার সংস্কৃতিকে স্বীকৃতি দিয়েছে।’

‘বঙ্গবন্ধু সরকার ১৯৭২ সালে আইএলও কনভেনশন নম্বর ১০৭ যা আদিবাসী ও ট্রাইবাল জনগণের জন্য নিবেদিত অনুসমর্থন করেছেন, যেখানে আদিবাসীদের ঐতিহ্যগত ভূমি অধিকার স্বীকৃত। বনবিভাগ সামাজিক বনায়নের নীতিমালা উপেক্ষা করে, খাসিয়াদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে উপকারভোগীর একতরফাভাবে তালিকা করেছে। এতে খাসিয়াদের সঙ্গে উপকারভোগীদের মধ্যে সমস্যা ও জটিলতা তৈরি হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু দুস্কৃতকারী খাসিয়াদের পানজুম ধ্বংস করেছে এবং আক্রমণ করেছে, যা পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।’

এ অবস্থায় ডলুছড়া খাসিয়াপুঞ্জির খাসিয়াদের ওপর আদিবাসী অধিকার ও মানবাধিকার লংঘনের মতো কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করা ও প্রাকৃতিক বন ধ্বংস করে সামাজিক বনায়নের প্রকল্প গ্রহণ না করতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

জরুরিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সভাপতি সুলতানা কামাল, নিজেরা করি’র সমন্বয়ক খুশী কবির, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত, প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল, পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, বেসরকারি সংস্থা এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, জাতীয় নদীরক্ষা কমিশনের সাবেক সদস্য শারমীন মুরশিদ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল, বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, আদিবাসী পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের আঞ্চলিক সমন্বয়ক ফাদার যোসেফ গমেজ ও সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার আব্দুল করিম কিম।

বিভাগীয় কমিশনারের কাছে পত্র হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রত্নতত্ত্ব সংগ্রাহক ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহার, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ছামির মাহমুদ ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুদীপ্ত অর্জুন।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *