ডেন্টাল ও মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল ইউনিটে আদিবাসী কোটায় অ-আদিবাসী শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধের দাবি

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত স্বাস্থ্য শিক্ষার জন্য দেশের সরকারি ডেন্টাল কলেজ ও মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল ইউনিটে (বিডিএস) ভর্তির জন্য নির্ধারিত আদিবাসী কোটায় আবারও অ-আদিবাসী শিক্ষার্থী নির্বাচন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে । গত ১২ সেপ্টেম্বর বিডিএস (ডেন্টাল) কোর্সে শিক্ষার্থীদের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। ভর্তির প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বিডিএস কোর্সে আদিবাসীদের জন্য পাঁচটি আসন সংরক্ষিত। এই পাঁচ আসনের মধ্যে পার্বত্য এলাকার আদিবাসীদের জন্য তিনটি এবং অন্য আদিবাসীদের জন্য দুটি আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করার কথা। পার্বত্য এলাকার তিন আসনে সঠিক নিয়মেই শিক্ষার্থী মনোনীত হলেও অন্য আদিবাসীদের জন্য সংরক্ষিত দুই আসনে (কোড-৭৭) মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বাঙালি শিক্ষার্থীদের। এই ভর্তি পরীক্ষায় সমতলের আদিবাসীদের মধ্যে ১৫ জন কৃতকার্য হলেও তাদের কাউকেই ভর্তির জন্য মনোনীত করা হয়নি। কৃতকার্যদের মধ্যে পাঁচজন সাঁওতাল, চারজন গারো, তিনজন মণিপুরী, দু’জন ওরাঁও এবং একজন হাজং জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী রয়েছেন।

সমতল আদিবাসীদের জন্য ৭৭ কোডে নির্ধারিত ২ জন আদিবাসী শিক্ষার্থীর জায়গায় অ-আদিবাসী শিক্ষার্থীকে নির্বাচিত করা হয়েছে। অ-আদিবাসী শিক্ষার্থীরা হলেন- (১) আবু মোঃ মোস্তফা কামাল (রোল-৫৬০৩৭৫০), স্যার সলিমুল্ল্যাহ মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিট, ঢাকা এবং (২) আন্জুম ফারিয়া (রোল- ৫৪০৬৮৪২), সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিট। এসকল শিক্ষার্থীর কেউই বাংলাদেশ সরকারের গেজেটভুক্ত ৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর (আদিবাসী জাতিসত্তার) সদস্য নয়।

অবিলম্বে এসকল রোলধারী অ-আদিবাসী শিক্ষার্থীদেরকে ভর্তির তালিকা থেকে বাদ দিয়ে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য নির্বাচিত করে তালিকা প্রকাশ করার জোর দাবি জানিয়েছে ২১ বিশিষ্ট নাগরিক।

বিশিষ্টজনদের অন্যতম এবং সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই দাবী জানানো হয়। আজ শনিবার উক্ত বিবৃতিতে বলা হয়, আদিবাসী কোটায় অ-আদিবাসীরা কিভাবে স্থান পায়, তার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রযোজন। আদিবাসী কোটায় শুধুমাত্র আদিবাসী শিক্ষার্থীদেরকেই নির্বাচন করতে হবে। আদিবাসী কোটায় নির্বাচিত অ-আদিবাসী শিক্ষার্থীদের ফলাফল বাতিল করে সেসব আসনে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের নির্বাচন করে পুনরায় ফলাফল প্রকাশ করতে হবে। এই অনিয়ম বন্ধ হওয়া জরুরি বলেও মনে করেন বিশিষ্টজনরা।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, ঐক্য ন্যাপ সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সহ-সভাপতি রামেন্দু মজুমদার, মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার, উন্নয়ন কর্মী খুশী কবির, নারী নেত্রী রোকেয়া কবির, বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি এস.এম.এ সবুর, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারন সম্পাদক ও বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি অ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম. এম. আকাশ, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. রোবায়েত ফেরদৌস, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারন সম্পাদক সালেহ আহমেদ, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি অ্যাডভোকেট পারভেজ হাসেম, ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশ (ইনসাব) এর সাধারণ সম্পাদক আাব্দুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক, সংস্কৃতি কর্মী এ কে আজাদ, আরেক সংস্কৃতি কর্মী অলক দাস গুপ্ত, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক দীপয়ন খীসা, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য বিভূতী ভূষণ মাহাতো, ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বিসিএল) এর সাধারণ সম্পাদক গৌতম শীল প্রমূখ।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *