সকল আদিবাসী জাতিসমূহের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার দাবি পিসিপি’র: শিক্ষা দিবসে ৭ দফা দাবি

সর্বজনীন ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষানীতিসহ সকল আদিবাসী জাতিসমূহের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালুর দাবী জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ। মহান শিক্ষা দিবস উপলক্ষে আজ শুক্রবার এব বিবৃতির মাধ্যমে এই দাবি জানায় সংগঠনটি।

বিবৃতিতে ১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর আইয়ুব খানের পেটোয়া পুলিশ বাহিনীর গুলিতে নিহত ওয়াজিউল্লাহ, গোলাম মোস্তফা, বাবুলসহ নাম না জানা শহীদদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ। ছাত্র সমাজের রক্তস্নাত দিনটিতে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাও জানায় পিসিপি।

এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ প্রতিষ্ঠার পর পার্বত্য চট্টগ্রামের ভিন্ন্ ভাষাভাষি জুম্ম আদিবাসীদের জন্য প্রাথমিক পর্যায় পর্যন্ত স্ব স্ব মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালু করা, প্রাথমিক পর্যায় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত জুম্ম ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন ও প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ‘বৃত্তি’ ব্যবস্থা করা , দেশে ও উচ্চ মান সম্পন্ন স্কুলসহ সকল উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোটা চালু ও বৃদ্ধির দাবিসহ গোটা বাংলাদেশে একটি গণমুখী ও সর্বজনীন শিক্ষানীতি প্রণয়ণের দাবিও জানায় সংগঠনটি।

বিবৃতিতে সুস্পষ্ট করে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ও বর্তমান মহাজোট সরকার প্রবর্তিত জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ আদিবাসীদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করার অঙ্গীকার থাকলেও সরকার সেই দাবিকে উপেক্ষিত রেখে তড়িঘড়ি করে ২০১৭ সালে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও সাদ্রীসহ মোট পাঁচটি ভাষায় প্রাক প্রাথমিক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করে। কিন্তু সরকার কর্তৃক পাঠদানের সঠিক পদ্ধতি, সিলেবাস ও শিক্ষক নিয়োগ না করায় আখেরে সেটিও আদিবাসী শিক্ষার্থীদের কোন কাজে আসছেনা। অপরদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিকে অগ্রাহ্য করে ২০১৫ সালে রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজ ও রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় চালু করে পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধবংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

দেশে এখন পর্যন্ত কোনো পূর্ণাঙ্গ শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয়নি দাবি করে বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ব্রিটিশ-পাকিস্তান আমলের কেরানী তৈরী করার শিক্ষাব্যবস্থা এখনো বহাল রয়েছে। শিক্ষার সর্বজনীন অধিকার আন্দোলনের ৫৯ বছর পার হলেও স্বাধীন বাংলাদেশে শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছে বৈষম্যমূলক নীতিতে। এখনও এদেশের মানুষের শিক্ষার সর্বজনীন অধিকার অপূরণ রয়ে গেছে। নতুন মোড়কে বারেবারে সেই পুরনো নীতিই আমাদের কাঁধে চাপানো হয়েছে। প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা স্তর পর্যন্ত পরিচালিত হচ্ছে বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে। শিক্ষাকে অধিকার নয়, করা হয়েছে মুনাফা বৃদ্ধির হতিয়ার। দেশে একধারা শিক্ষা ব্যবস্থা চালু না করে, বহুবিধ ধারায় শিক্ষা চলছে। শিক্ষা এখন পণ্যে পরিনত হয়েছে। টাকা যার শিক্ষা তার এ নীতিতে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা চলছে বলেও দাবি সংগঠনটির।

এছাড়া শিক্ষাক্ষেত্রে পিপিপি, বেসরকারী বিনিয়োগ এই সব গাল ভরা বুলির আড়ালে ব্যবসায়ীদের শিক্ষা ব্যবসার নিত্য নতুন পথ বাতলে দিয়েছে বলেও মনে করে সংগঠনটি।

মহান শিক্ষা দিবস উপলক্ষে সংগঠনটি সাতটি দাবি জানিয়েছে-

১. সার্বজনীন ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষানীতি চালু করতে হবে।
২. পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি মোতাবেক পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল আদিবাসীদের স্ব স্ব মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালু করতে হবে।
৩. দেশের সকল উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোটা চালু ও বৃদ্ধি করতে হবে।
৪. প্রাথমিক পর্যায় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত জুম্ম ছাত্র—ছাত্রীদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন ও প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ‘বৃত্তি’ ব্যবস্থা করতে হবে।
৫. পার্বত্য এলাকায় প্রাথমিক শিক্ষা স্তর থেকে শিক্ষা স্তর পর্যন্ত পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ এবং অবকাঠামো নিশ্চিত করা।
৬. রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান সরকারি কলেজে অর্নাস ও মাস্টার্স কোর্সের সংখ্যা বাড়াতে হবে।
৭. পার্বত্য অঞ্চলে সকল সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রবাস চালু করা।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *