জাতীয় আদিবাসী পরিষদের ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত: ৯ দফা দাবি

সংগ্রাম ও গৌরবের ২৮ বছর। ০৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় আদিবাসী পরিষদের ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আদিবাসীদের আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, সমতল আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও স্বাধীন ভূমি কমিশন গঠন সহ ৯ দফা দাবিতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ শুক্রবার বেলা ১১টায় রাজশাহীর শহীদ জামিল আক্তার রতন মিলনায়তনে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজশাহী জেলা ও মহানগর কমিটির উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আলোচনার শুরুতে আদিবাসী অধিকার প্রতিষ্ঠায় সকল শহীদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এছাড়াও আলোচনা শেষে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা হয়।

জাতীয় আদিবাসী পরিষদ রাজশাহী জেলা কমিটির সভাপতি বিমল রাজোয়াড়’র সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য খ্রিস্টিনা বিশ্বাস, উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য দেবাশীষ প্রামানিক দেবু, সহ-সাধারণ সম্পাদক গণেশ মার্ডি, মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আন্দ্রিয়াস বিশ্বাস, জেলা সাধারণ সম্পাদক সুসেন কুমার শ্যামদুয়ার, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজকুমার শাঁও, বিভূতী ভূষণ মাহাতো, গোদাগাড়ী উপজেলা কমিটির সভাপতি রবীন্দ্রনাথ হেমব্রম, আদিবাসী যুব পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি নবদ্বীপ লাকড়া, রাজশাহী জেলা সভাপতি উপেন রবিদাস, আদিবাসী ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তরুন মুন্ডা প্রমূখ।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৯৩ সালে তৎকালিন সরকার আদিবাসীদের অস্তিত্ব অস্বীকার করেছিল এবং বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারও বাংলাদেশে আদিবাসী নেই বলে আদিবাসীদের অস্তিত্ব অস্বীকার করছে। বিভিন্ন সময় আদিবাসীদের ব্যবহার করছে। আদিবাসীদের অধিকারের প্রশ্নে তৎকালীন সরকার ও বর্তমান সরকার একই রেখায় অবস্থান করছে।

বক্তারা আরও বলেন, আদিবাসীদের আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে, সমতল আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় এবং স্বাধীন ভূমি কমিশন গঠন করতে হবে। জাতীয় আদিবাসী পরিষদের ৯ দফা দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে। এছাড়াও আদিবাসীদের উপর সকল হত্যা, নির্যাতন, নিপীড়ন এবং ভূমি থেকে উচ্ছেদ বন্ধ করার দাবি জানানো হয়।

জাতীয় আদিবাসী পরিষদের ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সাল। জাতিসংঘ বিশ্বব্যাপি আদিবাসী বর্ষ ঘোষণা করলে বাংলাদেশের তৎকালীন বিএনপি সরকার ঘোষণা দেয় যে, “বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী নেই।” একই সময়ে রাজশাহীর তানোর উপজেলার বাবইলডাইং গ্রাম গুড়িয়ে দেয় ভূমিদস্যু ও সরকারদলীয় সন্ত্রাসীরা। এতে প্রায় ৫০ টি আদিবাসী সাঁওতাল পরিবারের বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেয়। এতে আদিবাসীরা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এবং জোরদার আন্দোলনের ফলে রাষ্ট্র সেখাকার আদিবাসীদের নিজ জমিতে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয়।

১৯৯৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সরকারের আদিবাসী বিরোধী বক্তব্য ও তানোরে সাঁওতাল গ্রাম উচ্ছেদের প্রতিবাদে ৯ দফা দাবির ভিত্তিতে রাজশাহীর এক আদিবাসী গ্রাম থেকে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ নামে আদিবাসীদের নিজস্ব সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে। আদিবাসীদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও রুটি রুজির স্বাধীনতা অক্ষুন্ন রাখতে সংগ্রাম অব্যাহত রাখাই এই সংগঠনের উদ্দেশ্য। সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই আদিবাসীদের শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তি, ভূমি ও আত্মপরিচয়ের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন সংগ্রাম অব্যাহত রেখেই চলেছে।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *