আদিবাসীদের উপর হামলা ও পান জুম কেটে ফেলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

মৌলভীবাজারে পান গাছ কর্তন ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে প্রতিবাদী মানববন্ধন করেছে আদিবাসী খাসি জনগোষ্ঠী। বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সামনে সম্মিলিত নাগরিক সমাজের ব্যানারে এই প্রতিবাদী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধন থেকে ‘খাসি’রা প্রকৃতির সন্তান উল্লেখ করে তাদেরকে ভূমির মালিকানা বুঝিয়ে দেয়ার দাবি উঠে।

এছাড়া হাজারো মানুষের উপস্থিতে চলা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ৯ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে এবং গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন নেতৃবৃন্দরা।

মানববন্ধনে সিলেট বিভাগে ৭০টি খাসি পুঞ্জি থেকে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর লোকজন অংশগ্রহণ করেন। এতে সংহতি প্রকাশ করেন বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরাম,খাসি সোস্যাল কাউন্সিল, বৃহত্তর সিলেট ত্রিপুরা উন্নয়ন পরিষদ, খাসি স্টুডেন্ট ইউনিয়ন, শ্রীচুক যুব গারো সংগঠন, চা জনগোষ্ঠী আদিবাসী ফ্রন্ট,খাসি সেবা সংঘ সিলেট,বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন সহ বিভিন্ন সামাজিক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে জেলা আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ডাডলি ডেরিক প্রেন্টিসের সভাপতিত্বে অ্যাডভোকেট আবুল হাসানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন আদিবাসী নেত্রী ও মানবাধিকার কর্মী হীরামন হেলেনা তালাং।

আরও বক্তব্য রাখেন, বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরামের মহাসচিব ফিলা পতমী, খাসি সোস্যাল কাউন্সিলের সভাপতি জিডিসন প্রধান সুছিয়াং, কুলাউড়ার মেঘাটিলা খাসি পুঞ্জির নারী মান্ত্রী মনিকা খংলা, বৃহত্তর সিলেট ত্রিপুরা উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি জনক দেববর্মা, লাউয়াছড়া বন ও জীব বৈচিত্র্য রক্ষা আন্দোলনের যুগ্ন-আহ্বায়ক কাজী শামসুল হক,খাসি স্টুডেন্ট ইউনিয়ন সভাপতি, জনি লাংবাং, খাসি সেবা সংঘ সিলেট এর সাধারণ সম্পাদক নিউয়েল নায়াং এবং মৌলভীবাজারের বাপা সমন্বয়ক আসম সালেহ সোহেল,বাগাছাস কুলাউড়া শাখার সভাপতি তমাল আজিম সহ বিভিন্ন সামাজিক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, ‘ডলুছড়া ও বেলুয়া পুঞ্জিতে সামাজিক বনায়নের নামে খাসিদের উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। তাদেরকে উচ্ছেদ করতে বার বার হামলা করা হচ্ছে। শিশু সন্তানের সামনে পিতাকে পিটিয়ে আহত করা হচ্ছে। খাসি আদিবাসীদের চলাচলে বাঁধার সৃষ্টির মাধ্যমে আতংকিত করে তোলা হচ্ছে। যা স্বাধীন একটি দেশের জন্য লজ্জার। এমনকি স্বাধীন দেশে ‘খাসিদের এমন পরাধীন করে রাখা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

মানববন্ধনে খাসি সোশ্যাল কাউন্সিল সভাপতি জিডিশন প্রধান সুছিয়াং বলেন, সামাজিক বনায়নের একটি নিয়ম আছে। কিন্তু এখানে বন বিভাগ কোনো নিয়মই রক্ষা করছে না। যার কারণে ভূমিখেকো ও বন খেকোদের সাথে বিরোধ সৃষ্টি হচ্ছে। চলমান বিরোধের জেরে কর্মধা ইউনিয়নের বেলুয়া পুঞ্জিতে ৫টি খাসিয়া ও গারো পরিবারের ২ হাজার ৮ শতাধিক পান গাছ কাটা হয়। অতিমারির সময় জীবন-জীবিকার একমাত্র অবলম্বন পান গাছ কাটার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পুঞ্জিবাসী পরিবারগুলো আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয় এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। এ ঘটনায় বেলুয়াপুঞ্জির মান্রী ৮ জনকে অভিযুক্ত করে কুলাউড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ উত্থাপিত উল্লেখ যোগ্য দাবিগুলো হচ্ছে, মুরইছড়া বন বিট কর্মকর্তাকে অপসারণ করা, এ ঘটনায় দখলবাজ রফিক মিয়া গংদের আইনের আওতায় আনা, পানজুম ধ্বংসের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা, ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ প্রদান, বারবার হামলা কারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা, উপকারভোগীদের সামাজিক চুক্তি বাতিল করতে হবে এবং খাসি জনগোষ্ঠীসহ সকল আদিবাসীদের ভূমির মালিকানা এবং শান্তিপূর্ণ ভোগ দখলের অধিকার দিতে হবে।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *