বাংলাদেশের আদিবাসী এবং সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্য- ফারহা তানজীম তিতিল

বাস্তবতা হলো বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে আদিবাসীদের অস্বীকার করা হচ্ছে। ‘আদিবাসী’ বলে কোনো অফিসিয়াল শব্দও নেই এখানে। সংবিধানে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালী এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলিয়া পরিচিত হইবেন’। জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক ঘোষণাপত্রে সংজ্ঞায় ত্রুটির অভিযোগে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করেনি। দেশের একজন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী নেই’। তাহলে কি হলো? দিব্যি একসঙ্গে বসবাস করছেন, বাচ্চাকাচ্চা আছে, প্রতিদিন পিটাচ্ছেন, আর মুখে বলছেন সে আমার কেউ হয় না, তাকে আমি চিনি না। অনেক সময় পুরুষসঙ্গীটি এমন করেন তার নারীসঙ্গীর সঙ্গে—এমনটা আমরা সিনেমাতে দেখেছি। বাংলাদেশে আদিবাসী না থাকলে আদিবাসী বিষয়ক আলাপটা আসছে কোথা থেকে? কেউ কেউ বলেন, বাঙালিরা এদেশের আদিবাসী। এখন আসুন বাংলাদেশ এবং বাঙালি জাতি প্রসঙ্গে একটু কথা বলি। বাঙালি জাতির নিজস্ব ভাষা আছে। কিন্তু সংস্কৃতি এবং রক্ত মেশেনি কার সঙ্গে— সেটা খুঁজে বের করতে হবে। তাছাড়া আদিবাসের কোনো নিয়ম তারা চর্চা করছে না। বাঙালিরা তাদের মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকারের দাবিকে কেন্দ্র করে এদেশ পাকিস্তানিদের কাছ থেকে মুক্ত করল। কারণ বেশিরভাগ লোক বাংলা বললেও, বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার মর্যাদাও দেওয়া হয়নি পাকিস্তান আমলে। এই ‘বেশিরভাগ’ এবং ‘বাংলা ভাষা’ ব্যাপার দুটো বাঙালির মন তৈরিতে খুব গুরুত্ব পেয়েছে। এতো বেশি গুরুত্ব পেয়েছে যে, অন্য জাতির নিজ অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এবং মায়ের ভাষায় কথা বলা তাদের জন্য কত জরুরি, সেটা ভুলে গেছে বাঙালিরা। বাংলাদেশে বাংলা ভাষাভাষি ষোলো কোটি মানুষ আছে, ভারতে আছে দশ কোটি, বাকি চার কোটি সারাবিশ্বে। তাহলে বাংলাভাষি মানুষের অর্ধেক আসলে বাংলাদেশের বাইরে আছে। বেশিরভাগ বাঙালি বাংলাদেশে আছে না বলে অর্ধেক বাঙালি বাংলাদেশে আছে বলা দরকার। বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ বাঙালি মুসলমান এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে মুসলমান হবার পথে ক্রমশ এগোচ্ছে। বেশিরভাগ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ে আরো কথা আছে। ১৯৪০ সালের জনগণনায় বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম, মধুপুরের বনভূমি এলাকাগুলোতে অবাঙালি ছিল নিরানব্বই শতাংশ, বর্তমানে পঞ্চাশ শতাংশের কম। এদেশের যেসব এলাকায় বেশিরভাগ মানে নিরানব্বই ভাগ মানুষ আদিবাসী ছিল, সেসব জায়গা বাঙালি জাতি নিজেদের সংখ্যাধিক্য গড়ে তুলেছে রাষ্ট্র তার বাহিনীগুলোর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায়। আমরা জানি, বাংলাদেশ জন্মের কিছুকাল পরে সত্তরের দশকেই এসব এলাকায় বাংলাদেশের অন্য এলাকার মানুষ স্থানান্তরিত হয়েছিল। এই স্থানান্তর প্রাকৃতিক বা সাধারণ সামাজিক প্রয়োজনে হয়নি। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত সাপেক্ষে পরিকল্পিতভাবে হয়েছে। তারপরের পরিস্থিতি বাঙালি মুসলমানদের সন্তান জন্মদান বিষয়ে পারদর্শিতার কারণে অনেকখানি সুবিধাজনক পেয়েছে।তাই সংখযাধিক্য দিয়ে আধিপত্য করার প্রবণতা স্পষ্ট।

ক্রান্তীয় জলবায়ু এবং রাজনীতির ঘোরপ্যাঁচে বাংলাদেশ পার্বত্য চট্টগ্রাম পেল, মধুপুর বন পেল, আর সারাদেশ মিলে কমপক্ষে পঞ্চাশটি ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষ পেল। কিন্তু বাংলাদেশ এদেশের চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, তঞ্চঙ্গ্যা, চাক, মণিপুরী, খাসি, গারো, হাজং, সাঁওতাল, ওঁরাও, মুণ্ডা, কড়া, কডা, রাখাইন—কাউকে পেল না। কাউকে দরকার নেই বাংলাদেশের। বাংলাদেশ কেবল বাঙালি চায়, বিশেষ করে বাঙালি মুসলমানদেরকে চায় এদেশ। ‘আমরা সবাই বাঙালি’, আদিবাসীদেরকে দরকার নেই। সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য দরকার নেই। এদেশে পিঁপড়ের মতো জীবন-যাপন মেনে নেওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়াতে হবে। আর তাদের খাবারের যোগান দিতে আদিবাসীদের জমিগুলোও লাগবে। যদিও পাহাড়ের জমিকে আবাদযোগ্য করার শারীরিক শক্তি বাঙালির দেহে নেই, পাহাড়ের প্রাকৃতিক বর্ণাঢ্যতা বোঝার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা নেই, তবুও সমান করা পাহাড়গুলো লাগবে। সমতলের আদিবাসী সংস্কৃতিও দরকার নেই। তারা নিপীড়নে, অপমানে নিঃস্ব হোক বা বাঙালি হয়ে যাক।

তবুও আদিবাসী প্রশ্নটি এখনো সামনে আসছে। কারণ তারা নিজেদের দৃঢ় অস্তিত্ব, বর্ণাঢ্য জীবন এবং সমস্ত মানবীয় সত্তা নিয়ে উপস্থিত এই দেশে। তারা মাত্র একটি জাতি নয়—সরকারের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর তালিকা, যেটাকে আমরা আদিবাসী জাতিসমূহের তালিকা বলছি সেখানেও পঞ্চাশটি ভিন্ন ভিন্ন জাতির নাম রয়েছে। তাদের সবার আলাদা আলাদা জাতিগত বৈশিষ্ট্য আছে। নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, রীতিনীতি আছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাদের রীতিনীতি এই বৃহৎসংখ্যক মানুষের জাতের চেয়ে সুগঠিত এবং পরিশীলিত। বাংলাদেশে আদৌ আদিবাসী আছে কিনা, আদিবাসীদেরকে উপেক্ষা করতে হবে নাকি মানবিক মর্যাদা দিতে হবে, তাদের জমি কাদের হবে, তাদের জীবন-যাপন পশ্চাৎপদ কিনা—এসব প্রশ্নের উৎপত্তির কারণ সম্ভবত সভ্যতার সঙ্গে আদিবাসের রীতির যে বিরোধ, সেখান থেকে হয়েছে। আদিবাসী কে? এই প্রশ্নের উত্তরে লিখেছিলাম, আদিবাসের রীতি জানেন যিনি এবং মানেন যিনি। আদিবাসী মানুষ চাকা আবিষ্কার করবে কিন্তু মোটরগাড়ি ব্যবহার করবে না। জুম করে, সেখানে আবার যাতে গাছ জন্মাতে পারে সেজন্য জমিকে কিছুকাল অনাবাদি রাখে তারা। প্রকৃতির উপকরণ এমন মমতা নিয়ে ব্যবহার করে, যেন সেখানে বিনষ্ট করা বা বিষাক্ত করার কিছু না থাকে। বন, প্রাণ, প্রকৃতির সঙ্গে তার সম্পর্ক আপন ভাই-বোনের মতো মমতায় জড়ানো থাকে। অন্যদিকে, সভ্যতার লক্ষ্য ব্যক্তির বস্তুগত সুখ বৃদ্ধি করার জন্য প্রকৃতির উপাদানগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার করা। হরপ্পা থেকে মায়া, মহেঞ্জোদারো থেকে ইনকা, বা আজকের দিনের বাজার সভ্যতা—সবগুলোর পেছনে আছে নিষ্ঠুরতার নানা গল্প। সভ্য মানুষকে নিপীড়ন করতেই হয়। মাটিতে কোদাল চালিয়ে বেশি ফসল জন্মাতে হয়, নদীতে বাঁধ দিতে হয়, সাগরে সেতু করতে হয়, রকেটে করে মহাকাশে যেতে হয়। দরকার হলে মানুষের চিন্তাকে অন্ধকারে ঢেকে দেবার জন্য মিথ্যে তত্ত্ব আবিষ্কার করতে হয়। দেশ, কাল, ধর্ম, সংস্কৃতি, নারী, শিশু, বিকলাঙ্গ, শিল্পী, শ্রমিক, আদিবাসী, নিজ পরিবারের আপাত ভুল পথগামী সদস্য— নানা নাম দিয়ে নিজের স্বজাতিকে নিপীড়ন করতে হয়। সেকারণে এই দুই বিপরীতমুখী দর্শনের সমাজ এবং মানুষের বিরোধ আসলে মৌলিক। তার রূপ এবং ভাষা যেমনই হোক না কেন।

সভ্যতার গোড়াতেই আছে নিয়ন্ত্রণের কথা। গড়ে তুলতে হলে নিয়ম দরকার হয়। ‘খাঁটি সোনায় গয়না হয় না’। যন্ত্র আবিষ্কার, শিল্প বিপ্লব এবং ইউরোপের আমেরিকা পৌঁছে যাওয়া সমসাময়িক ঘটনা। পাশ্চাত্য মতের পুস্তকাদিতে আবিষ্কারের কথা বলা হলেও ইউরোপীয়রা তখন আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদেরকে নিপীড়ন করেছে, সেখানকার মানুষ এবং সংস্কৃতির ওপরে আধিপত্য বিস্তার করেছে। মূলধারার ভারতবাসী যারা তখন দেশীয় লোক বা ‘নেটিভ পিপল’ বলে পরিচিত ছিল ইউরোপের কাছে, তাদেরকে সংগ্রাম করতে হয়েছে দু’শো বছর। ভেবে দেখুন, এই মানুষেরা যেমন মোটরগাড়ির জন্য তৎপর হননি, এরা রাষ্ট্র গঠন, রাজ্য দখলেও আগ্রহী নয়। আদিবাসী মানুষ সবসময় স্বনির্ভর এবং রাষ্ট্রের সাহায্যপ্রার্থী নয়। কৃষক বিদ্রোহের মতো সাঁওতাল বিদ্রোহ হয়েছে। মুন্ডা বিদ্রোহ হয়েছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধেও অংশ নিয়েছে আদিবাসীরা। আদিবাসী মানুষ ভীরু না, তবে দখলদার নয়। ব্যক্তিত্বের এই ঋজুতা প্রকৃতির কাছে থেকে তারা চর্চা করে, নিজ নিজ সমাজের নিয়ম অনুযায়ী। সেসব নিয়ম অল্প, সরল কিন্তু কঠিন।

বাংলাদেশের মানুষ বৃটিশ শাসন থেকে মুক্ত হয়েছে। পাকিস্তানি বর্বরতা থেকে মুক্ত হয়েছে। বৃটিশ শাসনের অনেক আগেই আদিবাসীরা এখানে ছিল। রাজনীতি নিয়ে সহজ বনবাসী এবং পাহাড়বাসী মানুষদের আগ্রহ ছিল না। থাকতে পারে না। রাষ্ট্র, রাজনীতি, সভ্যতার সঙ্গে সহজ জীবনের মৌলিক বিরোধের কারণেই দখলের রাজনীতিতে আদিবাসীদের আগ্রহ থাকার কথা নয়। কিন্তু তারা নিজেদের জীবনযাপন করছিলেন নিশ্চয়ই রাষ্ট্রের উদ্ভবের আগে থেকেই। অস্ট্রেলিয়া আর আমেরিকাতে দখলি সভ্যতার নিষ্পেষণের কথা আমরা জানি। ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের মধ্যে ইংরেজরা শাসক হতে পেরেছিল। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বাতন্ত্র্য স্পষ্ট ছিল। ১৭৬০ সালে চট্টগ্রাম এলাকা মোগলদের কাছ থেকে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে চলে যায়। তবে পার্বত্য জনগোষ্ঠীর মধ্যে হেডম্যানদের কর্তৃত্ব বহাল থাকে। ১৮২৯ সালে ব্রিটিশ কমিশনার স্বীকৃতি দেন যে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীগুলো ব্রিটিশ প্রজা নয়—তারা কেবল করদাতা। ১৯০০ সালে কর আদায়ের সুবিধার্থে পার্বত্য অঞ্চলকে চাকমা, বোমাং ও মং সার্কেলে বিভক্ত করা হয় এবং প্রতিটি সার্কেলের চিফ নিযুক্ত করা হয়। এখনও এই সার্কেল চিফদের সম্মানিত করা হয় রাজা বলে। ভারত ভাগের সময়ে রেডক্লিফ লাইন টেনে তৎকালীন পাঞ্জাব প্রদেশ এবং বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ভাগ করা হয়। অনেকে মনে করেছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম ভারতের ভাগে পড়বে। কিন্তু কিছুটা অপ্রত্যাশিতভাবে এই অঞ্চল পাকিস্তানের ভাগে পড়ল। ৯৭ শতাংশ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী পার্বত্য চট্টগ্রামবাসীর আপত্তি থাকলেও অস্বাভাবিকভাবেই ভূগোল ভাগ হলো।

পাকিস্তান আমলে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের মধ্য দিয়েই প্রথম সরকারি সিদ্ধান্তে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীরা বাস্তুচ্যুত হয়। লাখ লাখ আদিবাসীকে উচ্ছেদ করে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের চল্লিশ শতাংশ কৃষি জমি প্লাবিত করে মাত্র ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হয়। পার্বত্য আদিবাসীদের বৃহৎ বাস্তুচ্যুতির স্মরণকালের প্রথম ঘটনা এটি। আদিবাসী জীবনে আপাত উন্নয়নপন্থীদের প্রথম আঘাত। এই ঘটনাকে ভালোভাবে মেনে নেয়ার কোনো কারণ আদিবাসীদের দিক থেকে, থাকার কথা নয়। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের দর্শনের কথা আগেই বলেছি।

এরপরের ইতিহাস আমাদের জানা। পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ প্রতিরোধ গড়ে তোলে, সহিংস রাজনীতির ইতিহাসও অজানা নয়। যদিও জনসংহতি সমিতির সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি হয়, যাকে আমরা পার্বত্য শান্তি চুক্তি বলে থাকি। শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন কতটা হয়েছে, এ নিয়ে সরকার ও জনসংহতির মধ্যে তর্ক রয়েছে। কিন্তু চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করা যে এই রাষ্ট্রের পক্ষে অসম্ভব, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। পার্বত্য অঞ্চল থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করার ইচ্ছে সরকারের আদৌ রয়েছে বলে মনে হয় না। আদিবাসীদেরকে অস্বীকার করা এদেশের রাষ্ট্রীয় দর্শন। সমতলের আদিবাসীরা তো অনেক ক্ষেত্রেই নিজের ভাষা, সংস্কৃতি এবং স্বভাবও হারিয়েছে। তারা অনেকেই বৃটিশ শাসনের দরকারি কাজে উদ্বাস্ত হয়ে এ অঞ্চলে এসেছে। এক্ষেত্রে গঞ্জু, মুণ্ডা, মালপাহাড়িয়াদের উদাহরণ দেয়া যায়। আজকের দিনে বন হারিয়ে স্বনির্ভরতা হারিয়েছে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল, মধুপুরের গড়, সুন্দরবন, গারো পাহাড়ের পাদদেশ, সিলেট অঞ্চলের চা বাগান এবং পার্বত্য পাহাড়ের আদিবাসীরাও। অভ্যাস বদলে গেছে অনেকখানি। তবুও এ দেশের আদিবাসীরা সবাই নিজেদের অস্তিত্ব ভোলেনি। আদিপ্রাণ প্রায় সবার মধ্যে এখনো বিদ্যমান। স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের জীবনের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার তাদেরকে এখনো বাঁচিয়ে রাখতে পারে, টিকিয়ে রাখতে পারে। বাংলাদেশ যদি জাতিগত এবং সাংস্কৃতিক বহুত্বকে স্বীকার না করে, তাহলে আন্তর্জাতিক চাপও হয়তো খুব বেশি পেতে হবে না। তবে জাতি হিসেবে বাঙালি জাতি এবং রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ তাদের একদেশদর্শী, বৈচিত্র্যহীন এবং জ্ঞানহীন বিবর্ণতায় নিজেরাই টিকে থাকার অযোগ্য হয়ে উঠবে বলে মনে হয়।


ফারহা তানজীম তিতিল,সহকারী অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *