শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় কবি-শিক্ষক-মানবাধিকারকর্মী রাজীব মীরকে সুহৃদদের স্মরণ

প্রয়াত তরুণ কবি-শিক্ষক ও মানবাধিকারকর্মী রাজীব মীরের ৩য় মৃতুবার্ষিকীতে তাকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করলো তাঁর স্বজন ও সুহৃদরা। রাজীব মীরের সুহৃদদের উদ্যোগে আয়োজিত এই ভার্চুয়াল স্মরণসভা অনলাইন সংবাদমাধ্যম আইপিনিউজ এর মাধ্যমে ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। স্মরণসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌসের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও ঐক্য ন্যাপের আহবায়ক শ্রী পংকজ ভট্টাচার্য।

স্মরণসভার শুরুতে রাজীব মীরের কর্ম ও জীবনবৃত্তান্ত সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করেন তার বন্ধু সুমু হক। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, রাজীব মীরের আসল নাম হচ্ছে মীর মোশাররফ হোসেন। তিনি ১৯৭৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ভোলায় জন্মগ্রহণ করেন। পেশাগত জীবনে রাজীব মীর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে র্সাবাদিকতা বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতা করেছিলেন। এছাড়াও বিভিন্ন সংবাদপত্রে লেখালেখি করতেন এবং টেলিভিশনেও টক শো সঞ্চালনা করতেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থসমূহগুলি হচ্ছে- ১. জেন্ডার সাংবাদিকতা ২. ভোলা জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ৩. সংবাদপত্রে শাহবাগ ৪. মিডিয়ার মন ৫. প্রেমে পড়েছে পাথর (কাব্য) ৬. শুধু তোমার জন্য লিখি (কাব্য) ৭. পুড়ে যাই উড়ে যাই (কাব্য) প্রভৃতি। ২০১৮ সালের ২১ জুলাই মাত্র ৪২ বছর বয়সে লিভার সিরোসিস এ আক্রান্ত হয়ে এই সম্ভাবনাময় জীবনের অকালপ্রয়াণ ঘটে।

তাঁর সুহৃদরা রাজীব মীরের সাথে ঘটে যাওয়া নানান স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা স্মরণ করেছেন প্রচন্ড স্মৃতিকাতরতায়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাসিরউদ্দিন বলেন, রাজীব মীর খুব সহজেই শিক্ষার্থীদের আপন করে নিতে পারতো। তিনি অত্যন্ত সৃজনশীল মনের অধিকারী ছিলেন।

প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক কবি ও সাংবাদিক বলেন- রাজীব মীর সক্রিয়ভাবে মানুষের পাশে দড়িয়েছেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে এবং মৌলবাদের বিপক্ষে সোচ্চার থাকতেন। তাঁর বিরুদ্ধে একটি সংঘবদ্ধ অপপ্রচার হয়েছিল। সেকারণে তাঁর সাথে ঘটে যাওয়া প্রকৃত সত্য উদঘাটনে আমাদের দ্বায় রয়েছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অপর একজন শিক্ষক কামাল হোসেন বলেন- রাজীব মীর সসসময়ই রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে ছিলেন। হয়তো সেকারণেই তিনি নানান ষড়পন্ত্রের শিকারও হয়েছেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের চেয়ারম্যান ড: মো আব্দুল কাদের বলেন- রাজীব মীর সৃষ্টিশীল এক সম্ভাবনা ছিলেন। লেখালেখি করতেন। নানাভাবে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করতেন। তার স্মৃতি যেন হারিয়ে না যায় তার জন্য চেষ্টা করতে হবে।

আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন- রাজীব মীর আদিবাসীদের মানবাধিকারের জন্য নিবেদিত বন্ধু ছিলেন। আদিবাসীদের অধিকারের জন্য বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে গিয়েছেন। আমরা চেষ্টা করবো তার প্রতি আমাদের যে দ্বায়িত্ব রয়েছে তা যথার্থভাবে পালন করতে।

স্মরণসভায় রাজীব মীরের কাব্যগ্রন্থ থেকে দুইটি কবিতা পাঠ করে শোনান আদিবাসী অধিকার কর্মী মেইনথিন প্রমীলা ও এনটিভির অনুষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার জাহাঙ্গীর চৌধুরী। একে একে রাজীব মীরের জীবন ও কর্ম নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত, রাজীব মীর এর শিক্ষার্থী সাইফুল, বিজু রায়, তাঁর বোন নিপা, তাঁর সহপাঠী ড: আবু নাসের রাজীব, সুমনা খান, আদিবাসী নেতা এ্যান্ড্রু সলোমার প্রমুখ ব্যক্তিগণ।

পরিশেষে স্মরণসভার সভাপতি বর্ষীয়ান রাজনীতিক পংকজ ভট্টাচার্য বলেন- “রাজীব ছিল প্রকৃত মানুষ, শিক্ষাব্রতী, ছাত্রদের ঘনিষ্ট এবং মানবতাবাদী। সে লেখালেখি করেছে, শিক্ষকতা করেছে। লেখালেখিতে সুদক্ষ ছিল। তাঁকে বিস্মৃতির আড়ালে হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না।”

স্মরণসভাটি ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করেছে অনলাইন সংবাদমাধ্যম আইপিনিউজ।
অনুষ্ঠানের লিংক- https://fb.watch/6XHjzeORBu/

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *