আলীকদমের ডায়রিয়া পীড়িত ম্রো শিশুদের জন্য সহায়তার আহ্বান

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার কুরুকপাতা ইউনিয়নস্থ মাংরুম পাড়া, ইয়ুংচা পাড়া ও বুলাই পাড়ায় গত কিছুদিন ধরে ডায়রিয়ার প্রকোপ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। এই প্রকোপে পড়ে এই পর্যন্ত ১০ জন ম্রো শিশুর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে পাওয়া গিয়েছে। অসুখের উপসর্গ হিসেবে প্রচন্ড বেগে পাতলা পায়খানা, বমি ও জ্বর দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

এদিকে নিরুপায় অনেক পাড়াবাসী পাড়া ত্যাগ করে অন্যত্রে বাস করছেন বলেও জানা যাচ্ছে। এদিকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারেরা এটিকে ডায়রিয়া কিংবা কলেরার মহামারী বলে অনুমান করছেন।

এই অবস্থায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিয়ে উপদ্রুত এলাকায় উপস্থিত হওয়ার উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন স্থানীয় ম্রো ছাত্র ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রেং ইয়ং ম্রো’র নেতৃত্বে কয়েকজন আদিবাসী ছাত্র ও যুব।

উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন এই সহযোগিতা তারা আপাতত তিনটি উপায়ে গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।প্রথমত ঔষুধপত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করছেন তারা। ডাক্তারদের পরামর্শ নিয়ে ডায়রিয়া নিরাময়ের বিভিন্ন ঔষুধ এবং খাবার স্যালাইনও সংগ্রহ করছেন তাঁরা। এছাড়া পানির ফিল্টার, সাবান, পানি বিশুদ্ধকরণের ট্যাবলেট ও পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহের মাধ্যমে সহযোগীতা করা যাবে আয়োজকদের মাধ্যমে।

এদিকে এবিষয়ে জানতে চাইলে রেং ইয়ং ম্রো আইপিনিউজকে বলেন, যেখানে পৃথিবীর অন্যান্য প্রান্তের মানুষ বিশ্ব সভ্যতার নানাবিদ বিষয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য লড়াই করছে সেখানে পাহাড়ের ম্রো শিশুরা এখনো ডাইরিয়ায় মারা যাচ্ছে। এটা খুবই দু:খজনক। কত সুবিধা বঞ্চিত ও অধিকার বঞ্চিত হলে এই সময়েও এত ম্রো শিশু ডায়রিয়ায় মারা যায় তা আবারো স্পষ্ট হল বলেও মনে করেন তিনি। এই শিশুদের সহায়তার আহ্বানও জানান তিনি।

আইপিনিউজকে তিনি আরো বলেন, এই ধরণের সাময়িক সহায়তা পাহাড়ের আদিবাসীদের এই সমস্যাগুলোর চূড়ান্ত সমাধান দিবে না। তবে সংকট কাটাতে দ্রুত সহযোগীতারও বিকল্প নেই। কিন্তু তাদেরকে যদি এগিয়ে নিতে হয় এবং এই ধরণের পরিণতি থেকে বাঁচাতে হয় তাহলে তাদেরকে সমান অধিকার দিতে হবে যাতে তারা অন্যান্যদের মত এগিয়ে আসতে পারে। এই বেপারে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের বিকল্প নেই বলেও মনে করেন তিনি।

উদ্যোক্তাদের কাছে ঔষধপত্র ও সরঞ্জামাদি পাঠানোর ঠিকানাঃ
রুমেন চাকমা,
সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা
মোবাইলঃ+88 01571170690

এছাড়া আর্থিক সাহায্য পাঠিয়েও সহযোগিতা করতে পাররেন নিম্নোক্ত একাউন্টগুলোতে-
বিকাশঃ

+8801846239684 (পার্সোনাল), রেং ইয়ং ম্রো, জাবি
+8801857653139 (পার্সোনাল), রুমেন চাকমা, চবি
+8801853166454 (পার্সোনাল), মনিরা ত্রিপুরা
নগদ ও রকেটঃ
+8801305567089

ব্যাংক একাউন্টঃ
একাউন্ট নাম্বারঃ 00200310028445
ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড (সিডিএ এভিনিউ শাখা)
ম্যাকলিন চাকমা
চবি

এছাড়া এই অবস্থা মোকাবেলার জন্য ঘটনাস্থলে একটি মেডিক্যাল টিম গিয়ে অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করার জন্য যদি কোনো চিকিৎসক বা চিকিৎসা বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী যদি স্বেচ্ছাসেবা দিতে আগ্রহী হয় তবে তাঁদেরকে দ্রুত এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান উদ্যোক্তারা।

এদিকে উক্ত সহায়তা আগামী ২৬ জুনের মধ্যে সমাপ্ত করে উপদ্রুত এলাকায় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উদ্যোক্তারা। ইতিমধ্যে অমর্ত বারী ফাউন্ডেশন সহ বিভিন্ন মানবিক সংস্থা ও ব্যক্তি এই ম্রো শিশুদের জন্য সহায়তা পাঠিয়েছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৫০ হাজারের অধিক অর্থ এই উদ্যোগে জমা পড়েছে বলে আয়োজকরা আইপিনিউজকে নিশ্চিত করেছেন।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *