পুলিশি বাঁধার মুখেও পিসিপি’র ১০ মিনিটের সমাবেশ

গত কিছুদিন আগে একটি বিশেষ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাবাহিনী কর্তৃক খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে তিন আদিবাসীর জায়গা দখলের অভিযোগ ওঠে সংবাদ মাধ্যমে। জানা যায়, পর্যটনের জন্য রাষ্ট্রীয় একটি বিশেষ বাহিনী কর্তৃক খাগড়াছড়ি জেলাধীন গুইমারা উপজেলার সিন্দুকছড়ি-মহালছড়ি সড়ক পুংখিমুড়া পাড়ার সনেরঞ্জন ত্রিপুরার ঘর ভাংচুর ও অবৈধভাবে ভূমি বেদখল করা হয়েছে। একই সাথে সনেরঞ্জন ত্রিপুরার জায়গার পাশে পনেন্দ্র ত্রিপুরা (৩৫) ও তারামুনি চাকমা নামে আরো দুই পাহাড়ির জায়গা বেদখলে নেওয়ার অভিযোগও ওঠে।

এরই প্রতিবাদের বিক্ষোভ ও সমাবেশ চলছে পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গায় । এরই ধারাবাহিকতায় আজ পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের উদ্যোগে চট্টগ্রামের চেরাগী মোড়ে একটি সমাবেশ ছিল। উক্ত সমাবেশ আয়োজকদের মধ্যে আরো ছিল বিএমএসসি, টিএসএফ ও পাহাড়ি শ্রমিক কল্যাণ ফোরাম। কিন্তু সমাবেশ শুরুর আগের দিন থেকে আয়োজকদের সমাবেশ করতে দেয়া হবে না বলে আইন রক্ষাকারী বাহিনী থেকে জানিয়ে দেয়া হয়। তারপরেও সমাবেশ করতে গিয়ে পুলিশি বাঁধার মুখে পড়ে আয়োজকরা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আয়োজকদের অন্যতম এবং পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রুমেন চাকমা আইপিনিউজকে বলেন, গতকাল (১৪ জুন) রাত থেকে সিএমপি থেকে ফোন দেয়া হচ্ছিল আপনারা আসবেন না, প্রোগ্রাম করতে পারবেন না। কিন্তু তবুও আমরা সিদ্ধান্ত নিই যেকোন পরিস্থিতিতে আমরা যাবোই। সকালেও ফোন দিয়ে না আসতে বলা হয়।

এমনকি গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সংগঠক শাহ মাহমুদ শাহীবকে পর্যন্ত গতকাল ফোন দিয়ে পিসিপির প্রোগ্রামে না যাওয়া এবং তাদের (পিসিপি’র) অনুমতি নেই এবং সমাবেশ করতে পারবে না বলেও আইনরক্ষাকারী বাহিনী থেকে বলা হয় বলে জানান রুমেন চাকমা।

এদিকে চেরাগী পাহাড় মোড়, প্রেসক্লাব এলাকায় যেন যুদ্ধের পরিস্থিতি ছিলো উল্লেখ করে পিসিপি নেতা রুমেন চাকমা আইপিনিউজকে আরো বলেন, সকাল থেকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ চেরাগী পাহাড় মোড় ঘিরে রেখেছিল বলে আমরা জেনেছি। চবি ক্যাম্পাস থেকে গাড়ি ছাড়ার পর পূর্ব থেকে চেরাগী পাহাড় এলাকায় থাকা আমাদের কয়েকজন আন্দোলন কর্মী জানায় যে চারদিকে পুলিশ, ছবি পর্যন্ত তোলা যাচ্ছে না। আদিবাসী দেখলেই পুলিশ বলছিল এখানে আজকে প্রোগ্রামের অনুমতি নাই, তোমরা চলে যাও।

এদিকে একটি প্যাকেটে ব্যানার নিয়ে দুই জন সেখানে গেলে, দোকানে চা খাওয়ার সময় পুলিশ তাদের ফলো করে এবং চেক করে হয়রানীর কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, এসময় তাদের কাছ থেকে ব্যাগসহ ব্যানার পেয়ে নিয়ে যায় এবং পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণ চাকমা’কে খুঁজতে থাকে এবং তাকে পেলে আজকে নিয়ে যাবো বলেও হুমকি দেয়া হয়।

এদিকে চেরাগী পাহাড় মোড়ে পৌঁছা মাত্রই আয়োজকদের বহনকারী গাড়িকে চারদিক থেকে পুলিশ ঘিরে ধরে এবং প্রোগ্রামের অনুমতি নেই বলে আয়োজককারীদের ফেরানোর চেষ্টা করে বলে জানা যায়। তবে পুলিশের সাথে কথা কাটাকাটির পর তারা ১০ মিনিট সমাবেশ করার অনুমতি দেয় বলে নিশ্চিত করেছেন পিসিপি নেতা রুমেন চাকমা।

উক্ত ১০ মিনিটের মধ্যে পিসিপির চবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রুমেন চাকমা, বিএমএসসি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মংসাই মারমা ও টিএসএফের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সদস্য ধীমান ত্রিপুরাসহ বক্তব্য রাখেন।
উক্ত সমাবেশে পিসিপি নেতা রুমেন চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিকে লঙ্ঘন করে ২০০১ সালে সরকার ‘অপারেশন উত্তরণের’ নামে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী নিয়ন্ত্রিত শাসন বলবৎ করে। অবিলম্বে পাহাড় থেকে ’বিশেষ’ রাষ্ট্রীয় বাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হোক এবং স্থানীয় সিভিল প্রশাসনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হোক। পাহাড়ে স্থানীয় সিভিল প্রশাসন থাকা স্বত্বেও উক্ত রাষ্ট্রীয় বাহিনী বাড়ি ভাংচুরের মত কর্মকাণ্ড করে কিভাবে! পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি কারাগারে পরিণত হয়েছে। চট্টগ্রাম শহরেও আমাদেরকে প্রতিবাদ সমাবেশ করতে বাধা দেয়া হচ্ছে।

এদিকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নিপন ত্রিপুরা আইপিনিউজকে বলেন, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ একটি গণতান্ত্রিক ছাত্র সংগঠন। দীর্ঘদিন ধরে গণতান্ত্রিকভাবে নিজেদের দাবীনামাগুলো তুলে ধরে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঐতিহ্য পিসিপি’র রয়েছে। কিন্তু গণতান্ত্রিক একটি সংগঠনকে এভাবে পুলিশি বাঁধায় সমাবেশ করতে না দেওয়াটা সরকারের ফ্যাসিস্ট আচরণকে পরিষ্কার করেছে। পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলন সহ পাহাড়ীদের ন্যায় সঙ্গত আন্দোলনকে ফ্যাসীবাদী কায়দায় দমন করার যে চক্রান্ত তা পুলিশের এই আচরণের মধ্য দিয়ে আরো সামনে এলো বলেও মনে করেন এই ছাত্রনেতা।

তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রীয় বাহিনী কর্তৃক ঘর ভাঙচুর এবং অবৈধভাবে ভূমি দখলের যে অন্যায় সংঘটিত হয়েছে পুলিশ তথা সরকার আজ তাদের আচরণের মধ্য দিয়ে কার্যত সে অন্যায়কে বৈধতা দিলো। কিন্তু পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ সরকারের এই বাঁধায় ভীত নয়। ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ তাঁর আন্দোলন অব্যাহত রাখবে বলেও অভিমত ব্যক্ত করেন ঐতিহ্যবাহী এই ছাত্র সংগঠনের ছাত্রনেতা।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *