মহালছড়িতে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে পর্যটনের জন্য ঘর ভাংচুর ও জমি দখলের অভিযোগ

নাইতং পাহাড়ের পাঁচ তারা হোটেল প্রকল্পের পর এবার খাগড়াছড়ি জেলাধীন গুইমারা উপজেলাধীন পুংঙ্খি মোড়া এলাকায় পর্যটন স্থাপনা ও মোটেল নির্মাণের লক্ষ্যে তিন জুম্ম আদিবাসীর জায়গা দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীরা এই অভিযোগটি করেছেন রাষ্ট্রীয় একটি ‘বিশেষ’ বাহিনীর বিরুদ্ধে। উক্ত জায়গায় গতকাল (১২ জুন) রাত ১১ টার দিকে আইন রক্ষাকারী বাহিনী তিন আদিবাসীর জায়গা বেদখলে নিয়েছে বলে এলাকাবাসীরা অভিযোগ করেছেন ।

ভুক্তভোগী তিন আদিবাসী হলেন, সনে রঞ্জন ত্রিপুরা (৪০), পনেন্দ্র ত্রিপুরা (৩৫) ও তারামুনি চাকমা।

এদিকে ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর তথ্যমতে জানা যায় , গত বছর মহালছড়ি-সিন্দুকছড়ি রাস্তা সংস্কার শুরু হলে ভুক্তভোগী সনে রঞ্জন ত্রিপুরা’র জায়গাটিও নিরাপত্তাবাহিনী বেদখলে নিয়ে নেয়। পরে সনে রঞ্জন ত্রিপুরা প্রতিবাদ জানিয়ে বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্যে সমাধান চেয়ে গত ২৫ মে খাগড়াছড়ি জেলার এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরাকে জায়গার দলিল দস্তাবেজ দেখালে এমপি তাকে নিজের জায়গায় বাড়ি নির্মাণের অনুমতি প্রদান করেন।

এরপর ফিরে এসে তিনি (সনে রঞ্জন) পাড়া প্রতিবেশিদের সহায়তায় বাড়িটি নির্মাণ করেন। বাড়িটি নির্মাণের পরের দিন ২৬ মে নিরাপত্তাবাহিনীর একটি দল গিয়ে বাড়ি নির্মাণের বাধা প্রদান করে এবং সনে রঞ্জন ত্রিপরার থেকে জায়গার দলিল নিয়ে যান।

তার দুইদিন পর (২৮ মে )সনে রঞ্জন ত্রিপুরাসহ চার জনের একদল প্রতিনিধি রাষ্ট্রীয় ঐ বাহিনীর সদস্যদের সাথে দেখা করতে যান । এসময় দুমনিঘাটের নিরাপত্তাবাহিনীর ক্যাম্পের এক কর্মকর্তা সনে রঞ্জন ত্রিপুরাসহ চার জনের প্রতিনিধি দলকে বলেন, সনে রঞ্জনের কাগজপত্র দেখলাম কিন্তু জায়গাটি তার নামে রেজিষ্ট্রি নাই। তাই জায়গার মালিক সনে রঞ্জন হতে পারে না। তোমরা মেনে নাও, এখানে পর্যটন হলে তোমাদের লাভ হবে। তোমরা যদি এ জায়গা ছেড়ে না দাও তাহলে তোমাদের নামে ভূমি বেদখলকারী হিসেবে থানায় মামলা দেয়া হবে।

এছাড়া এ কথা বলে তিনি গুইমারা থানা থেকে ৩ সিএনজি পুলিশও নিয়ে আসা হয় বলেও জানা যায়। তবে উপস্থিত প্রতিনিধিরা বলেন, জায়গাটি আমাদের নামে রেজিষ্ট্রিকৃত, তাই আমরা ছেড়ে দিতে পারি না। আপনারা মামলা আর যাই করুন বলে ক্যাম্প থেকে গ্রামে ফিরে আসেন।

এদিকে বিষয়টি গত (৫ জুন) স্থানীয় এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরাকে অবহিত করা হলে তিনি বলেন, বাড়ি যেহেতু নির্মাণ শেষ হয়েছে। তোমরা অব্যাহত রাখ। তবে ফিরে এসেই নিরাপত্তাবাহিনীর সাথে কথা বলে মিমাংসার কথা জানান এই সাংসদ।

এদিকে পর্যটন স্থাপনা নির্মাণ করার লক্ষ্যে গতকাল (১২ জুন) রাত ১০ঃ৩০ টায় আইনরক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এসে সনে রঞ্জন ত্রিপুরার নির্মাণ করা বাড়ি ভেঙ্গে দেয় বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়। এরপর বাড়ির খুঁটি , আসবাব পত্রও নিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সনে রঞ্জন ত্রিপুরা বলেন, আমি আমার নামে রেজিষ্ট্রিকৃত জায়গা ফেরত চাই। জায়গা ফেরত পেতে তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগীতা চান। আইনের মাধ্যমে সঠিক সমাধানও চান এই ভুক্তভোগী।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *