কর্মসংস্থানমুখী বাজেটের দাবিতে যুব ইউনিয়নের বিক্ষোভ

২০২১-২০২২ অর্থ বছরের ঘোষিত বাজেটে করোনা অতিমারি ও স্বাভাবিক কর্মসংস্থান সংকট নিরসনে বাস্তবতা নেই। অতিমারী বাস্তবতাকে উপেক্ষা করা হয়েছে, প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়নি।

বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, প্রবৃদ্ধির আসক্তিতে মত্ত সরকার কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যর্থ হয়েছে। যেকোন প্রক্রিয়ায় প্রবৃদ্ধির সুচক সংখ্যা পুরণে সরকারের যে প্রচেষ্টা, তা নিছক ব্যর্থতাকে আড়ালের কৌশল মাত্র।

আজ ৫ জুন ২০২১, শনিবার, বিকালে পলটন মোড়ে কর্মসংস্থানমুখী বাজেটের দাবিতে দেশব্যাপী যুব ইউনিয়নের বিক্ষোভ কর্মসুচির অংশ হিসেবে আজ ঢাকায় প্ল্টন মোড়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে নেতৃবৃন্দ একথা বলেন।

যুব ইুনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হাফিজ আদনান রিয়াদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম, সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুল ইসলাম জুয়েল প্রমুখ।

সভাপতির বক্তৃতায় যুবনেতা রিয়াদ বলেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে নিম্ন মধ্যবিত্ত ও সমাজের দরিদ্র ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষের জীবন-জীবিকা সংকটে। এই মুহূর্তে বৃহত্তর তরুণ ও যুব জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি অন্যতম একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ২০১৯ এর প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশে বেকারত্বের হার ৪.৯৯ শতাংশ। তবে যুবসমাজের বেকারত্বের হার ১১.৯ শতাংশ, জাতীয় গড়ের আড়াইগুণেরও বেশি। মোট বেকারত্বের মধ্যে বেকার যুবকদের সংখ্যা ৭৯.৬ শতাংশ। ২০১৯ সালের বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, প্রতি তিনজন স্নাতকের মধ্যে একজন বাংলাদেশে বেকার রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু সরকার সেই দিকে যথাযথ দৃষ্টি না দিয়ে বন্ধ্যা প্রবৃদ্ধি সৃষ্টিতে আগ্রহী। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও, কর্মসংস্থান সমস্যা সমাধানে তা সাফল্য দেখাতে পারেনি। যে উন্নয়ন পরিকল্পনায় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় না, তা যতই চকচকে হোক না কেন, প্রকারন্তরে তা ফাঁপা এবং সরকারের ব্যর্থতাকে আড়ালের অপকৌশল মাত্র।

গত বছর করোনার অভিঘাতে চাকরিচ্যুত হয়েছিলো শতকরা ৩৬ জন মানুষ। অনেকের চাকরি থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত বেতন-ভাতা পান নি। করোনা সংকটে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়েই বিপদগ্রস্ত আছে এখনো। কোভিড-১৯ এর কারণে নতুন করে দারিদ্র্য বাড়ছে। বিআইডিএস বলছে, নতুন ১ কোটি ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের কাতারে যুক্ত হয়েছে। অর্থনৈতিক কার্যকলাপ বন্ধ বা মন্দার কারণে জনগণের চাকরির ক্ষতি হচ্ছে, নিয়মিত বেতন না পাওয়া,ু কম বেতন পাওয়া বিশেষ করে বেসরকারী চাকুরিজীবীদের বেলায় এমনটি ঘটছে। অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ গ্রামে ফিরে গেছেন সময়ের সাথে তাল মেলাতে না পেরে। চাকরির বাজার হ্রাস পাবার কারণে অনেক তরুণকে হতাশার মধ্যে ফেলেছে। তরুণ চাকরি প্রত্যাশীদের জন্য নতুন স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে (নিউ নরমাল সিচুয়েশন) তীব্র উদ্বেগ এবং চাকরির বাজারে কোভিড-১৯ প্রভাব নিয়ে সময় আলোচনা করে সময় কাটাতে দেখা যায়।

আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এ জন্য আমাদের প্রয়োজন পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ প্রদান করা। আমাদের একটি গণমুখি এবং কর্মমুখি বাজেট প্রণয়ন করা জরুরি ছিল। কিন্তু সরকার সে পথে না গিয়ে মুষ্টিমেয় লুটেরা সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীেদরকে খুশি করতে হাস্যকর ও জবাবদিহিহীন একটি বাজেট প্রণয়ন করেছেন।

যুব ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম বলেন, করোনার প্রথম চার মাসেই বেকারত্ব বেড়েছিলো ১০ গুণ। আর্থিক সংকটে পড়া ৪৬ দশমিক ২২ শতাংশ পরিবার সঞ্চয় ভেঙে এবং ৪৩ শতাংশের বেশি পরিবার আত্মীয়স্বজনের সাহায্য-সহায়তার ওপর নির্ভর করে সংসার চালিয়েছে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা শ্রমবাজারের জন্য দক্ষ এবং প্রশিক্ষিত দক্ষ কর্মীদের চাহিদা মেটাতে সক্ষম নয়। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পড়াশোনা বিশেষ দক্ষতার অভাবে পড়াশুনা সম্পন্ন তরুণ-তরুণীদের চাকরির বাজারের চাহিদা মেটাতে পারছে না। কলেজের স্নাতকদের মধ্যে মাত্র ১৯ শতাংশই পূর্ণকালীন বা খণ্ডকালীন কর্মরত, প্রায় অর্ধেক বেকার রয়েছে। অধিকন্তু, যুব নারী গ্র্যাজুয়েটদের বেকার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি এবং স্নাতকোত্তর হওয়ার দুই বছর পরে দেখা গেছে নারী স্নাতকদের ৩৩ শতাংশ পুরুষ স্নাতকের বিপরীতে বেকার রয়েছেন বলে বিভন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুবকদের বেকারত্বকে অর্থনীতির একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি
আমাদের বিভিন্ন নীতিমালাগুলোতে। জাতীয় যুবনীতি ২০১৭ এ যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে যথেষ্ট মনোযোগ দেয়া হয়নি। নীতিমালায় তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হলেও কোন কার্যকর পরিকল্পনা নেই।

আমরা বেকারত্বের অভিশাপ দেখতে চাই না, আমরা যুবকদের হতাশ দেখতে চাই না, আমরা যুবকদের উদ্যোগী হিসেবে দেখতে চাই। তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি। এজন্য নতুন চাকুরি সৃষ্টি করা বা কর্মসংস্থানের উদোগ গ্রহণের জন্য বাজেটে একটি বিশেষ বরাদ্দ রাখা এখন সময়ের দাবি। বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিয়ে বিভিন্নভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য একটি কার্যকর উপায় বের করতে হবে।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *