সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা ও হয়রানি গণতন্ত্র ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার উপর নগ্ন হস্তক্ষেপ: আদিবাসী ফোরাম

প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে গতকাল সোমবার (১৭ মে) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিবের একান্ত সহকারীর কক্ষে প্রায় ৬ ঘন্টা আটকে রেখে হেনস্তা, হয়রানি মূলক মামলা দায়ের এবং জেলহাজতে প্রেরণের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ নিন্দা জানান আদিবাসী ফোরামের সাধারন সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং। এই ঘটনা গণতন্ত্র, গণমাধ্যম ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার উপর নগ্ন হস্তক্ষেপ বলেও দাবী করেছেন এই আদিবাসী নেতা।

সঞ্জীব দ্রং আরো বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে করোনার অতিমারীর মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নানা দুর্নীতি ও অনিময় নিয়ে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের ধারাবাহিক প্রতিবেদন জনগণের সামনে উন্মোচিত হওয়ায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে এই হয়রানির শিকার করা হচ্ছে। ফলে দুর্নীতিবাজ ও অসাধু কর্মকর্তা এবং তৎসংশ্লিষ্ট কতিপয় ব্যক্তিরা আরো উৎসাহিত হবে এবং এই ঘটনা রোজিনা ইসলামের মত জনবান্ধন অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সৎসাহস ও মনোবলকে আঘাত করবে।অবাধ তথ্য প্রবাহের যুগে তথ্য পাওয়ার অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের উপর যে নগ্ন হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে তা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আমলা কর্তৃত্বের প্রভাবকে নতুনভাবে মনে করিয়ে দেয়া হচ্ছে কী না এবং তার মাধ্যমে সমাজকে ভুল বার্তা দেওয়ার প্রয়াস চালানো হচ্ছে বলেও মনে করেন এই আদিবাসী নেতা।

রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের অন্যতম সহযোগী হিসাবে এবং সমাজের নানা অসঙ্গতিগুলোকে জনসম্মুখে প্রকাশের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা নিশ্চিত করণের যে কাজটি রোজিনা ইসলামের মত সাংবাদিকরা করে যাচ্ছেন তা এই ঘটনার মধ্য দিয়ে হোঁচট খাবে বলেও উল্লেখ করেন আদিবাসী ফোরামের সাধারন সম্পাদক। কাজেই সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা, হয়রানিমূলক মামলা ও জেল হাজতে প্রেরণ কেবলমাত্র রোজিনা ইসলামের উপর আঘাত নয় এটা মুক্ত গণমাধ্যম, গণতন্ত্র ও সুশাসনের পথেও অন্তরায় হবে।

তাই অনতিবিলম্বে এবং নিশর্তে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে জামিন দিয়ে মুক্ত করতে হবে এবং হয়রানি মূলক মামলা প্রত্যাহারের আহ্বানও জানান এই আদিবাসী নেতা। অন্যদিকে সাংবাদিক হেনস্তার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং এই হেনস্তা ও হয়রানির পেছনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোনো দুরভিসন্ধি আছে কী না তা সরকারকে খতিয়ে দেখারও আহ্বান জানান আদিবাসী ফোরামের সাধারন সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং।

উল্লেখ্য যে, পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গেলে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে সেখানে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়। একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ তাঁকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায়। রাত পৌনে ১২টার দিকে পুলিশ জানায়, রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা হয়েছে। তাঁকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এরপর আজ সকালে সাংবাদিক রোজিনাকে আদালতে তুলে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। তবে রিমান্ড ও জামিন নামঞ্জুর করে সাংবাদিক রোজিনাকে জেল হাজতে প্রেরণ করে আদালত। আগামী ২০ মে বৃহষ্পতিবার তাঁর জামিন শুনানির কথা রয়েছে।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *