রাঙ্গামাটির আনন্দ বিহারের দুর্লভ প্রজাতির ‘ভূদং’ বাঁশ বরিক পাউডার দিয়ে ধ্বংসের অভিযোগ

রাঙ্গামাটি শহরের তবলছড়ি এলাকায় অবস্থিত বৌদ্ধদের অন্যতম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আনন্দ বিহারের শোভা বর্ধনের জন্য বহু আগে রোপনকৃত দুর্লভ প্রজাতির ভূদং বাঁশ বরিক পাউডার দিয়ে ধ্বংস করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ বাঁশগুলোতে বরিক পাউডার দেয়া হয়েছে। ফলে বাঁশগুলো মরে যাচ্ছে।

উক্ত বিহারের বিহার অধ্যক্ষ শ্রীমৎ প্রজ্ঞানন্দ মহাস্থবির জানান, বাংলাদেশের বৌদ্ধদের কিংবদন্তীতুল্য ধর্মীয় গুরু প্রয়াত যবনাতিষ্য মহাস্থবির বিহারটির সৈন্দর্য বর্ধনের জন্য ১৯৭৮ সালের দিকে এই দুর্লভ প্রজাতির ভূদয় বাঁশ রোপন করেন।বিহারে আগত পূন্যার্থীরা এই সৈন্দর্য অবলোকন করে থাকেন।
তিনি আরো বলেন, এই বাঁশগুলো নির্মূল করার জন্য কে বা কারা ঘূন্য তৎপরতায় লিপ্ত রয়েছেন তা জানা নেই।এই বাঁশের গোড়ায় বরিক পাউডার দেওয়া হয়েছে। বাঁশের মাঝখানে ছিদ্র করে ইনজেকশনের মাধ্যমে বরিক পাউডার প্রবেশ করানো হয়েছে ।যার ফলে সামান্য বাতাসে বাঁশগুলো হেলে পড়ছে বৈদ্যুতিক তারের উপর। এতে দুর্ঘটনা ঘটারও সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, কয়েকমাস আগে বিহারের পাশ্ববর্তী বাসিন্দা যাত্রামোহন বড়ুয়া বাঁশের গোড়ায় বরিক পাউডার দিয়ে এই কাজটি করেছিলেন। এই কাজ অমার্জনীয় বলেও মনে করেন তিনি। এই বাঁশগুলোকে বাঁচানোর জন্য দক্ষ পরিবেশ বিজ্ঞানী ও কৃষিবিদের পরামর্শ ও সহায়তা কামনা করেছেন।

এদিকে বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি কাজল তালুকদার জানিয়েছেন, এই নিয়ে তারা জরুরী সভা ডেকেছেন গত শনিবার। শীঘ্রই এ বেপারে ব্যবস্থা নিবে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেকেই ক্ষোভ জানাচ্ছেন। সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি ও লেখক ইমতিয়াজ মাহমুদ তাঁর ফেসবুকের ওয়ালে প্রতিবাদ জানিয়ে লিখেছেন, এই বাঁশঝাড়গুলির সাথে একটা বৌদ্ধ বিহারের ঐতিহ্য জড়িত আছে। এই ঝাড়গুলি সেখানে এমনি এমনি হয়নি, বাইরে থেকে এই বিশেষ জাতের বাঁশগুলি এনে পরিকল্পনামাফিক সেখানে ঝাড় তৈরি করা হয়েছে। কেউ এটা ব্যক্তিগত স্বার্থে ধ্বংস করবে সেটা তো অপরাধ। আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবী জানান তিনি।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রাঙ্গামাটির বিশিষ্ট আইনজীবি ও মানবাধিকার কর্মী এডভোকেট সুস্মিতা চাকমা আইপিনিউজকে বলেন, এ বেপারে সংশ্লিষ্ট থানায় জিডি করা যেতে পারে। এই বাঁশগুলো বিহারের সৈন্দর্যকে বর্ধন করেছে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য উপকারী। তাছাড়া এগুলো খুবই দুর্লভ প্রজাতির। তথ্য প্রমাণ সাপেক্ষে আইনী পদক্ষেপ গ্রহন করা যেতে পারে বলেও মত দিয়েছেন তিনি।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *