সাতক্ষীরার হিমচাঁদ মুন্ডার বসতভিটা বেদখল করল একদল ভুমি দস্যু

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের বাসিন্দা হিমচাঁদ মুন্ডা নামের এক মুন্ডা আদিবাসীর বসতভিটা ভূমিদস্যুরা দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল (৮ এপ্রিল) বৃহস্পতিবার আনুমানিক সকাল ৯.০০ টায় একদল লোক এসে হিমচাঁদ মুন্ডার বসতবাড়ি দখল করেছে। হিমচাঁদ মুন্ডা দীর্ঘদিন প্যারালাইসড্ হয়ে বিছানায় পড়ে ছিলেন এবং গত ফেব্রুয়ারি মাসে মৃত্যুবরণ করেন। পুত্র সন্তানহীন এই ব্যক্তির মাত্র তিন জন মেয়ে সন্তান।উক্ত মেয়েদের সকলের অনেক আগেই বিবাহ হয় বলে জানা যায়।

জানা যায়, হিমুচাঁদ মুন্ডার জ্যেষ্ঠ কন্যা কল্যানী মুন্ডা তার অসুস্থ পিতামাতাকে দেখভাল করার দায়িত্ব নেয় এবং ৫/৭ বছর ধরে সেবা যত্ন করে আসছিলেন। মা’ মারা যায় ছয় বছর আগে এবং পিতা হিমচাঁদ মুন্ডা মারা যায় এবছরের ফেব্রুয়ারীতে। বাবা মারা যাওয়ার পর তাঁর কন্যা কল্যানী মুন্ডা তার বাবার ভিটায় শান্তিপূর্ণ ভাবে বসবাস করে আসছিলেন এবং তার পিতা হিমচাঁদ মুন্ডা ও আবাদ করা থেকে এখন অবধি শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয়রা আরো জানান যে, হিমচাঁদ মুন্ডা মারা যাওয়ার পরপরই ভুমি দস্যুরা কাগজপত্র নিয়ে হাজির হয় এবং তারা ভিটা বাড়ি দখল করে। এদিকে হিমচাঁদ মুন্ডার পিতা রাজু মুন্ডার ১৬ বিঘা জমি ছিল। রাজুর দুই ছেলে হিমচাঁদ মুন্ডা ও ফুলচাদঁ মুন্ডা। তাদের অধিকাংশ জমিজমা হযরত আলি, সুন্নত আলী গং’রা জাল দলিলের মাধমে খরিদ করেন মর্মে দখল করে নেন। এছাড়া বসতভিটা সংলগ্ন বিলান জমি থাকায় তারা বসতভিটা ছলচাতুরীর মাধ্যমে খরিদ করেন বলে কাগজ-কলমে দেখাচ্ছেন।

আরো জানা যায়, ফুলচাঁদ মুন্ডাকে কাগজপত্রে মেরে ফেলা হয়েছে এবং তার জমিজমা বড় ভাই হিমচাঁদ মুন্ডার মাধ্যমে ভুলবুঝিয়ে এবং জাল দলিল তৈরী করে হযরত আলী গং খরিদ করেন বলে জানান। যদিও বতর্মানে ফুলচাঁদ মুন্ডা ১১ জন ছেলেমেয়ে নিয়ে জীবনযাপন করছেন সাতক্ষীরার তালা উপজেলার বাকখালী গ্রামে।
এদিকে কল্যানী মুন্ডাকে তাঁর বাস্তুভিটা থেকে তাড়ানোর জন্য আগে থেকেই ভূমিদস্যুরা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে এবং হুমকি দিয়ে আসছে। সর্বশেষ গতকাল ভাড়াটিয়া লোক এনে তাঁর বসটভিটা দখল করা হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের তথ্যমতে জমি বেদখে যারা নেতৃত্বে ছিলেন তারা সবাই হযরত আলী গংয়ের ভাড়া করা লোক। তারা হলেন এরশাদ গাজী, মোসলেম উদ্দীন, আলতাপ উদ্দীনসহ আরও অনেকে।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *